Logo
Logo
×

রাজনীতি

শহর-শহরতলীর চাঁদাবাজি নিরসনে কতটা সফল হবেন নবীন-প্রবীণের জুটি

Icon

লতিফ রানা

প্রকাশ: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:০০ এএম

শহর-শহরতলীর চাঁদাবাজি নিরসনে  কতটা সফল হবেন নবীন-প্রবীণের জুটি

শহর-শহরতলীর চাঁদাবাজি নিরসনে কতটা সফল হবেন নবীন-প্রবীণের জুটি

Swapno

নারায়ণগঞ্জ বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ জেলা। দেশের অর্থনীতি, রাজনীতিতে সরাসরি ভূমিকা রাখাসহ অন্যান্য জেলার ব্যবসা ও বাণিজ্যে যোগাযোগের হাব বা জাংশান হিসেবে দেশের গন্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পরিচিতি লাভ করেছে সেই মোগল আমল থেকেই। ব্রিটিশ শাসনামলে নারায়ণগঞ্জ শহর প্রাচ্যের ড্যান্ডি হিসেবে খ্যাতি লাভ করে। আর যেই শহরকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জ দেশ-বিদেশে পরিচিতি পেয়েছে, বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে সম্মান অর্জন করেছে সেই নগরীই আজ দেশের সবচেয়ে অবহেলিত এবং অপরাধের অভয়ারন্যে পরিণত হয়েছে। সেই অপরাধ প্রবণতার মধ্যে চাঁদাবাজি একটি মহামারি হিসেবে এই নগরীর উন্নয়ন থমকে দাঁড়িয়েছে। তাই এই নারায়ণগঞ্জ শহরকে কেন্দ্র করে যে দুইজন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন তাদের কাছে জনগণের প্রত্যাশা আকাশচুম্বী। যাকে বলা হয় নবীন-প্রবীণের জুটি। এরা হলেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের প্রবীণ এবং চারবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম এবং নবীন হিসেবে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে প্রথমবারের মতো নির্বাচিত সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল আমিন। তাই নারায়ণগঞ্জ শহর কেন্দ্রীক বিভিন্ন মাধ্যম থেকে চাঁদাবাজি বন্ধে এই দুই সাংসদের যৌথ উদ্যোগ এবং স্থানীয় সচেতন মহলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় কতটুকু আন্তরিক হয় তা-ই এখন দেখার বিষয়।

 
নারায়ণগঞ্জ একটি ব্যবসা ও বাণিজ্যে সমৃদ্ধ নগরী হওয়ায় এই নগরের বিভিন্ন মাধ্যম থেকে রাজনৈতিক দলগুলোর বিভিন্ন কৌশলে চাঁদা আদায় এখন নিত্যদিনের ঘটনা। স্থানীয়দের মতে এই চাঁদাবাজির সাথে কারা জড়িত আছে তা শহরবাসী সবাই জানে। এমনকি চাঁদাবাজের মূল বা শিকড় সম্পর্কে জনগণ যে জানে, যারা চাঁদাবাজির নেতৃত্বে আছে তারা নিজেরাও বিষয়টি জানে। কিন্তু তারপরও তারা চাঁদাবাজি বন্ধ করার নাটক বা অভিনয় ঠিকই চালিয়ে যাচ্ছেন। চাঁদাবাজির খুটিগুলো শক্তিশালী হওয়ায় প্রশাসনও তাদের বিরক্ত করে না, বরং সমর্থন দিয়ে ফায়দা নেয় বলেও অভিযোগ আছে। শান্তিপ্রিয় নগরবাসীর দাবি বিগত সরকারের জনপ্রতিনিধিদের সন্তানেরা গডফাদারের যুবরাজ হিসেবে এই চাঁদাবাজির খুটি হিসেবে রাজত্ব করেছিল। একইভাবে তাদের প্রতিপক্ষ জনপ্রতিনিধিরাও এইসব চাঁদাবাজদের দিকে আঙ্গুল তুলে নিজেরাও চাঁদাবাজির মাধ্যমে বেশ কিছু ক্ষেত্রের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিল বলে অভিযোগ আছে। অর্থাৎ যে সর্ষে দিয়ে চাঁদাবাজির ভূত তাড়ানোর কথা সেই সর্ষের মধ্যেও ভূত ছিল বলে তাদের দাবি। তাই নারায়ণগঞ্জ শহরের ব্যবসা-বাণিজ্য সহজ ও সরল করার জন্য এই নারায়ণগঞ্জ শহরকে চাঁদাবাজমুক্ত করার দাবি এখন বেশ জোরালো।
 
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে নগরীর ফুটপাত, হকার, কাঁচাবাজার, বাসস্ট্যান্ড, সিএনজি স্ট্যান্ড, অটোস্ট্যান্ডসহ বিভিন্ন দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকেও চাঁদাবাজি এখন প্রকাশ্য বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যেহেতু নারায়ণগঞ্জ-৪ ও ৫ আসনে নির্বাচিত দুইজনই ক্লিনম্যান হিসেবে পরিচিত এবং একজন প্রথমবারের মতো নির্বাচিত সংসদ সদস্য হলেও অন্যজন চারবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য, তাই এই দুইজনের কাছেই শহর ও শহরতলী এলাকার মানুষের চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণে এই দুইজনের উপর ভরসা রাখতে চায়।


Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন