Logo
Logo
×

রাজনীতি

বিএনপিতে এখনই শুদ্ধি অভিযানের দাবি

Icon

লতিফ রানা

প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:০০ এএম

বিএনপিতে এখনই শুদ্ধি অভিযানের দাবি

বিএনপিতে এখনই শুদ্ধি অভিযানের দাবি

Swapno

নারায়ণগঞ্জ বিএনপির আভ্যন্তরীণ কোন্দল নিয়ে বেশ কয়েক বছর যাবতই আলোচনা চলছে। বিশেষ করে গত ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পূর্ব থেকেই নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপির কমিটির মধ্যকার অসন্তোষ নিয়ে দলীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে যেমন প্রচুর চর্চা হয়েছে, তেমনি বিভিন্ন মিডিয়ায়ও অনেক লেখালেখি হয়েছে। দলীয় কর্মী সমর্থকসহ তৃণমূল থেকে দাবি উঠেছিল শুদ্ধি অভিযান পরিচালনা নিয়ে। এর আগে জেলা ও মহানগর বিএনপির কমিটি প্রদানকে কেন্দ্র করেও বিরোধ প্রকাশ্যে চলে এসেছিল। কিছুদিন আগে গত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দলীয় মনোনয়নকে কেন্দ্র করে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। যার প্রভাব পড়ে ১২ ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির প্রার্থীদের চাপে পড়ার মাধ্যমেও। সর্বশেষ মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপুর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে পোস্ট করা বার্তার মাধ্যমে। তাই আন্দোলন সংগ্রামের পর সরকারের দায়িত্ব পাওয়া দল বিএনপির রাষ্ট্্রীয় জনবান্ধব কার্যক্রমের সুফল দলের তৃণমূলের সমর্থকদের কাছেসহ সাধারণ মানুষের কাছে পৌছানোর জন্য এখনই শুদ্ধি অভিযান পরিচালনা করা জরুরী বলে বিএনপি প্রেমীদের অভিমত।
 
স্থানীয় বিএনপির সমর্থকদের দাবি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের শুরু থেকেই নারায়ণগঞ্জ শহর ও শহর কেন্দ্রীক আসনগুলোতে বিএনপির প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে বিভিন্ন নাটকীয় ঘটনার সৃষ্টি হয়। নির্বাচনে যখন দেশজুড়ে বিএনপির জোয়ার, দেশের বিভিন্ন জেলার আসনগুলোতে যখন বিএনপির প্রার্থীরা অনেক ভোটের ব্যবধানে খুব সহজেই জয় লাভ করে, ঠিক সেই সময় কঠিন লড়াইয়ের মুখে পড়তে হয় বিএনপির ঘাটি হিসেবে পরিচিত নারায়ণগঞ্জের বেশিরভাগ আসনের প্রার্থীদের। যা নির্বাচনের শুরুতেই চিত্রায়িত হতে থাকে। তাদের মতে, জয়লাভ করার জন্য ঘাম ঝরাতে হয়েছে শহর ও শহরকে কেন্দ্র করে থাকা আসনগুলোতে। এর মধ্যে দুটি আসনে শেষ পর্যন্ত দুশ্চিন্তায় থেকে হাড্ডা-হাড্ডি লড়াইয়ের মাধ্য জয় লাভ করতে হয়েছে এবং একটিতে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীকে পরাজয় বরণ করতে হয়েছে। কিন্তু শহরের বাইরের আসনগুলো আবার ভালো ব্যবধানেই বিএনপির জয় নিশ্চিত হয়েছে।
 
বিএনপি ভক্তদের দাবি, বিএনপির নিজেদের দলের লোকেদের সাথে লড়াই করতে গিয়ে নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা) আসনে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন দশদলীয় জোটের প্রার্থী জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতা আব্দুল্লাহ আল আলামিনের কাছে ২৫ হাজার ৫৫২ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মনির হোসাইন কাসেমী। এই আসন থেকে বিএনপির তিন নেতা মো. শাহ আলম ও মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং মোহাম্মদ আলী বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টি (বিআরপি) পার্টি থেকে নির্বাচন করেন। ফলে বিএনপির সাধারণ সমর্থক বা ভোটাররা ভোট দিতে গিয়ে বিভ্রান্ত হন। অন্যদিকে নিজ দলীয় লোকদের চক্রান্তের শিকার হয়ে হারতে হারতে গিয়ে কোন রকম জয় লাভ করেন নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর-বন্দর) আসনের বিএনপির প্রার্থী অ্যাডভোকেট আবুল কালাম। এর আগে বিএনপি থেকে তিনবার নির্বাচিত হওয়া এই সাংসদকে নির্বাচনের শেষ মুহুর্ত পর্যন্ত জয়ের জন্য লড়াই করতে হয়। মাত্র ১৩ হাজার ৬০০ ভোটের ব্যবধানে এবারের নির্বাচনে এই আসন থেকে চমক লাগানো খেলাফত মজলিসের প্রার্থী এ বি এম সিরাজুল মামুনকে পরাজিত করেন তিনি। আলোচিত কোন দলীয় প্রার্থী না থাকা সত্ত্বেও শেষ মুহুর্ত পর্যন্ত লড়াই করে জিততে হয় নারায়ণগঞ্জ-৩ (সিদ্ধিরগঞ্জ-সোনারগাঁ) আসনে বিএনপি প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নানকে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী’র মো. ইকবাল হোসাইন ভূঁইয়াকে মাত্র ২০ হাজার ৪৮২ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন তিনি।
 
অন্যদিকে শহরের বাইরে থাকায় নারায়ণগঞ্জ-১ এবং নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী ভালো ব্যবধানে জয়ী হন। নারায়ণগঞ্জ-১ আসনে বিএনপি প্রার্থী মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া ৬৪ হাজার ৬৬৮ ভোটের ব্যবধানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী’র দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মো. আনোয়ার হোসেন মোল্লাকে পরাজিত করেন। একই সাথে নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী মো. নজরুল ইসলাম আজাদ ৪৩ হাজার ২৩৭ ভোটে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী’র প্রার্থী মো. ইলিয়াছ মোল্লাকে পরাজিত করেন।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন