প্রধানমন্ত্রীর ভালোবাসায় সিক্ত সাখাওয়াত
যৃুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রধানমন্ত্রীর ভালোবাসায় সিক্ত সাখাওয়াত
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করে বিএনপি। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবারের মতো দায়িত্ব গ্রহণ করেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে সরকারে এবং বিএনপিতে একেরপর এক নজরকাড়া সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন তিনি। শত ব্যস্ততাতেও তিনি দলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করতে ভোলেননি। নারায়ণগঞ্জে এবার সেই দৃষ্টান্ত মিলল আরেকবার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুঃসমসয়ে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপিকে আগলে ধরে রাখা আহবায়ক এড.সাখাওয়াত হোসেন খানকে মূল্যায়ন করেছেন। নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের নতুন প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এড.সাখাওয়াত হোসেন খান। দীর্ঘদিন প্রতিকূল পরিবেশে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপিকে আগলে ধরে রাখার পুরস্কার স্বরূপ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এড.সাখাওয়াত হোসেন খানকে পুরস্কৃত করেছেন বলে মন্তব্য করছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা।
গতকাল রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্ম সচিব মাহবুবা আইরিন এ সংক্রান্ত এক প্রজ্ঞাপনে নাসিকে প্রশাসক হিসেবে এড.সাখাওয়াত হোসেন খানকে নিয়োগ দেয়া হয়। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪-এর ধারা ২৫ক এর উপধারা (১) এর অনুবৃত্তিক্রমে তাদেরকে করপোরেশন গঠিত না হওয়া পর্যন্ত অথবা পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত নামের পাশে বর্ণিত সিটি কর্পোরেশনের পূর্ণকালীন প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে। নিয়োগকৃত প্রশাসকরা সিটি করপোরেশনের মেয়রের ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করবেন। তারা বিধি মোতাবেক ভাতা পাবেন। জনস্বার্থে জারিকৃত এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে।
আলোচিত সাত খুনের মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী হিসেবে পরিচিতি পাওয়া সাখাওয়াত হোসেন খান নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ছিলেন। ২০১৬ সালে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপিদলীয় প্রার্থী ছিলেন তিনি। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগদলীয় প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভী ৭৮ হাজার ৯৬৭ ভোটের ব্যবধানে তাকে পরাজিত করেন। অন্তর্বর্তী সরকার আমলে পদচ্যুত সেলিনা হায়াৎ আইভী গ্রেপ্তার হয়ে এখন কারাগারে রয়েছেন। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক পদে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব দিয়েছিল আবু নছর মোহাম্মদ আবদুল্লাহকে। তার স্থলাভিষিক্ত হলেন সাখাওয়াত হোসেন খান। এড. সাখাওয়াত হোসেন খানের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, তিনি মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।
সূত্র জানিয়েছে, সাখাওয়াত হোসেন খান বিগত ২০২২ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর তুখোড় আন্দোলনের মাঠে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির দায়িত্ব পান তিনি। দফায় দফায় কৌশলী আন্দোলন সংগ্রামের মাধ্যমে আন্দোলনের মাঠ গরম রাখতেন সাখাওয়াত। পারিবারিক নির্যাতনে ও দাবিয়ে রাখা যায়নি তাকে। ১০ ডিসেম্বর ও ২৮ অক্টোবর, হরতাল-অবরোধসহ কমিটিতে দায়িত্ব পাওয়ার পর নানা কর্মসূচিতে ব্যাপক ভূমিকায় ছিলেন মহানগর বিএনপি। যেসময় সকলেই বিএনপি থেকে পিছিয়ে ছিলেন সে সময় মনে সাহস নিয়ে মাঠে ছিলেন সাখাওয়াত। তা ছাড়া সর্বশেষ ২০২৪ সালের জুলাইয়ের আন্দোলনে সাখাওয়াতের নেতৃত্বেই মহানগর বিএনপির কৌশলী ভূমিক লক্ষ্য করা গেছে। তা ছাড়া ৫ই আগষ্টের পরবর্তীতে মহানগর বিএনপির সকল বিশৃঙ্খলা এড়িয়ে সুসংগঠিত রেখোছিলেন মহানগর বিএনপিকে। তা ছাড়া মনোনয়ন যুদ্ধে দলের দূসময়ে মহানগর বিএনপিকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে সক্ষম হয়েছিলেন ক্লিন ইমেজ খ্যাত এড. সাখাওয়াত। যাকে ঘিরেই পুরষ্কার নরূপ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসকের দায়িত্ব পেলেন সাখাওয়াত হোসেন খান। এর বাহিরে ও সাখাওয়াত হোসেন খান নারায়ণগঞ্জে ব্যাপক আলোচিত হয়ে ২০১৪ সালে নারায়ণগঞ্জে আলোচিত সাতখুনের ঘটনার পর বাদীপক্ষের আইনজীবী হয়ে আলোচনায় আসেন। এ আইনজীবী ওই সময় বিভিন্ন গণমাধ্যমে বক্তব্য দিয়ে সারাদেশে পরিচিত পান। এ পরিচিতি তাকে ২০১৬ সালে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে মেয়র পদে বিএনপির মনোনয়ন পেতে সহযোগিতা করে। যদিও ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভীর কাছে বিপুল ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছিলেন ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচন করা সাখাওয়াত। পরে ২০১৮ সালেও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন বিএনপির এ নেতা। কিন্তু সেবার তিনি মনোনয়ন পাননি। দল নির্বাচনী জোটের শরিক দলকে আসনটি ছেড়ে দেয়। ওই নির্বাচনে নাগরিক ঐক্যের উপদেষ্টা এসএম আকরাম ধানের শীষ নিয়ে ভোট করেন। যদিও বিতর্কিত ওই নির্বাচনে আসনটি বাগিয়ে নেন জাতীয় পার্টির প্রার্থী সেলিম ওসমান। পরবর্তীতে ত্রয়োদশ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে ধানের শীষের মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন সাখাওয়াত হোসেন। কিন্তু গত ৩ নভেম্বর সারাদেশে দলীয় প্রার্থী ঘোষণার সময় নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে ব্যবসায়ী নেতা ও ক্রীড়া সংগঠক মাসুদুজ্জামান মাসুদের নাম ঘোষণা করে। কিন্তু ুকিছুদিন পর ১৬ ডিসেম্বর দুপুরে হঠাৎ এক সংবাদ সম্মেলন ডেকে মাসুদুজ্জামান নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় থাকায় তিনি নির্বাচন করবেন না। তবে, গত ১৯ ডিসেম্বর নেতা-কর্মীদের চাপে তিনি পুনরায় নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছেন। তার নির্বাচনে ফেরার এই ঘোষণার পরদিনই সাখাওয়াত হোসেন খান নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের প্রাথমিক মনোনয়ন পেয়েছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে তাকে অভিজ্ঞ হিসেবে সিটি কর্পোরেশনে দায়িত্ব দিবে সেই চিন্তা মাথায় রেখে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে সর্বশেষ চূড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়া হয় সাবেক সাংসদ সদস্য এড. আবুল কালামকে। পরবর্তীতে ১২ ফেব্রুয়ারী বিপুল ভোটে বিজয়ী হন তিনি। কিন্তু বর্তমানে দলীয় সকল সিদ্ধান্তকে বুকে ধারণ করার ফল হিসেবেই নব-নির্বাচিত সরকার তারেক রহমানের কাছ থেকেই মূল্যায়িত হলেন ত্যাগী-নির্যাতিত সাখাওয়াত হোসেন খান।
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নিয়োগ পেয়ে মহানগর বিএনপির আহবায়ক এড. সাখাওয়াত হোসেন খান বলেছেন, ‘আমি আমার দলের চেয়ারম্যান এবং নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং আমার দলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আমি দলের প্রতি একজন বিশ্বস্ত মানুষ। দীর্ঘ দিন যাবৎ, গত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে দলের বিভিন্ন পদে দায়িত্বে ছিলাম। এই দায়িত্ব পালন করতে যেয়ে দলের জন্য অনেক কাজ করেছি, অনেক সরকারের দ্বারা অনেক মামলা খেয়েছি, অনেকবার জেল খেটেছি, শারীরিকভাবে নির্যাতিত হয়েছি, নিগৃহীত হয়েছি, পরিবার নিগৃহীত হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘আমার ছেলেকে অপহরণ করা হয়েছিল ডিবি হারুনের মাধ্যমে। তারপরেও বিএনপির রাজনীতিকে আঁকড়ে ধরে রেখেছি। আমি মনে করি এই যে বিএনপির প্রতি আমার আনুগত্য এবং দল সেই আনুগত্যেরই একটা মূল্যায়ন করেছে এবং সেই মূল্যায়নের জন্য আমি আমার দলের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি, দলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমি একটা কথাই সবসময় বলতে চাই, আমি খুব স্ট্রং প্রিন্সিপালের লোক। আমি সবসময় সাদাকে সাদা কালোকে কালো বলতে পছন্দ করি। সেই হিসেবে আমাকে যে গুরুদায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এটাকে আমি মনে করি এটা কোনো ক্ষমতা নয়, এটা একটা দায়িত্ব। এই দায়িত্ব গুরুদায়িত্ব। এই দায়িত্বকে অত্যন্ত পবিত্রতার সাথেই পালন করবো, ইনশাআল্লাহ।’
তিনি বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জ অত্যন্ত একটি অনগ্রসর শহর। বাংলাদেশের জাতীয় আয়ের একটা বিশেষ অংশ এই নারায়ণগঞ্জ থেকে হলেও নারায়ণগঞ্জ উন্নয়নের ক্ষেত্রে ওরকম ধরনের উন্নয়ন সাধিত হয় নাই। সবচেয়ে বড় দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো- বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে যেখানে গুরুত্বহীন জায়গায় বড় বড় ব্রিজ হয়েছে, অথচ এই নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনকে শীতলক্ষ্যা নদীর মাধ্যমে যেভাবে বিভক্ত করে রাখা হয়েছে। যে সময় আমি বন্দর ঘাট, নবীগঞ্জ ঘাটে যাই মানুষের পারাপারের জন্য যে ছুটাছুটি সেটা আমার কাছে খুব খারাপ লাগে। তো আমি চেষ্টা করবো এই দুই পারকে একসাথে মিলন ঘটাতে।’


