Logo
Logo
×

রাজনীতি

আওয়ামী লীগ ফিরুক আর না ফিরুক

ওসমানদের ‘প্রকটলীলা’ কেউ চায় না

Icon

ফরিদ আহম্মেদ বাধন

প্রকাশ: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:০০ এএম

ওসমানদের ‘প্রকটলীলা’  কেউ চায় না

ওসমানদের ‘প্রকটলীলা’ কেউ চায় না

Swapno

আওয়ামী লীগ ফিরবে কি ফিরবেনা এনিয়ে বিতর্ক রয়েছে। তবে নাারয়ণগঞ্জে দূর্দান্ত প্রতাপ নিয়ে চলা বিতর্কিত ওসমান পরিবারের কেউ চায়না, এমনটিই নিশ্চিত করেছেন  জেলা ও থানার আওয়ামীলীগ সমর্থিত ব্যাক্তিবর্গ। ওসমানদের রাজনীতি করা হাতে গোনা দুই একজনের ভাগ্য পরিবর্তন হলেও বেশির ভাগ নোতকর্মীদের ফুডফরমায়েশেষর মধ্যেই রাখতে পছন্দ করতেন ওসমান পরিবারের নাসিম ওসমান,শামীম ওসমান ও সেলিম ওসমান। স্বাধীনতা পরবর্তী পুরো আওয়ামীলীগ তথা শেখ হাসিনার মদদে দিন দিন নারায়ণগঞ্জে বেপরোয়া হয়ে উঠেছিলো ওসমান পরবিার। জেলায় বড় অঘটন ঘটালেও তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসন নীরব ভুমিকা পালন করেছে। ফলে দিন দিন পুরো পুরো নারায়ণগঞ্জ জেলাকে নিজেদের পৈতৃক ভিটা বলে মনে করতো  তারা। অনেকে  নাসিম ওসমানের পুত্র দূর্ধর্ষ সন্ত্রাসী আজমেরী ওসমানকে ও শামীম ওসমানের পুত্র অয়ন ওসমানকে রাজপুত্র বলেও সম্বোধন করতো। আর এই সম্বোধনকে খুব উপভোগ করতেন ওসমানরা। ২০০১ সালে বিএনপি সরকার ক্ষতায় আসার পর দেশ ছেড়ে পারিয়ে গিয়েলেন শামীম ওসমান ও এই পরিবারের অপর সদস্যরা। ২০২৪ সালে আওয়ামীলীগ সরকারের পতনে লেজগুটিয়ে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নিরাপদে দেশ ছেড়েছেন শামীম ওসমান। সেই সাথে দেশ ছেড়েছেন ভয়ংকর সন্ত্রাসী,সন্ত্রাসীর বরপুত্র আজমেরী ওসমান ও তার সহযোগীরা। জেলায় আওয়ামীলীগ নেতাদের অনেকেই ওসমানদের উপর ক্ষিপ্ত। আগামীতে আওয়ামীলীগ ফিরবে কি ফিরবে না এ নিয়ে নানা রকম তর্ক বিতর্ক হলেও নারায়ণগঞ্জে ওসমানদের আর কেউ ক্ষমতায় বা আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে চায় না। এমনই মতামত ব্যক্ত করেছেন আওয়ামী সমর্থক জন মানুষ।


রাজধানী ঢাকার খুব সন্নিকটে নারায়ণগঞ্জ। রাজধানী ঘেঁষা এই জেলার রাজনীতির কিছুটা বাতাস যে কোনো দলের উপর গিয়ে লাগে। সেই হিসেবে সারা দেশের রাজনীতিতে নারায়ণগঞ্জের ভুমিকা স্বাধীনতা পূর্ববর্তী এবং পরবর্তী সময়ে বিদ্যমান । ১৯২০ এর দশকে  কুৃমিল্লা থেকে নাারয়ণগঞ্জে এসেছিলেন শামীম ওসমানের দাদা খান সাহেব ওসমান আলী। রাজনীতি ও ব্যবসা দিয়ে তিনি নারায়ণগঞ্জে পরিচিতি পেয়েছিলেন।  বিট্রিশ থেকে পাকিস্তান সরকারের সময়ও আলোচনায় ছিলেন ওসমান আলী। ১৯৪২ থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত নাারয়ণগঞ্জ শহর মুসলিমলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন তিনি। বাবা ওসমান আলীর পর ছেলে শাসসুজ্জোহাও তৎকালীন মুসলিমলীগের রাজনীতির সাথে জড়িয়েছিলেন। পবর্তীতে আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে শেখ মুজিবুরের সাথে তিনি রাজনীতি শুরু করেন।  আর এরই সূত্র ধরে শাহসুজ্জোহার ছেলে নাসিম ওসমান শেখ মুজিবরের ছেলে শেখ কামালের সাথে বন্ধুত্ব গড়ে তোলেন। নানা চড়াই উৎরাই পাড় করে নাসিম ও শামীম ওসমান রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। নারায়ণগঞ্জ সন্ত্রাসের রাজপদ হিসেবে শামীম ওসমানের কারেনই পরিচিতি হয়। এই জেলার এমন কোনো সন্ত্রাসী কর্মকান্ড নেই যা  ওসমান পরিবারের দ্বারা সংঘঠিত হয়নি। খুন,ঘুমের রাজনীতি এই নারায়ণগঞ্জে বলা চলে তাদের হাত ধরেই শুরু হয়েছিলো। বিশেষ করে শামীম ওসমান পুরো নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগকে নিজের কুক্ষিগত করে রেখছিলো। শামীম সওমানের সিদ্ধান্তের বাইরে নাারয়ণগঞ্জে আওয়ামীলীগের অনেক প্রভাবশালী নেতাও কোনো সিদ্ধান্ত দিতে পারেনি। ওসমান পরিাবরের বাইরে এই জেলায় কেউ আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে লাইম লাইটে আসার চেষ্টা করলেই তাকে হামলা,মামলা এমনকি খুনও হতে হয়েছে বলে ইতিহাস রয়েছে।



