Logo
Logo
×

রাজনীতি

মনির কাশেমীকে নিয়ে তৃণমূলে নানা প্রশ্ন

Icon

বিশেষ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০২ মার্চ ২০২৬, ১২:০০ এএম

মনির কাশেমীকে নিয়ে তৃণমূলে নানা প্রশ্ন

মনির কাশেমীকে নিয়ে তৃণমূলে নানা প্রশ্ন

Swapno

জমিয়তে ওলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ। এই ইসলামী দলটি নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি জোট হিসেবে পরিচিতি পায়। এই আসনটিতে জমিয়তের প্রার্থী হিসেবে এেকাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আলোচনায় ছিলেন মুফতি মনির হোসেন কাশেমী। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি যতোটা আলোচনায় ছিলেন,এবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পরও তেমনই আলোচনায় রয়েছেন। নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পর পরই বিশেষ করে ফতুল্লা অঞ্চলে কাশেমী বিএনপি নেতাকর্মীদের নিয়ে বিভিন্ন জায়গায়,বিএনপি দলীয় সভা তথা ইফতার মাহফিলে অংশ নিচ্ছেন। তাঁর সাথে বিএনপি দলীয় নেতাদেরও থাকতে দেখা যায়। তবে জমিয়তে ওলামায়ে ইসলামের তেমন কর্মী সমর্থকদের সভা সেমিনারে দেখা তেমন যায়না। একাদশ সংসদ নির্বাচনের পর কাশেমী অনেকটা গা ঢাকা দিয়ে ছিলেন। তবে এবারে  প্রেক্ষাপট সম্পূর্ন ভিন্ন। বর্তমান নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ আব্দুল্লাহ আল আমিনকে উদ্দেশ্য করে সম্প্রতি বেশ কিছু কথাও বলেছেন তিনি। আর এতে করে এনসসিপি কাশেমীর বক্তব্যে পাল্টা বক্তব্যও দিয়েছেন। ফলে আগামীতে ফতুল্লার রাজনীতিতে জমিয়ত বনাম এনসিপি নাকি এনসিপি বনাম বিএনপির রাজনৈতিক কার্যক্রম দেখা যাবে এনিয়েও ছলছে নানা আলোচনা।



বাংলাদেশ জমিয়তে ওলামায়ে ইসলামের কেন্দ্রীয় নেতা মুফতি মনির হোসেন কাশেমী। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তৎকালীন আওয়ামীলীগের প্রভাবশালী নেতা শামীম ওসমানের সাথে প্রতিদ্বন্ধীতা করেছিলেন।  সেবারও তিনি পরাজয় বরণ করেিেছলেন।এরপর তাকে আর তেমনভাবে রাজনীতির মাঠে দেখা যায়নি। বেশ কয়েকটি মামলাও হয়েছিলো তার বিরুদ্ধে। মামলা থেকে জামিন পেয়েও তিনি নাারয়ণগঞ্জ জেলা ও ফতুল্লা থানা বিএনপির নেতাদের সাথে তেমন কোনো যোগাযোগ রাখেনি। তবে এবারের চিত্র পুরোটাই ভিন্ন। দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের প্রার্থী হিসেবে মুফতি কাশেমী পুনরায় ফতুল্লার রাজনীতিতে বিএনপির কাঁধে ভর করে প্রার্থী হয়েছিলেন। প্রথমে তার প্রার্থীতা নিয়ে কিছুটা ধুম্রজালের সৃষ্টি হলেও পরবর্তীতে তিনি বিএনপি জোটের প্রার্থীত্ াপেয়ে যান। দলীয় নেতাকর্মীদের বেশিরভাগই কাশেমীর সাথে মিলে নির্বাচনের কাজ শুরু করেন। তবে বিএনপির বহিস্কৃত দুই নেতার প্রার্থী হওয়ায় অনেকটা বেগ পেতে হয়েছিলো তাকে। শেষ পর্যন্ত বিদ্রোহীদের কারনেই তাকে ভোটের মাঠে পরাজিত হতে হয়েছে। সমিকরনণ এমনটিই বলে।


নির্বাচনের পর কাশেমী যেখানে জমিয়তে ফিরে যাওয়ার কথা,সেখানে না গিয়ে তিনি বিএনপির মধ্যেই ঘুরপাক খাচ্ছেন। ফতুল্লায় বিএনপি নেতারা যখন দল গুছাচ্ছেন তখন সেখানে বা সেই সভায় কাশেমীও উপস্থিত হচ্ছেন। কাশেমী মূলত বিএনপির রাজনীতি করেনা। তিনি জমিয়তের একজন প্রভাবশালী নেতা। তবে তিনি তাঁর দলকে কিভাবে ফতুল্লায় প্রতিষ্ঠিত করা যায় সেদিকে খেয়াল না করে তিনি পরের ঘরে অর্থাৎ বিএনপির ঘর গুছানোর দায়িত্ব নিয়ে বসে আছেন। এমনটিই মনে করছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। অনেকে হাস্যরস করে বলছেন ‘কার বা গোয়াল কেবা দেয়  ধোঁয়া’



সম্প্রতি মনির কাসেমী বিএনপির একটি ইফতার মাহফিলে বলেছেন, ‘আবদুল্লাহ আল আমিন যদি আঁকাবাঁকা হয়ে চলেন তাহলে কিভাবে সোজা করতে হয় সেটা আমাদের জানা আছে। আমরা সোজা করে দিব।‘ ভোটের মাঠে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে যেখানে বিএনপি দলীয় নেতাকর্মীরাই জোটের প্রার্থীর বিরুদ্ধে গিয়ে কাজ করেছেন, যাদের কারনে তাঁর ভরাডুবি হয়েছে তিনি তাঁদের ব্যপারে কিছু বলছেন না। উল্টো বিজয়ী প্রার্থী সাংসদ আব্দুল্লাহ আল আমিনকে ইঙ্গিত করে তিনি যে বক্তব্য দিয়েছেন,এতে রাজনীতির মাঠে তিনি অপরিপক্কতার পরিচয় দিচ্ছেন বলে মনে করছেন অনেকে। জনসাধারণের মতে, নব নির্বাচিত আল আমিন কয়েকদিন আগে সাংসদ নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি এখনো কাজ শুরু করেননি। তাহলে কিসের ভিত্তিতে কাশেমী নব নির্বাচিত সাংসদের সমালোচনা করছেন। অনেকের ধারনা বিএনপির নেতাকর্মীরা যে হুমকি প্রকাশ্যে,আল আমিনকে দিতে পারেনি তা মনির হোসেন কাশেমীকে দিয়ে দেওয়াচ্ছেন। নির্বাচনে পরাজয়ের পর ফতুল্লা থানা বিএনপি বিভিন্ন ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন পর্যায়ে মাঠ গুছাচ্ছেন। তবে সেখানে কাশেমীকে কেনো রাখা হচ্ছে এনিয়েও সর্ব মহলে নানা প্রশ্ন উঠছে।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন