মাহে রমজানে দুর্ভোগে পড়বে নগরবাসী
যৃুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:০০ এএম
মাহে রমজানে দুর্ভোগে পড়বে নগরবাসী
নারায়ণগঞ্জ শহরে যানজট এখন নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে উঠেছেন। এরই সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ফুটপাত দখল ও সড়কের ওপর অস্থায়ী দোকান বসানোর প্রবণতা। সামনে পবিত্র রমজান মাস। নগরবাসীর আশঙ্কা এ সময়তে সিটি কপোরেশনের ধীরগতিতে অটোরিকশা ও হকারদের দৌরাত্ম্য আরও বাড়বে, ফলে চাষাড়া থেকে শুরু করে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে চরম ভোগান্তি নেমে আসতে পারে। তা ছাড়া শহরজুড়ে ডিপ ড্রেনেজ প্রকল্পের কাজ চলমান থাকায় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক কেটে রাখা হয়েছে, যা যান চলাচলকে আরও কঠিন করে তুলছে। যাকে ঘিরে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত শহরের প্রধান সড়কগুলোতে যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যাচ্ছে। এর ফলে রমজানে অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী এবং রোজাদারদের ভোগান্তি পোহাতে হবে। ইফতারের আগের সময়টায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে আশংকা সাধারণ মানুষের। এদিকে বিগত দিনে পবিত্র রমজান মাসে নগরবাসীকে যানজটের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি দিতে জেলা পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাড়তি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এ কে এম সেলিম ওসমানের উদ্যোগে জেলা পুলিশকে ১০ লাখ টাকা করে অনুদান দেয়া হতো। যাকে ঘিরে বারতি ব্যবস্থায় কিছুটা হলে ও স্বস্তি¡ মিলতো। একই সাথে পটপরিবর্তনের পরবর্তী রমজানে বিকেএমই‘এ ও চেম্বার অব কমার্সের উদ্যোগে বারতি ব্যবস্থা গ্রহণে বিশাল অংকের টাকা অনুদান দেওয়া হয়েছিলো। একই সাথে ছাত্ররা মাঠে থেকে সর্বদা যানজটমুক্ত রেখেছিলো নগরীকে। এবার বিএনপির সরকার এই য়ানজট নিরসনে এখনো কোন পদক্ষেপ নেয়নি। তা ছাড়া নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে সাংসদ সদস্য এড. আবুল কালামের পক্ষ থেকে এখনো যাটজট ঘিরে কোন পদক্ষেপ এখনো আসেনি। যাকে ঘিরে চিন্তিত নগরবাসী, তা ছাড়া রমজানে নগরবাসীকে য়ানজটমুক্ত নগরী উপহার দেওয়া নব-নির্বাচিত সাংসদ সদস্যর সাছে চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, জেলা প্রশাসন ও সিটি করপোরেশন যৌথভাবে একাধিকবার অভিযান চালালেও পরিস্থিতির স্থায়ী সমাধান হয়নি। অভিযানের সময় কিছুদিন শৃঙ্খলা ফিরলেও কয়েক দিনের মধ্যেই ফের দখলদারিত্ব শুরু হয়। বিশেষ করে বিকেলের দিকে চাষাড়া, ২নং রেলগেট, বঙ্গবন্ধু সড়ক ও আশপাশের এলাকায় হকারদের ভিড় বাড়তে থাকে। ক্রেতাদের জটলা এবং অটোরিকশার অবৈধ পার্কিং মিলিয়ে যানজট ভয়াবহ আকার ধারণ করে। রমজান মাসে ইফতার সামগ্রী ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের চাহিদা বাড়ে। এ সুযোগে হকারদের সংখ্যা কয়েকগুণ বেড়ে যায় বলে জানান স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। বিকেলের পর থেকে ইফতারির বাজারকে কেন্দ্র করে সড়কের বড় অংশ দখল হয়ে যায়। এতে অ্যাম্বুলেন্স, স্কুলগামী শিক্ষার্থী বা জরুরি প্রয়োজনে বের হওয়া মানুষের দুর্ভোগ চরমে ওঠে।
পথচারীরা জানান, ভিড়ের মধ্যে প্রায়ই মোবাইল ও মানিব্যাগ ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। ঈদ ঘনিয়ে এলে এমন অপরাধের প্রবণতা আরও বাড়ে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী উপস্থিত থাকলেও ভিড়ের সুযোগে অপরাধীরা দ্রুত সরে পড়ে। শুধু হকার নয়, সিএনজি অটোরিকশার অবাধ স্ট্যান্ডও যানজটের বড় কারণ । নির্ধারিত স্ট্যান্ড উপেক্ষা করে চালকেরা যাত্রী পাওয়ার আশায় মোড়ের কাছাকাছি সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকেন। এতে সড়কের অর্ধেক জায়গা দখল হয়ে যায়। অনেক সময় যাত্রী তোলানামার জন্য মাঝরাস্তায় গাড়ি থামানো হয়, যা যান চলাচলে আরও বিঘ্ন সৃষ্টি করে। জেলা প্রশাসনের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে অবৈধ দখল উচ্ছেদ করা হচ্ছে। তবে জনবল সংকট ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অভাবে স্থায়ী সমাধান কঠিন হয়ে পড়ছে। রমজানের আগে সমন্বিত পরিকল্পনা না নিলে ভোগান্তি বাড়বে বলেও তারা আশঙ্কা করছেন। শহরবাসীর দাবি, নিয়মিত অভিযান, সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং ফুটপাত পথচারীদের জন্য উন্মুক্ত রাখা এখন সময়ের দাবি। রমজানের মতো সংবেদনশীল সময়ে যানজট ও বিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের ‘হার্ডলাইন' অবস্থান জরুরি বলে মনে করছেন অনেকে। সচেতন মহলের মতে, আইন প্রয়োগের ধারাবাহিকতা ও রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলে নারায়ণগঞ্জ শহরকে দখল ও যানজটমুক্ত রাখা সম্ভব। অন্যথায় রমজানজুড়ে চরম দুর্ভোগই হবে নগরবাসীর নিত্যসঙ্গী। তা ছাড়া এবার নির্বাচনী নানা আয়োজনকে ঘিরে আগামী মাহে রমজানে নগরবাসীকে স্বস্তি¡তে রাখতে কোন পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে না যা বড় দুর্ভোগ সৃষ্টি করতে পারে নগরীতে।


