Logo
Logo
×

রাজনীতি

ভেঙে পড়েছে ফতুল্লা থানা বিএনপির চেইন অব কমান্ড

Icon

যৃুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:০০ এএম

ভেঙে পড়েছে ফতুল্লা থানা বিএনপির চেইন অব কমান্ড

ভেঙে পড়েছে ফতুল্লা থানা বিএনপির চেইন অব কমান্ড

Swapno

বিএনপি অধ্যুষিত ফতুল্লা থানা অঞ্চলে বিএনপির নেতৃবৃন্দের জনপ্রিয়তা ধরে রাখাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করা হচ্ছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হয়ে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জোটের প্রার্থীর পক্ষে জয় ছিনিয়ে আনার লক্ষ্যে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমান্ড বহিস্কৃত থানা বিএনপি সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধূরী ও কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুল আলম সেন্টুর বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহার করে। দলীয় পদ ফিরে পেয়ে জাতীয় নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী মনির হোসেন কাশেমীর জন্য দিনরাত পরিশ্রম করেছিলেন রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধূরী। এরমধ্যে মনিরুল সেন্টুর বহিস্কারাদেশ একবার প্রত্যাহার করে পুনরায় বহিস্কার আবার বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয় মূলত কুবুতবপুরের ভোট ব্যাংক উদ্ধার করতেই। কিন্তু জনপ্রিয়তার তুঙ্গে থাকা মনিরুল আলম সেন্টু তার ইউনিয়নে জোটের প্রার্থীর জন্য কোনো কারিশমা দেখাতে পারেনিননি।


অপরদিকে ফতুল্লা,কাশিপুর ও এনায়েতনগর ইউনিয়নেও একই অবস্থা। এতে করে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে জোটের প্রার্থী কাশেমী বিএনপির কেউ নয়,তবে ফতুল্লার হেভিওয়েট নেতাদের জনপ্রিয়তার ধ্বসের কারনেই জোটের প্রার্থী জয়ের মালা পড়তে পারেনি। ফতুল্লা থানা বিএনপি যেখানে ১৭ বছর পর চেইন অব কমান্ডে থাকার কথা,সেখানে থানা বিএনপির নেতাদের কেয়ার না করে বিভিন্ন ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতারা কাজ করেছেন স্বতন্ত্র বিদ্রোহী প্রার্থীর হয়ে। যদি দলকে গুছানো না হয়, তাহলে ফতুল্লা থানা বিএনপি নেতাদের  চেইন অব কমান্ড ভবিষৎতে কর্মীরা মানবেন কিনা এ নিয়েও দেখা দিয়েছে শংকা।
স্বাধীনতা পরবর্তী সময় থেকেই ফতুল্লা থানা বিএনপি একটি সুসংগঠিত দল হিসেবে পরিচিতি ছিলো। দীর্ঘ ১৭ বছর ফতুল্লা থানা বিএনপির  হেভিওয়েট নেতারা আওয়ামীলীগ সরকারের নির্যাতন, নিপীড়ন, হামলা, মামলা ও গুমের শিকার হয়েছেন। তবুও তারা রাজপথ ছাড়েনি। দলীয় কমান্ড মেনে ফতুল্লা থানা বিএনপি ও অঙ্গদল নেতৃবৃন্দ বিভিন্ন সভা সেমিনারে অংশ গ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এসে দেখা গেলো ভিন্ন চিত্র। যদিও দল থেকে অনেকেই মনোনয়ন চেয়েছিলেন। তবে বিএনপি জোটবদ্ধ থাকার কারনে জমিয়তে ওলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের প্রার্থী,মুফতি মনির হোসেন কাশেমীর জন্য নাারয়ণগঘ¦জ-৪ আসনটি ছাড়তে বাধ্য হয়। আর এর পরেই চিত্র অনেকটা পাল্টে যায়। বিএনপির কেন্দ্রীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য(বর্তমানে বহিস্কৃত) শিল্পপতি শাহ আলম ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক সাংসদ (বহিস্কৃত)আলহাজ্ব গিয়াস উদ্দিন,দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বিদ্রোহ করেন।


 তবে দল তাদের দুইজনকে ডেকে কেন্দ্র ইচ্ছে করলে হয়তো নির্বাচন থেকে সরে দাড়ানোর নির্দেশ দিতে পারতেন বলেও মনে করছেন বিএনপি নেতৃবৃন্দ। কিন্তু না, দল সে উদ্যোগ নেননি। ফলে জোটের প্রার্থীকে জয়ী করে আনার ব্যাপারে ফতুল্লা থানা বিএনিপর নেতাদের উপর চ্যালেঞ্জিং হয়ে পরে। চাউর রয়েছে বিএনপি হাই কমান্ড দল থেকে বহিস্কার হওয়া রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধূরীর বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহার করেন ফতুল্লায় কাশেমীর জয়ের ব্যাপারে যাতে ভুমিকা রাখতে পারে। অপরদিকে বিপুল ভোটার সমৃদ্ধ কুতুবপুরের চেয়ারম্যান মনিরুল আলম সেন্টুর বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহার করে নিয়ে দলের জন্য কাজ করার পরিবেশ সৃষ্টি করে দেয়। তবে বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহারের পর রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধূরী আঁটঘাট বেঁধে মাঠে  নেমে ফতুল্লার বিভিন্ন  এলাকা সভা সেমিসনারে অংশ নেয়। কাজ করেন জোটের প্রার্থীর জয়ের ব্যাপারে। সেন্টুও নীরবে চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু তিনি তা পারেননি। থেমে থাকেনি ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি শহিদুল ইসলাম টিটু,সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল আমিন শিকদার,জেলা যুব দলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনিও। কিন্তু থানা বিএনপির নেতাদের কমান্ডের বাইরে গিয়ে,বিভিন্ন ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন বিএনপির নেতৃবৃন্দ বিদ্রোহী প্রার্থীদের পক্ষে প্রকাশ্যে কাজ করেন। তাদের বিরুদ্ধে দল কঠিন শাস্তির ব্যবস্থা করতে পারেন জেনেই তারা বিদ্রোহীদের পক্ষে কাজ করেছেন। এতে করে ফতুল্লা থানা বিএনপির চেইন অব কমান্ড যে তলানীতে গিয়ে ঠেকেছে তা প্রমান করে বলে দাবী ফতুল্লার বিএনপি কর্মীদের।

এব্যাপারে ফতুল্লা থানা বিএনপির বেশ কয়েকজন নেতা বলেন, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের মতো একটি গুরুত্বপূর্ন আসনে দলের ত্যাগী নেতাদের পক্ষ থেকে দলীয় মনোনয়ন দেয়া হতো,তাহলে এই আসনটি কোনোভাবেই হাত ছাড়া হতো না। দলীয় প্রার্থী আর দলীয় প্রতীক ধানের শীষ না থাকয় বিদ্রোহীরা সুযোগটি নিয়েছে। বিভিন্ন ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন  নেতৃবৃন্দও একই সুযোগ নিয়েছে। কিন্তু তারা মনে করেননি, দল থেকে যাকে যাকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে তিনি জয়ী হলে দল জয়ী হবে, জয়ী হবে তারেক জিয়া। তাই তারা ভুল পথে হেঁটেছেন। তাদের বিরুদ্ধে দল ব্যবস্থা নেবে। তবে ফতুল্লা থানা বিএনপিতে নতুন নেতৃত্ব আসলে বিভিন্ন  ওয়ার্ড ও ইউনিয়নে বিএনপি পুনরায় শক্তিশালী অবস্থানে থাকবে বলেও তারা মনে করেন।

এব্যাপারে ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি শহিদুল ইসলাম টিটু বলেন, ফতুল্লা থানা বিএনপিতে কোনো বিভক্তি আছে বলে মনে করি না। অপরদিকে  চেইন অব কমান্ড ঠিকই আছে। নির্বাচনে বেশ কিছু ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন নেতা বিদ্রোহী প্রার্থীর হয়ে কাজ করেছেন। দল এব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে। শিঘ্রই দলকে গুছিয়ে নিয়ে তারেক রহমানের হাতকে ভবিষৎতের জন্য শক্তিশালী করার জন্য যা যা করা লাগে তা-ই করা হবে।  
     

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন