Logo
Logo
×

রাজনীতি

ফতুল্লার দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসনে

চ্যালেঞ্জ নিলেন নবাগত সাংসদ আল আমিন

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:০০ এএম

চ্যালেঞ্জ নিলেন নবাগত সাংসদ আল আমিন

ফতুল্লার দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসনে

Swapno

আসছে বর্ষা মৌসুম। বর্ষার আগমন যেনো ডিএনডিবাসীর জন্য আজো অভিশাপ হয়ে রয়েছে। নারায়ণগঞ্জ-ডেমরা বাঁধের ভিতরের মানুষ বর্ষা মৌসুমে আতংকে থাকতে হয়। শুধু বাঁধের ভিতরই নয় বর্তমানে বাঁধের বাইরেও বর্ষা মৌসুমে মানুষের ভোগন্তি চরম পর্যায়ে গিয়ে পৌছেছে। ২০১৭ সালের ৮ ডিসেম্বর ডিএনডি প্রজেক্টের কাজ শুরু করে সেনাবহিনী। নানা প্রতিকূলতার মধ্যে থেকেও বাংলাদেশ সেনাবহিনী কাজ করে যাচ্ছে। তবে ডিএনডির ভেতরে অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও ভঙ্গুর ড্রেনেজ ব্যবস্থাই জলাবদ্ধতার মূল কারন বলে মনে করা হচ্ছে। ডিএনডি বাঁধের বাইরে অপরিকল্পিতভাবে বাড়ি-ঘর নির্মাণসহ জনগনের অসচেতনার কারনেও বিগত কয়েক বছর ধরে মানুষের ভোগন্তি চরম আকার ধারণ করছে। নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের নব নির্বাচিত সাংসদ আব্দুল্লাহ আল আমিনের জন্য আগামী বর্ষা মৌসুমে জনগনকে জলাবদ্ধতা থেকে মুক্ত করাই তার জন্যে বড় চ্যালেঞ্জ মনে করা হচ্ছে। এমনটিই মনে করছে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের জনগণ। সাংসদ আব্দুল্লাহ আল আমিন গতকাল তাঁর ভেরিফাইড ফেসবুক পেইজে জলাবদ্ধতা নিরসনে ফতুল্লার ৪টি খাল খননের প্রজেক্ট প্রপোজাল মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন। নব নির্বাচিত এই জনপ্রতিনিধির জন্যে নির্বাচিত হওয়ার পর এটাই প্রথম চ্যালেঞ্জ হবে। তিনি কতোটা সফলতা অর্জন করবেন সেটাই এখন দেখার বিষয়।    
 
ষাটের দশকে পাকিস্তান সরকার কৃষির জন্যে ডিএনডি বাঁধ নির্মাণ করেছিলেন। তবে দিন দিন ডিএনডির অভ্যন্তরে কৃষি বিলুপ্তি হয়েছে। কৃষি বিপ্লবের পরিবর্তে স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে ডিএনডি বাঁধের ভিতরে গড়ে উঠেছে শিল্পকারখানা। ড্রেনেজ ব্যবস্থাও হয়ে পড়েছে ভঙ্গুর। আওয়ামীলীগ সরকারের তৎকালীন সাংসদ শামীম ওসমান তার এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে বিভিন্ন সময় নানা ধরনের আশ্বাস দিলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। ২০১৭ সালে তৎকালীন পানি সম্পদ মন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ডিএনডির জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রথমে ৫৫৬ কোটি টাকার প্রকল্প বরাদ্দ দেন। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তত্ববধানে শুরু হয়েছিলো কাজ। এই কাজ করতে গিয়ে সেনাবাহিনীকে নানা ধরনের প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যেও কাজ চালিয়ে যেতে হয়েছে। বর্তমানেও কাজ চলছে। ডিএনডি বাঁধের ভেতর শুধু ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ অংশেই ২০ লাখেরও বেশি মানুষের বসবাস। বাঁধের ভিতরে ছোটো বড় রপ্তানিমুখী পোশাক কারখানাসহ ছোটোছোটো শিল্প কারখানা রয়েছে । এছাড়াও রয়েছে স্কুল, কলেজ, মসজিদ, মাদ্রাসা। সামান্য বৃষ্টিতেই মানুষের নাভিশ্বাস উঠে। জনপ্রতিনিধিরা বিভিন্ন সময় আশ্বাসের বানী শুনিয়ে গেলেও কাজের কাজ হয়নি। ফলে বর্ষা ডিএনডিবাসীর কাছে আতংকের মৌসুম হিসেবেই বেশি পরিচিত।

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে সাংসদ আব্দুল্লাহ আল আমিন তার এলাকার উন্নয়নে প্রথমেই জলাবদ্ধতাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করেছেন। গতকাল তিনি তার ফেসুবক পোস্টে জলাবদ্ধতা নিরসন বিষয়ে লিখেছেন ‘নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের অন্যতম প্রধান নাগরিক সমস্যা জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে আমরা কাজ শুরু করেছি প্রথম দিন থেকেই। এর অংশ হিসেবে এনায়েতনগর-কাশীপুরের মধ্যবর্তী ‘কল্যানী খাল‘ এবং ফতুল্লা ইউনিয়নের ‘নলখালী‘,‘ওয়াপদা" ও ‘বাগডোমারী‘ এই চারটি খাল খনন, পাড় বাঁধাই ও বৃক্ষরোপণের জন্য ইতোমধ্যে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে এবং প্রজেক্ট প্রপোজাল মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সকল খাল সংস্কার করা হবে। সাথে থাকুন। ইনশাআল্লাহ জনগণকে নিয়ে ফতুল্লার জলাবদ্ধতা নিরসনে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবো’। ফেসবুক পোস্টে সাংসদের এমন উদ্যোগকে অনেকে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে শেষ পর্যন্ত কতোটা সফল হবেন তিনি তার তার কাজের গতির উপরই নির্ভর করবে বলে মনে করেন তার নির্বাচনী এলাকার মানুষ।

সূত্র মতে, ডিএনডির কাজে সেনাবাহিনী দ্রুততম সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। ডিএনডির পানি নিষ্কাশনের জন্য ডিএনডির বাইরের অংশকে যদি দখলমুক্ত করা না যায়,তাহলে ডিএনডির বাইরে ও ভেতরে জনসাধারণকে এবারও বর্ষা মৌসুমে চরম ভোগন্তিতে পড়তে হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।  ফতুল্লার লালপুর, পৌষা পুকুরপাড়, দেলপাড়া, নয়ামাটি, নন্দলালপুর,কুতুবপুর,এনায়েতনগর,মুসলিমনগর, নবীনগর, মাসদাইর, দেওভোগ,ধর্মগঞ্জ, টাগারপাড়, আফাজনগরসহ  বেশ কয়েকটি এলাকায় সামান্য বৃষ্টি হলে হাঁটু পানিতে নিমজ্জিত হয়ে পড়ে।  এতে করে মিল কারখানার কর্মরত শ্রমিক,স্কুল,কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি বেড়ে যায় কয়েক গুন। বর্ষা মৌসুমে বাড়ি ঘরে পানি উঠে এক অবর্ননীয় দূর্ভোগ পোহাতে হয় মানুষকে। চলাচলের ক্ষেত্রে ব্যবহার করতে হয় নৌকা। তবে জলাবদ্ধতার জন্যে প্রতিটি এলাকার জনগন নিজেরাই অনেকটা দায়ী বলে মনের করা হয়। এলাকা ভিত্তিক যে ড্রেণ রয়েছে সেখানে ময়লা আবর্জণা ফেলে রাখা এমনকি খালগুলোকে ময়লার ভাগার বানিয়ে রাখারও অভিযোগ রয়েছে স্থানীয়দের বিরুদ্ধে। প্রভাবশালী মহলের কারনে খালগুলো উদ্ধার করতে গিয়ে স্থানীয় সরকারের ইউনিয়ন পরিষদের প্রতিনিধিদেরও অনেক সময় নাজেহাল হতে হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। বর্ষা মৌসুম ছাড়াও প্রতিটি এলাকায় ড্রেনের পানি চলাচলের সড়কে উঠে এক নাজুক পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে সারা বছরই। ফলে মশার পাদুর্ভাব যেমন বেড়েছে,তেমনি বেড়েছে নানা ধরনের রোগের প্রাদুর্ভাব।


Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন