Logo
Logo
×

রাজনীতি

না.গঞ্জের ‘কপাল দোষ’

Icon

ফরিদ আহম্মেদ বাধন

প্রকাশ: ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:০০ এএম

না.গঞ্জের ‘কপাল দোষ’

না.গঞ্জের ‘কপাল দোষ’

Swapno

কপাল বা ভাগ্য নিয়ে মানুষের মনে আক্ষেপের অন্ত নেই। কপাল নিয়ে বাংলায় অনেক প্রবাদ প্রবচন রয়েছে। কপাল সহায় হওয়া মানে ভাগ্য প্রসন হওয়া। তবে নারায়ণগঞ্জ জেলা বা এই জেলাবাসীর বেলায় কপাল খুব কমই প্রসন্ন হয়েছে। হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের সময় এমএ সাত্তার প্রথম শ্রম ও জনশক্তি মন্ত্রী হয়েছিলেন। ১৯৯১ সালে বিএনপি সরকারের সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হয়েছিলেন আব্দুল মতিন চৌধূরী,২০০১ সালে বিএনপি ক্ষতায় আসলে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হয়েছিলেন অধ্যাপক রেজাউল করিম। ১৯৯৬, ২০০৮,২০১৪ সাল পর্যন্ত আওয়ামীলীগ সরকারের সময় কাউকেই মন্ত্রীত্ব দেয়নি। তবে ২০১৮ সালে নারায়ণগঞ্জ থেকে গোলাম দস্তগীর গাজীকে পাট ও বস্ত্র মন্ত্রী করা হয়। এবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ২১২ টি আসনে পেয়ে সংখ্যাগোরিষ্ঠ আসন নিয়ে সরকার গঠন করেছে। কিন্তু কপালে এবার আর মন্ত্রীত্ব পাননি কেউ। অনেকে আশায় বুক বেঁধেছিলেন এবার বিএনপি বা জামাত যে দলই ক্ষমতায় আসুক না কেনো নারায়ণগঞ্জ থেকে কেউ হয়তো মন্ত্রীত্ব পাবেন। কিন্তু না,এখনো পর্যন্ত কেউ মন্ত্রীত্বের আশ্বাস পাননি বা মন্ত্রী করাও হয়নি।  আর এ অবস্থাকে কপাল দোষ বলে মনে করেন অনেকে।



দেশের যে কোন বৃহৎ রাজনৈতিক দলের আন্দোলন সংগ্রামে নারায়ণগঞ্জ জেলার গুরুত্বপূর্ন অবদান থাকার পরও এই জেলাটি সব সময় থাকে অবহেলিত। দেশের  রাজস্বে এই জেলার বিশেষ অবদান থাকলেও জনপদ থাকে উন্নয়ন বঞ্চিত ও মন্ত্রীত্ব বিহীন। জাতীয় পার্টির হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের হাত ধরে সর্ব প্রথম এই নারয়ণগঞ্জ মন্ত্রীত্ব পেয়েছিলেন এম এ সাত্তার। ১৯৮৫ সালে এরশাদের মন্ত্রী সভায় স্থান পেয়েছিলেন তিনি। যদিও তাঁর জন্মস্থান ছিলো রংপুরে। ব্যবসা বানিজ্যের সূত্র ও রাজনৈতিক কর্মকান্ড ছিলো নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীক। নারায়ণগঞ্জের মাসদাইরে রংপুর হাউজ নামে তাঁর বাড়িও ছিলো। পরবর্তীতে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে ১৯৯১ সালে তিনি প্রার্থী হয়ে পরাজয় বরণ করেছিলেন। ১৯৯১ সালে বিএনপি সরকার গঠন করে। সেই সময় বিএনপি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী করেছিলেন রুপগঞ্জের আব্দুল মতিন চৌধুরী। ১৯৭৫ সালের দীর্ঘ সময় পর ১৯৯৬ সালে আওয়ামীলীগ সরকার গঠন করে। তবে দীর্ঘ বছর পর আওয়ামীলীগ ক্ষমতার স্বাদ গ্রহণ করলেও সেই সময় আওয়ামীলীগ নারায়ণগঞ্জ জেলা থেকে কাউকে মন্ত্রীত্ব দেয়নি। ২০০১ সালে বিএনপি পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর  সোনারগাঁয়ের রেজাউল করিমকে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী করা হয়েছিলো। ২০০৮ সালে আওয়ামীলীগ ফের সরকার গঠন করে কিন্তু কাউকে মন্ত্রী করা হয়নি। টানা ১৬ বছর ক্ষমতায় থাকা আওয়ামীলীগ ২০১৮ সালে রুপগঞ্জ থেকে গোলাম দস্তগীর গাজীকে পাট ও বস্ত্র মন্ত্রী করেন। তবে বিএনপির চাইতে আওয়ামীলীগ সরকারের সময় মন্ত্রী দেয়ার প্রশ্নে বরাবরের মতো অবহেলিত ছিলো  নারায়ণগঞ্জ। দীর্ঘ বছর ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপি ২০২৬ সালে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জণ করেন ২১২টি আসনে জয়লাভ করেন। এবার নারায়ণগঞ্জবাসী আশা করেছিলেন নয়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মন্ত্রীর বহরে নারায়ণগঞ্জ থেকে মন্ত্রী করা হবে। নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনের মধ্যে ৪টিতে বিএনপি প্রার্থী জয়লাভ করেছেন। এর মধ্যে অনেকেই ধারণা করেছিলেন অ্যাড.আবুল কালাম অথবা নজরুল ইসলাম আজাদকে মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী করা হবে। কিন্তু না,শেষ পর্যন্ত প্রথম প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মন্ত্রী বহরে নারায়ণগঞ্জের কাউকে রাখা হয়নি।



স্বাধীনতা পরবর্তী আওয়ামীলীগ বা বিএনপির সময়ে মন্ত্রীত্বে বা উন্নয়ের ব্যাপারে বঞ্চিত হয়ে আসছে।শিল্প,সাহিত্য,রাজনীতি এবং অর্থনীতিতে অবদান রাখা নারায়ণগঞ্জবাসীর কপাল সব সময়ই পোড়া থাকে বলে মন্তব্য অনেক নাগরিকের। রাজধানীর পার্শ্ববর্তী নারায়ণগঞ্জ বৈষম্যের শিকার থেকে কবে মুক্তি পাবে এনিয়েও শংকা থেকেই যাবে।  




Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন