Logo
Logo
×

রাজনীতি

কেউ কথা রাখেনি!

Icon

ফরিদ আহম্মেদ বাধন

প্রকাশ: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:০০ এএম

কেউ কথা রাখেনি!

কেউ কথা রাখেনি!

Swapno



জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হোসেন মুহাম্মদ এরশাদ থেকে বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার সাথে সখ্যতা ছিলো তাঁর।  ১৯৯৬ সালে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে সাংসদ নির্বাচিত হয়েছিলেন। ফতুল্লা শিল্পাঞ্চলে ছিলো তাঁর ব্যাপক প্রভাব। নাারয়ণগঞ্জের রাজনীতির অঙ্গনে তাকে অনেকে কিং ম্যাকার বলেও সম্বোধন করে থাকেন। দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠন এফবিসিসিআই’রও চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেছেন আলহাজ¦ মোহাম্মদ আলী।


দীর্ঘ বছর রাজনীতির মাঠের বাইরে থেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যাক্তিদের  অভিভাবক হিসেবেও তাঁর পরিচয় রয়েছে। এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু দল তাকে মনোনয়ন দেননি। অতঃপর তিনি বাংলাদেশ রিপাবলিকান দলের হয়ে নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করেন।


যদিও তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে পারতেন কিন্তু তিনি তা না করে একটি দলের হয়ে হাতী প্রতীকে নির্বাচনের মাঠে নামেন। আলী নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করবেন এমন কথা চাউর হওয়ার পর পরই ফতুল্লা অঞ্চলের বেশ কিছু  সযুবিধাবাধী লোক তাঁর পাশে ঘিয়ে ভিড়েন। তাকে আশ্বাস দেন নির্বাচনে তাকে জয়ের মালা উপহার দেবেন।


কিন্তু রাতে যারা মোহাম্মদ আলীর ডেরায় গিয়ে ভিড় জমিয়েছিলেন তারা মূলত আশ্বাসেই সীমাবদ্ধ ছিলেন। কিন্তু ভোটের মাঠে একাই ছিলেন মোহাম্মদ আলী। যা তিনি বুঝতেও পারেননি। পুরো ফতুল্লা অঞ্চলে যার প্রভাব রয়েছে সেই মোহাম্মদ আলী ১০ হাজারেরও বেশি কিছু বেশি ভোট পেয়েছেন। শেষ পর্যন্ত তাকে তাঁর জামানতও হারাতে হয়েছে।


ফতুল্লা শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে মোহাম্মদ আলীর অবদান রয়েছে। ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতা হিসেবে মোহাম্মদ আলীর সবার সাথে ছিলো সখ্যতা। সেই সাথে জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের নেতা হিসেবেও তাঁর পরিচিতি রয়েছে। এরশাদ সরকার থাকাবস্থায় ফতুল্লার ডিআইটি মাঠের একটি সভায় হোসাইন মোহাম্মদ এরশাদ নিজে মোহাম্মদ আলীকে নিজের ছোটো ভাই হিসেবে সবার সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন।


১৯৯১ সালে  মোহাম্মদ আলী টেবিল ঘড়ি প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। তবে সেই যাত্রায় তিনি জয় ছিনিয়ে আনতে পারেনি। ১৯৯৬ সালে বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার কাছ থেকে তিনি ধানের শীষ প্রতীক এনে নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করে জয়ের মালা পরেছিলেন। কিন্তু সেই সংসদ বেশিদিন স্থায়ী হয়নি।


২০০১ সালে বীর মুুক্তিযোদ্ধা গিয়াস উদ্দিনকে বিএনপিতে যোগদান করিয়ে মনোনয়নের ব্যবস্থাও করেছিলেন আলী। অপরদিকে ২০০৮ সালে বিএনপি থেকে ফতুল্লার আরেক শিল্পপতি শাহ আলমকে বিএনপির মনোনয়ন পাইয়ে দিতে মূল ভুমিকায় ছিলেন বলে কথা চাউর রয়েছে। ২০১৪ সালে শামীম ওসমান সাংসদ নির্বাচিত হওয়ার পর মোহাম্মদ আলীর উপর চাপ প্রয়োগ করেছিলেন।


আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে মোহাম্মদ আলী না জড়ালেও তিনি ওসমান পরিবারের সাথে সু সম্পর্ক বজায় রেখেই চলেছিলেন। ব্যবসায়ী হিসেবে সেলিম ওসামনের সাথেও ছিলো তার আরো অনেক গভীর সম্পর্ক। আর এ কারনে তাকে অনেকে ওসমান পরিবারের দোসর বলতেও দ্বিধা করেননি। ২০২৪ সালে আওয়ামীলীগ সরকারের পতনের পর নিজের অবস্থান পরিস্কার করতে চেষ্টাও করেছেন তিনি। তাঁর দাবী ছিলো, তিনি একজন ব্যবসায়ী হিসেবে সরকার দলের সাথে  সমন্বয় করেই কাজ করেছেন।তবে তিনি আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত হনননি বলেও দাবী করেছেন।


অবশেষে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হয়ে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোহাম্মদ আলী ধানের শীষ প্রতীকের মনোনয়ন চেয়েছিলেন। নাারয়ণগঞ্জ-৪ আসনের বিভিন্ন স্থানে ব্যানার, ফেস্টুন ও পোষ্টার করেছিলেন ধানের শীষ প্রতীকে ভোট চেয়ে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বিএনপি তাকে মনোনয়ন দেনননি। অবশেষে মোহাম্মদ আলী সদ্য নিবন্ধন পাওয়া বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির হয়ে হাতী প্রতীকে নিয়ে নির্বাচনের মাঠে নামেন।


মোহাম্মদ আলীর নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন এমন খবরে ফতুল্লা শিল্পাঞ্চলের বেশ কিছু মানুষ মোহাম্মদ আলীর পাশে দাঁড়ান। তবে তাদের মধ্যে বেশির ভাগই ছিলো সুবিধাবাদী। যা মোহাম্মদ আলী তাঁর ৮১ বছর বয়সেও বুঝতে পারেনি। দিনের আলোতে খেজুর গাছ প্রতীকের সাথে দেখা করে, সন্ধ্যায় শাহ আলম আর রাতে মোহাম্মদ আলীর ডেরায় ভিড় জমাতেন সেই সমস্ত দুধের মাছিরা মোহাম্মদ আলীকে কথা দিয়েছিলেন পাশে থাকার।


অপরিদকে ফতুল্লার বক্তাবলী,আলীরটেকে যে মোহাম্মদ  আলীর ভোট ব্যাংক মনে করা হতো সেখানেও মোহাম্মদ আলীর ভরাডুবি হয়েছে। যেই বক্তাবলী ও আলীরটেকে বিদুৎ ও সড়কের কাজ সাংসদ না হয়েও মোহাম্মদ আলীর বরাতে হয়েছিলো এবারের নির্বাচনে সেই অঞ্চলেও তিনি যে ভোট পেয়েছেন তা লজ্জা জনক বলে মনে করছে অনেকে। বিএনপি থেকে বহিস্কার হওয়া শাহ আলম ও গিয়াস উদ্দিন যদি নির্বাচনের আগে মোহাম্মদ আলীকে সমর্থণ করতেন তাহলেও মোহাম্মদ আলী জয় ছিনিয়ে আনতে পারতেন কিনা এ নিয়েও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে জুড়ে চলছে নানা আলোচনা।


নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের বেশ কিছু মানুষ জানান,মোহাম্মদ আলী  সাংসদ না হয়েও তিনি বিভিন্ন এলাকার উন্নয়ে সাহয্যেরে হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন। ভোটের মাঠে জয় পরাজয় থাকবেই। বিএনপির মতো একটি বড় দলের প্রার্থীর সাথে কুলিয়ে উঠা কষ্ট হবে এটা মোহাম্মদ আলীও জানতেন। তবে জামানত হারানোর মতো ভোট পাাবেন এটা কোনোভাবেই  তিনিসহ অনেকেই মেনে নিতে পারেনি।বিশেষ করে আলীরটেক,বক্তাবলী,গোগনগর ও ফতুল্লা অঞ্চলের মানুষ মোহাম্মদ আলীকে রাতের বেলা যে কথা দিয়েছিলেন দিনের বেলা সেই কথা রাখেননি কেউ।  

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন