না.গঞ্জ বিএনপিতে সাংগঠনিক বিপর্যয়
নির্বাচন কেন্দ্রীক বিএনপির রাজনীতিতে সাংগঠনিক ব্যাপক বিপর্যয়ের চিত্র ফুঁটে উঠেছে। কিন্তু নির্বাচনকালীন জোয়ারে সাংগঠনিক ঘাটতি নিয়ে কোন প্রকার প্রতিক্রিয়া দৃশ্যমান না হলেও নির্বাচন পরবর্তী সময়ে ষ্পষ্ট হচ্ছে। অপরদিকে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বহিষ্কার হয়ে ডজন ডজন নেতা বহিষ্কার হয়ে সাংগঠনিক ভাবে কিছুটা দুর্বল হলেও বহিষ্কার আতঙ্কে বহিষ্কার ঠেকাতে বিপরীতমুখী রাজনীতিতে থাকা এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেও শেষতক দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ করে নির্বাচন পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক ভাবে বিপর্যয়ের মুখোমুখি হয়েছেন। কেননা বিএনপির সংগঠনে সাংগঠনিক দায়িত্বে থাকা অধিকাংশ নেতারাই বর্তমানে বিএনপির মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থীর হয়ে দীর্ঘকাল আগে থেকেই রাজনীতি করতেন। কিন্তু দলীয় সিদ্ধান্তকে প্রধান্য দিয়ে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ করে নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর জয়ের পর বর্তমান দলীয় সাংসদ পেয়ে দলীয় সাংসদের পক্ষে দীর্ঘকাল ধরে কাজ করা সমর্থকদের কাছে প্রতিনিয়ত তিরষ্কার এবং বহিষ্কৃত নেতাদের সাথে পূর্বে রাজনীতি করার কারণে তাদের রাজনৈতিক ভাবে কোণঠাসা করা হচ্ছে। এদিকে সংগঠনের গুরু দায়িত্বে থাকলেও সংগঠন পরিচালনায় হিমশিম খেতে হচ্ছে।
সূত্র বলছে, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি সংসদীয় আসনের মধ্যে তিনটি আসনেই বিএনপির মনোনয়ন বঞ্চিতরা স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীকে সহযোগীতার কারণে বহিষ্কার হয়েছেন। তারা হচ্ছেন-নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আতাউর রহমান আঙ্গুর,মহিলাদলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক পারভীন আক্তার,নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন,রেজাউল করিম,নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে শাহ আলম। এসকল স্বতন্ত্র এমপি প্রার্থীরা বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশা করে ব্যর্থ হয়ে স্বতন্ত্র নির্বাচনে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এদিকে তাদের সাথে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক কর্মকান্ড পরিচালনা করছিলেন বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের দায়িত্বপ্রাপ্ত বর্তমান এবং সাবেক নেতারা। এরমধ্যে সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আবু জাফর,সোনারগাঁ উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক শহিদুর রহমান স্বপন,যুগ্ম আহ্বায়ক কামাল হোসেন, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সভাপতি মাজেদুল ইসলাম, সহ-সভাপতি জি এম সাদরিল, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মো. আবুল হোসেন, যুগ্ম-সম্পাদক কামরুজ্জামান শরিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক আলী আকবর, থানা বিএনপির সদস্য শামিম আহম্মেদ ঢালি,সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মুন্সি আলী আইয়ুব, ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাসুদ করিম, ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শহিদুল ইসলাম ভূইয়া, ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ আলী, ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মাসুদুজ্জামান মন্টু, ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. জিল্লুর রহমান, ১০ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. জামাল প্রধান, ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জামান মির্জা।
এদিকে বিএনপির মনোনয়ন বঞ্চিত স্বতন্ত্র প্রার্থীর একাধিক সমর্থক বিএনপি ও সংগঠনের নেতৃত্বে থাকায় বহু আগেই বিএনপিতে নিজেদের অবস্থান টিকাতে তাদের সঙ্গ ত্যাগ করেছিলেন। কিন্তু সঙ্গ ত্যাগ করার পর প্রথমে দলীয় প্রার্থীরা বাহাবা দিলেও নির্বাচনী জোয়াড়ে তাদের ভাসিয়ে নির্বাচন বৈতরনী পার করেছিলেন। তবে নির্বাচন পরবর্তী সময়ে সাংসদ নির্বাচিত হওয়ার পর দলীয় প্রার্থীরা এসকল নেতাদের এড়িয়ে যাচ্ছেন। সেই সাথে বিপরীতমুখী রাজনৈতিক বলয় থেকে দলীয় প্রার্থীর রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ায় দলীয় প্রার্থীর পক্ষে দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতি করা সমর্থকরা বিভিন্ন ভাবে এসকল নেতাদের কোণঠাসা করছেন। যার কারণে বিএনপির সাংগঠনিক রাজনীতিতে এক ব্যাপক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। যেটা নিয়ে দলীয় নীতি নির্ধারকদের কোন প্রকার দৃষ্টি নেই। কেননা দলীয় নীতি নির্ধারকরাও সরকার দলীয় হওয়ায় সরকারী বিভিন্ন দপ্তরসহ দলীয় বিভিন্ন দপ্তরের কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। যেটার সুযোগই নিচ্ছেন বিএনপির দলীয় মনোনয়নে নির্বাচিত হওয়া সাংসদের সমর্থকরা।


