নজর জেলা-মহানগর বিএনপির কমিটিতে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভূমিধ্বস বিজয়ের মধ্য দিয়ে সরকার গঠন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। ভূমিধ্বস বিজয় সারাদেশে হলে ও নারায়ণগঞ্জে বিএনপির নাজেহাল অবস্থা উপস্থাপন হয়েছে। জেলার আওতাধীন ফতুল্লায় বিপুল ভোটে পরাজিত হয়েছেন বিএনপির জোট প্রার্থী মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী ও সিদ্ধিরগঞ্জে পরাজিত হয়েছেন বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নান। তা ছাড়া সোনারগাঁওয়ের ভোটে ও বিএনপির গ্রহণযোগ্যতা ছিলো না। এর বাহিরে রূপগঞ্জ-আড়াইহাজারেও অপিরিচিত জামায়াতের মনোনীত প্রার্থীদের সঙ্গে বিএনপির পরিচিত প্রার্থীদের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করতে হয়েছে। এদিকে বিএনপির অবস্থানকে ঘিরে জেলা জুড়ে চলছে সমালোচনা।
এদিকে নারায়ণগঞ্জ মহানগরের আওতাধীন সদর-বন্দরে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী প্রবীন পরিচিতি মুখ এড. আবুল কালামকে হাঁপিয়ে তুলেছিলেন কিছুদিন যাবৎ মাঠে সক্রিয় থাকা শিক্ষক ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী খেলাফত মজলিসের সিরাজুল মামুন। বিপুল ভোট পেয়ে ও শেষ পর্যন্ত অল্প কিছু ভোটে বিএনপির প্রার্থীর সঙ্গে পরাজিত হয়েছে তাকে। বিএনপির এই ভূমিধ্বস বিজয়ে ও কলঙ্কের দাগ লাগানো জেলা ও মহানগর বিএনপির কমিটিকে পূর্ণগঠনের দাবি উঠছে একই সাথে থানা ও ওয়ার্ড কমিটি দ্রুত ভেঙে গঠনের পরিকল্পনা ও ইতিমধ্যে চলমান রয়েছে বলে জানা গেছে। তা ছাড়া দীর্ঘ রাজনৈতিক অস্থিরতা, দমন-পীড়ন ও আন্দোলন-সংগ্রামের পর এ বিজয় দলটির জন্য যেমন ঐতিহাসিক, তেমনি চ্যালেঞ্জপূর্ণও। বিজয়ের উচ্ছ্বাসে দেশজুড়ে যখন নেতাকর্মীরা আনন্দে ভাসছেন, ঠিক তখনই মাঠপর্যায়ের অনেকেই মনে করিয়ে দিচ্ছেন-ক্ষমতায় আসাই শেষ কথা নয়, সংগঠনকে টেকসই ও কার্যকর করা এখন সবচেয়ে বড় কাজ। প্রাচ্যেরডান্ডি নারায়ণগঞ্জে বিএনপি'র সাংগঠনিক অবকাঠামোকে মজবুত করতে হবে। প্রচন্ড জনপ্রিয়তা ও জনসমর্থনের জন্য এবারের নির্বাচনে দলের দুর্বলতা বোঝা যায়নি। কিন্তু এখন নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর কমিটিসহ সকল অঙ্গদলের কমিটি গঠন করা জরুরী বলে মনে করছেন দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা।
শিল্পনগরী ও রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর জেলা হিসেবে পরিচিত নারায়ণগঞ্জে এই বাস্তবতা আরও স্পষ্ট। স্থানীয় নেতাকর্মীদের মতে, নির্বাচনের জোয়ারে সাংগঠনিক দুর্বলতা ধরা না পড়লেও ভবিষ্যতের জন্য শক্ত ভিত গড়া জরুরি। জেলা ও মহানগর বিএনপির থানা-ওয়ার্ড ও পূর্ণাঙ্গ কমিটি, অঙ্গসংগঠনের কমিটি দ্রুত গঠন না হলে সৃষ্ট শূন্যতা ভবিষ্যতে জটিলতার কারণ হতে পারে। দীর্ঘ সময় বিরোধী দলে থাকার পর বিএনপির এ বিজয় দলীয় নেতাকর্মীদের জন্য স্বস্তি ও গর্বের। এদিকে নির্বাচনের পর এবার টার্গেট হয়ে উঠলো জেলা বিএনপির কমিটি। দ্রুত শক্তিশালী কমিটি গঠনে উঠছে আলোচনা।
এদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে দলীয় কোন্দল, গ্রুপিং ও কমিটি নিয়ে অসন্তোষ থাকলেও নির্বাচনী প্রতির সময় তা চাপা পড়ে যায়। এখন প্রশ্ন উঠে বিজয়ের পর কি সেই পুরনো দ্বন্দ্ব আবার মাথাচাড়া দেবে। তা ছাড়া বর্তমানে ফতুল্লায় বিএনপির সাংগঠনিক কাঠামো দুর্বল থাকায় এই আসনে বিএনপির বিশাল পরাজয় লক্ষ্য করা গেছে। তা ছাড়া সিদ্ধিরগঞ্জে ৬ হাজার ভোটে বিএনপি প্রার্থী পরাজয় লক্ষ্য করা গেছে। মহানগরের কলাগাছিয়াসহ বিভিন্ন ইউনিয়ন এবং শহরের বিভিন্ন কেন্দ্রে বিএনপির পরাজয় লক্ষ্য করা গেছে। যাকে ঘিরে টার্গেটে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির রাজনীতি। নেতাকর্মীরা বলছেন, নির্বাচনের আগে আমরা সবাই এক ছিলাম। কিন্তু এখন যদি দ্রুত সাংগঠনিক কাঠামো গুছিয়ে নেওয়া না হয়, তাহলে ভেতরের টানাপোড়েন সামনে চলে আসবে। জেলা বিএনপির বর্তমান কাঠামো অনেকাংশেই আংশিক ও ভারপ্রাপ্ত নেতৃত্বনির্ভর। মহানগর কমিটিতেও দীর্ঘদিন ধরে পূর্ণাঙ্গ রূপ নেই। থানা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে বহু স্থানে আহ্বায়ক কমিটি বা পুরনো কমিটি দিয়ে কার্যক্রম চলছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সরকারে থাকা অবস্থায় সংগঠনকে শক্তিশালী করা যেমন সহজ, তেমনি অবহেলা করলে তা দ্রুত দুর্বলও হয়ে পড়ে। প্রশাসনিক প্রভাব ও ক্ষমতার কেন্দ্রিকতা দলীয় শৃঙ্খলায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই এখনই সাংগঠনিক পুনর্গঠন জরুরি।
২০২৫ সালের (২ ফেব্রুয়ারি) বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির ৫ সদস্য বিশিষ্ট আংশিক সুপার ফাইভ কমিটি গঠিত হয়। কমিটিতে আহ্বায়কের দায়িত্ব দেওয়া হয় বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য অধ্যাপক মামুন মাহমুদকে ও ১নং যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান দিপু ভুঁইয়া, যুগ্ম আহ্বায়ক মাশুকুল ইসলাম রাজীব, শরীফ আহমেদ টুটুল এবং সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে সদ্য সাবেক কমিটির সভাপতি মো. গিয়াস উদ্দিনকে। এর ফলে জেলা বিএনপির নেতাকর্মীদের মাঝে উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়। এদিকে জেলা বিএনপির কমিটিতে আরো গতিশীল করতে গত (১০ ফেব্রুয়ারী) নির্দেশনা দেয়া হয়েছে কেন্দ্র থেকে।
এতে বলা হয়েছিল, সাত দিনের মধ্যে জেলা বিএনপির ৩১ সদস্যের একটি আহবায়ক কমিটির তালিকা প্রস্তুত করে কেন্দ্রীয় দফতরে জমা দিতে হবে। সেদিকে লক্ষ্য রেখে (২৬ ফেব্রুয়ারীর) মধ্যে দফতরে তালিকাটি জমা দেওয়ার তারিখ রয়েছে। এদিকে সারাদেশের ন্যায় নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি কেন্দ্রীয় ঘোষিত নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, দ্রুত নির্বাচনী রোডম্যাপ ঘোষণা ও ফ্যাসিবাদ মোকাবিলার দাবিতে জনসমাবেশের তারিখ ঘোষণা পরেন (২৫ ফেব্রুয়ারী) যা জেলা বিএনপির নতুন কমিটি চ্যালেঞ্জ হিসেবেই দেখা গিয়েছিলো। পরবতীতে জেলা বিএনপির ৩৩ সদস্য বিশিষ্ট উন্নতি কমিটি গঠন করলে ও তা হয়নি শক্তিশালী। তা বর্তমানে প্রায় পুরোই দুর্বলতায়। একই সাথে ২০২২ সালের ১৩ সেপ্টম্বর মহানগর বিএনপিতে এড. সাখাওয়াত হোসেন খানকে আহ্বায়ক ও এড. আবু আল ইউসুফ খান টিপুকে সদস্য সচিব করে ৪১ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি গঠন করলে ও তা দীর্ঘদিনে দেখা পারেনি কোন চমক। বর্তমানে ত্রয়োদশ নির্বাচনে এই জেলা ও মহানগর বিএনপিকে চমকপ্রদ রেজাল্ট দিতে পারেনি। যাকে ঘিরে এর ফল ভোগ করেতে হতে পারে দ্রুতই।