ওসমান পরবিবারের সন্ত্রাসী শামীম ওসমানের পদাঙ্ক অনুসরন করে নাসিম ওসমানের ছেলে আজমেরী ওসমান। আজমেরীর কারনে নারায়ণগঞ্জে আওয়ামীলীগের রাজনীতি অনেকটাই ধুলায় মিশে গেছে বলে মনে করেন আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত অনেকেই। শুধু ভিন্ন মত নয়, আওয়ামলীগ নেতাদেরও আজেমেরী ওসমান তার নিজস্ব টর্চার সেলে নিয়ে গিয়ে টাকার জন্যে নির্যাতন চালাতো। এক সময় শামীম ওসমানের কন্ট্রোলের বাইরে চলে গিয়েছিলো আজমেরী। শামীম ওসমানের চাইতেও আরো কয়েকগুন সন্ত্রাসী বলয় তৈরী করতে সক্ষম হয়েছিলো আজমেরী ওসমান। পুরো নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন সেক্টরে চাঁদাবাজী,জবর দখল থেকে শুরু করে এমন কোনো অপকর্ম নেই যা আজমেরী বা তার বাহিনী দ্বারা সংঘঠিত হয়নি। বলা চলে জেলা বা থানার প্রভাবশালী আওয়ামলীগ নেতারাও আজমেরীর ভয়ে ভীত থাকতো। গোয়েন্দা রিপোর্ট আজমেরীর বিরুদ্ধে থাকলেও অদৃশ্য কারনে শেখ হাসিনা বা আওয়ামীলীগ সরকার শামীম ওসমান বা আজমেরীরকে দমাতে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। সে কারনে তৎকালীন সময়ে আওয়ামীলীগের নতুন কোনো নেতৃত্বও গড়ে উঠেনি নাারয়ণগঞ্জসহ জেলার বিভিন্ন থানা এলাকায়।



নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন নেতা বলেন, সারা দেশে আওয়ামী লীগের যে বর্তমান অবস্থা তা প্রতিটি জেলায় শামীম ওসমানদের মতো নেতার কারনে হয়েছে। শেখ হাসিনা প্রতিটি জেলায় কোনো না কোনো পরিবারের কাছে দলকে ইজারা দিয়েছিলো। যার কারনে বড় ধরনের অপরাধ করেও তারা পাড় পেয়েছিলো। আর এ সমস্ত ক্ষোভ পুঞ্জিভূত হয়ে ২০২৪ সালে সারা দেশে বিস্ফোরনে রুপ নিয়েছিলো। তারা আরো বলেন, আওয়ামলীগ ফিরবে কি ফিরবে না এবিষয় নিয়ে মতবিরোধ রয়েছে। তবে নারায়ণগােঞ্জ ওসমান পরিবারের রাজনীতি  কেউ মেনে নেবে না। আর কেউ শামীম ওসমানের পদ লেশন করতেও যাবে না। অপরদিকে সন্ত্রাসী আজমেরী বা অয়ন ওমসমানকে তোঁয়াজ করার লোকজনও ভবিষৎতে সৃষ্টি হবে না। ওমসমান পরিবারের প্রভাব নারায়ণগঞ্জে মুখ থুবড়ে পড়েছে বলেও তার মনে করেন। এই জেলায় কারো উপর ভর করে ওসমান পরিবার আবার স্বশরীরে লীলা নৃত্য করুক এমনটি কেউ ভবিষৎতে চায়না বলেও দাবী অনেকের।  

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন