Logo
Logo
×

রাজনীতি

ফতুল্লায় এনসিপির দুইপক্ষের সংঘর্ষের নেপথ্যে

ফকিরের দেয়া এক লাখ টাকা ডোনেশনই কাল

Icon

যৃুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:০০ এএম

ফকিরের দেয়া এক লাখ টাকা ডোনেশনই কাল

ফকিরের দেয়া এক লাখ টাকা ডোনেশনই কাল

Swapno

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে এনসিপির প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল আমিন জয়লাভ করে। জয়লাভ করার পর তিনি কোনো সন্ত্রাসী বা চাঁদাবাজদের আশ্রয় প্রশ্রয় দেবে না বলে সাফ জানিয়েছিলেন। কিন্তু গত ২১ ফেব্রুয়ারী ফতুল্লার পঞ্চবটিতে এনসিপির দুই সমর্থক গ্রুপের মধ্যে চাঁদাবাজীর পাল্টাপাল্টি অভিযোগ উঠে। পুলিশ এক পক্ষের মামলা গ্রহণ করে অপর পক্ষের মামলা গ্রহণ করেনি। দুই পক্ষই নির্বাচনের আগে এনায়েতনগর ইউনিয়নে এনসিপির প্রার্থী আল আমিনের প্রচারণায় অংশ গ্রহণ করেন। এনসিপি নির্বাচন পরিচালনার জন্য ইয়াসিন আরাফাত ও আলিফ দেওয়ানসহ বেশ কয়েকজন সংগঠিত হয়েছিলো। তবে নির্বাচনের পর দুউ পক্ষের মধ্যে কেনো এই ফাঁটল এনিয়ে পঞ্চবটি গুলশান রোড এলাকায় চলছে নানা আলোচনা। পঞ্চবটি ফ্লাইওভারের নিচে ভাসমান দোকানগুলো থেকে চাঁদাবাজীর কার নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং এলাকায় কে আধিপত্য বিস্তার করবে নিয়েও মূলত দন্ধ চলছিলো। অপরদিকে, নির্বাচনের আগে এনসিপি থেকে বলা হয়েছিলো আব্দুল্লাহ আল আমিনের নির্বাচনের ব্যয় বাবদ জেনো ফান্ড জোগাড় করা হয়। বিসিকের ফকির এ্যাপারেলস থেকে ১ লাখ টাকা দেয়া হয়েছিলো। আর ঐ টাকার ভাগাভাগি নিয়েই মূলত দুই পক্ষের মধ্যে দ্বন্ধের সূত্রপাত। এমনটিই নিশ্চিত করেছেন একাধিক সূত্র । তবে এই ফান্ডিং ছাড়াও আরো বেশ কিছু জায়গা থেকে টাকা আনা হয়ে থাকতে পারে বলেও সূত্রের দাবী।



গণঅভ্যুত্থানে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলো একাত্মতা ঘোষণা করেছিলো। সেই সাথে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষও গনআন্দোলনে সাড়া দিয়েছিলেন। যুগান্তকারী বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে পুঁজি করে দেশের বিভিন্ন এলাকায় কিছু মানুষ নিজেকে ছাত্র আন্দোলনের নেতা পরিচয় দিয়ে নানা ধরনের অপরাধ সংগঠিত করেছিলো। যদিও বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন নেতৃবৃন্দ ঐ সমস্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছিলো। তারপরেও বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ঘটিয়েছিলো বিভিন্ন এলাকায় ছাত্র সংগঠনের নাম ভাঙ্গিয়ে কিছু অসাধু ব্যক্তি।



বিএনপি অধ্যুষিত নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে এনসিপি প্রার্থী অ্যাড.আব্দুল্লাহ আল আমিন জয়লাভ করেন। এরপর পরই তিনি সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে নিজের অবস্থান পরিস্কার করে কঠোর হুশিয়ারীও দিয়েছেন। কিন্তু গত ২১ ফেব্রুয়ারী দুপুরের দিকে ফতুল্লার পঞ্চবটি গুলশান রোড এলাকায় ঘটে গেছে অনাকাঙ্খিত ঘটনা। এতে করে এনসিপি তথা সাংসদ আল আমিনের ইমেজে আঘাত লাগে। সাংসদ আল আমিনের নির্বাচনী মাঠে ইয়াসিন আরাফাত ও আলিফ দেওয়ানসহ বেশ কয়েকজন কর্মী হিসেবে পঞ্চবটি এলাকায় কাজ করে। তবে এরই মধ্যে নির্বাচনে ফান্ডিংয়ের টাকা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মনোমালিণ্য হয়। সূত্রের দাবী, এনসিপির কোন এক নেতা নির্বাচনে আল আমিনের নির্বাচনে ফান্ডিং করার জন্যে ইয়াসিন আরাফাত,আলিফ দেওয়ানসহ তাদের বন্ধুদের বলেছিলো। তারা সেই মতে বিভিন্ন জায়গা থেকে ফান্ডিংও জোগাড় করেছিলো। তবে বিরোধ বাঁধে ফকির এ্যাপারেলস অনুদানের ১ লাখ টাকার বিষয়ে। আলিফসহ অপর ব্যক্তিদের না নিয়ে ফকির এ্যাপারেলস থেকে পাঠানো এক লাখ টাকা একাই গ্রহন করে ইয়াসনি আরাফাত। ১ লাখ টাকা থেকে ৫০ হাজার টাকা ফান্ডিংয়ে জমা দেয়া হয়েছিলো। পরবর্তীতে এ নিয়ে আলিফসহ অন্যদের সাথে মনোমালিন্য সৃষ্টি হয় আরাফাতের। এ বিষয়টি প্রার্থী আল আমিনের কান পর্যন্ত সেই সময় গড়িয়েছিলো। নির্বাচনের পর এনসিপি প্রার্থী আল আমিন জয় লাভ করে। এরপরই আলিফ ও সাব্বিরসহ বেশ কয়েকজন ফেসবুকে ইয়াসিন আরাফাতকে উদ্দেশ্য করে বেশ কিছু পোষ্ট ফেসবুকে আপলোড করে। এরই সূত্র ধরে ২০ ফেব্রুয়ারী সাব্বির যখন তার বাড়িতে যাচ্ছিলো তখন ইয়াসিন আরাফাত সাব্বিরের সাথে তার চাচার রোলিং মিলের সামনে বাক বিতন্ডায় জড়িয়ে পড়ে।  এরপরই শুরু হয় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ। যা শেষ পর্যন্ত মামলা পর্যন্ত গড়ায়।



অপর একটি সূত্রের দাবী,ইয়াসিন আরাফাতের বাড়ির সামনে রয়েছে ফুটপাত। এখান থেকেও আরাফাত ও তার পরিবারের লোকজন টাকা আদায় করে বলে যা জানতো আলিফ ও তার বন্ধু মহল। যেহেতু অর্থ আত্মসাৎতের কারনে এনসিপি নেতাদের কাছে ইয়াসিন অভিযুক্ত,সেক্ষেত্রে পঞ্চবটির মোড়ে ফ্লাইওভারের ফুটপাত থেকে চাাঁদাবাজী তাদের দখলেই থাকার কথা। উল্লেখিত দুইটি কারনে এনসিপির কর্মী আরাফাত ও  আলিফের মধ্যে দন্ধের জেরেই শেষ পর্যন্ত থানায় আরাফাতের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। নির্বাচনে আল আমিন জয়ী হওয়ার পর পঞ্চবটির দুই পক্ষের মধ্যে কে হবেন আল আমিনের আস্থাভাজন এ নিয়ে শুরু হয় প্রতিযোগীতা। এরমধ্যে কিছুটা মাইনাস হয়ে যায় ইয়াসিন আরাফাত। মামলা দায়ের করার পর আরাফাত ও মামলার অপর অভিযুক্তরা এলাকা ছাড়া রয়েছেন। অপরদিকে মামলা করে বীরদর্পে বিভিন্ন সেক্টরে সাংসদের লোক পরিচয়ে প্রভাব বিস্তারের ছক কষছেন বেয়াদপ আলিফ ও তার বন্ধুরা এমন তথ্যই নিশ্চিত করেছেন একাধিক সূত্র।
গত ২১ ফেব্রুয়ারী এ নিয়ে আরাফাতের চাচা আনোয়ারের মালিকানাধীন এমদাদিয়া রোলিং মিলসসের সামনে দুই পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে মারামারির মতো ঘটনাও ঘটে। এই ঘটনায় আরাফাত দাবী করেন তার প্রতিষ্ঠান থেকে ২০ লাখ টাকা চাঁদাবাদী করেছে আলিফ দেওয়ান ও বিপ্লব। অপরদিকে আলিফ ও বিপ্লবের দাবী,রোলিং মিলের ভেতর বিপ্লবকে ডেকে নিয়ে তাকে চাঁদার দাবীতে আটকে রাখা হয়েছিলো। এ ঘটনায় ঘটনার দিন রাতে আলিফ দেওয়ান ফতুল্লা মডেল থানায় একটি চাঁদাবাজীর অভিযোগ দেয়। তবে পরদিন দুপুরে বিপ্লব বাদী হয়ে যে অভিযোগটি প্রদান করেন সেটিই এজাহার হিসেবে গন্য করা হয়। এছাড়াও, ২২ ফেব্রুয়ারী সকালের দিকে ইয়াসিন আরাফাতের বাড়ির সামনে আলিফ ও তার সহেযাগীরা গেলে সেখানেও দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ইয়াসিন আরাফাতের মা ফতুল্লা মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেন। তবে এ ঘটনায় পুলিশী কোনো তদন্ত আসেনি।



পঞ্চবটি এলাকাবাসী সমনে করেন,দুই পক্ষের মধ্যে মনোমালিন্যের বিষয়টি ইচ্ছা করলেই সাংসদ আল আমিন মিমাংসা করতে পারতেন। যেহেতু এই এলাকায় নির্বাচনের আগে দুই পক্ষই তার হয়ে কাজ করেছেন। তবে তিনি কেনো দুই পক্ষের বিরোধকে মিমাংসার দিকে না গিয়ে মামলার দিকে ঠেলে দিলেন এ নিয়েও চলছে নানা সমালোচনা।



উল্লেখ্য,পঞ্চবটি মোড়ে নব নির্মিত ফ্লাইওভারের নিচে বেশ কয়েক মাস যাবৎ কিছু ভাসমান দোকান পাট রয়েছে।  প্রায় বছরখানেক আগে বিভিন্ন ব্যক্তি ভাসমান দোকানগুলো থেকে ২’শ থেকে ৩’শ টাকা দৈনকি হারে চাঁদা তুলে যাচ্ছে। বেশ কিছু দোকান থেকে ইয়াসিন আরাফাতও টাকা নেন বলে অভিযোগ। তবে নির্বাচনের পর এনসিপি থেকে মাইনাস করে আলিফ ও তার বন্ধুরা। সাংসদের কাছের লোক হিসেবে উল্লেখিত দোকানগুলো থেকে নিজেরা চাঁদা আদায়ের পরিকল্পনা করে। এই খবর পেয়ে গিয়েছিলো আরাফাত। কিন্তু আলিফ গ্রুপে লক্ষ্য আরাফাতের বাড়ির সামনেরর ফুটপাতের দোকানগুলো থেকে চাঁদা আদায়। এমন তথ্য নিশ্চিত করেছেন গুলশান রোড ও পঞ্চবটি এলাকাবাসী।



এলাকাবাসী জানান, আলিফ ও বিপ্লব যেমন আরাফাতের কাছে চাঁদা দাবী করেনি,ঠিক তেমনি আরাফাতও আলিফ ও বিপ্লবের কাছে চাঁদা দাবী করেনি। মূলত এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, ডোনেশনের টাকা আত্মসাৎ ও ফ্লাইওভার সংলগ্ন ফুটপাতের কে হবেন নিয়ন্ত্রক এ নিয়েই দুই পক্ষের মধ্যে হামলা-মামলার মতো ঘটনা ঘটেছে।



 অনুদান দেয়ার প্রসঙ্গে ফকির এপারেলস কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করলে তারা বিষয়টি এড়িয়ে গিয়েছেন।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন