জেলা পরিষদে নজর নেতারা হাইকমান্ডে
গত ১৭ ফেব্রুয়ারি বিএনপি জোটের ২১২ জন নির্বাচিত সংসদ সদস্য শপথ নিয়ে সরকার গঠন করেন। এছাড়া একই দিনে সরকারের মন্ত্রী পরিষদের শপথ গ্রহন হয়। তবে বিএনপির সরকার দায়িত্বে এসে দেশের ৬টি সিটি করপোরেশনে নিজেদের দলীয় লোককে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ প্রদান করেন। তাই জেলা পরিষদ গুলো নিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে আলোচনা হচ্ছে। এছাড়া বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ে মামলা, হামলা, নিপীড়ন নির্যাতনের শিকার হওয়া বিএনপি নেতাদের ত্যাগের মুল্যায়ন দিয়ে দলের নেতাকর্মীদের বিভিন্ন জায়গায় গুরুত্বপুর্ণ পদে দায়িত্ব দিচ্ছেন। এই তালিকায় প্রথমেই মুল্যায়িত করা হয়েছে ৬ সিটি কর্পোরেশনে বিএনপি’র ৬ নেতাকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিয়ে। তারই ধারা বাহিকতায় নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিয়ে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানকে দল থেকে মুল্যায়িত করায় নেতকার্মীদের মাঝে আলোচনা হচ্ছে। কিন্তু এর মাঝে দলের নেতাকর্মীদের মাঝে প্রশ্ন তৈরী হয়েছে এর পরে কাকে দলের জন্য মুল্যায়িত করা হবে। কেননা ইতোমধ্যে নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারে কে বসতে পারেন তা নিয়ে আলোচনা তৈরী হয়েছে।
এদিকে নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদে বসার জন্য বিএনপির একাধিক হেভিওয়েট নেতা দলের হাই কমান্ডে যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। যাদের প্রত্যেকেই বিগত সময়ে দলের জন্য মামলা হামলা খেয়ে নির্যাতনে জর্জরিত হয়েছে। দলও তাদেরকে মুল্যায়িত করে পুরুস্কুত করতে চান। তাদের মাঝে আলোচনায় থাকা বিএনপি নেতারা জেলা পরিষদের নির্বাচনের আগে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেতে যাচ্ছেন। ইতোমধ্যে অনেকেই জোরালোভাবে লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন। সেই সাথে জেলা পরিষদের প্রশাসক পদে আলোচনায় থাকা নেতারা নতুন করে আশাবাদী হয়ে উঠছেন প্রশাসককে ঘিরে।
তথ্যমতে, নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের বিএনপির রাজনীতিতে যাত্রা শুরু হয়েছিলো একেবারেই শূন্য থেকে। সেই শূন্য থেকে একের পর ধাপ পেরিয়ে বিএনপি রাজনীতিতে তিনি দাপুটে অবস্থান করে নেন। প্রত্যেকটি ধাপেই ছিলো তার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, দক্ষতা এবং নেতৃত্বের গুণাবলীর অনন্য পরিচয়। এদিকে সাখাওয়াত হোসেন খানের এই নিয়োগকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির রাজনীতিতে আলাপ আলোচনা সরগরম হয়ে উঠেছে। নারায়ণগঞ্জ বিএনপির রাজনীতিতে তার ত্যাগ তীতিক্ষা নিয়ে আলাচনা হচ্ছে। সেই সাথে বিএনপির অনেক নেতা নতুন করে আশাবাদী হয়ে উঠছেন।
বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদকে ঘিরে আলোচনায় রয়েছেন জেলা বিএনপির আহবায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ, মহানগর বিএনপি নেতা আবু জাফর আহমেদ বাবুল, জেলা আইনজীবি সমিতির সভাপতি অ্যাড. সরকার হুমায়ুন কবির, মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাড. আবু আল ইউসুফ খাঁন টিপু। জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি কাজী মনিরও কোন অংশে পিছিয়ে নেই। বিশিষ্ট শিল্পপতি আবু জাফার আহমেদ বাবুল মাঠে রয়েছেন, তাছাড়া আইনজীবি সমিতির সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার প্রধান সহ আরও অনেকেই মাঠের রাজনীতিতে রয়েছেন। তারা প্রত্যেকেই বিগত সময়ে রাজপথে থেকে দলের পক্ষে আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়ে গেছেন। তাই তাদের থেকে যে কাইকে জেলা পরিষদে মুল্যায়িত হতে পারে। তারা প্রত্যেকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের সিদ্ধান্তের প্রতি আনুগত্য থেকে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেছেন।
নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মতো জেলা পরিষদেও প্রশাসক নিয়োগ করা হবে কিনা তা এখনও নিশ্চিত হয়নি। কেউ কেউ মনে করছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মতো জেলা পরিষদেও প্রশাসক করা হতে পারে। আর তাই নির্বাচনের আগে প্রশাসক পদে নিয়োগ পাওয়ার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন আলোচনায় থাকা নেতারা।
নারায়ণগঞ্জ আইনজীবি সমিতির সভাপতি অ্যাড. সরকার হুমায়ুন কবির বলেন, আমি ছাত্র রাজনীতি থেকে বিএনপির রাজনীতির সাথে জরিত। ১৯৭৮ সনে ৪শ ছাত্র নিয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাজধানী গুশানের বাসায় যোগদান করে এই দলের রাজনীতি শুরু করি। আমি নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্র দলের তিনবারের নির্বাচিত সভাপতি ছিলাম। আমি কখনো দলের পক্ষ থেকে কোন প্রশাসনিক জায়গা পাই নাই। যা পেয়েছি নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত হয়ে পেয়েছি। জেলা আইনজীবি ফোরামে নির্বাচনের মাধ্যমে ১০ বার সভাপতি নির্বাচিত হয়েছি। নারায়ণগঞ্জ আইনজীবি সমিতিতে ২ বার সভাপতি নির্বাচিত হয়ে বর্তমান ্এখনো দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি। নারায়ণগঞ্জের মানুষ চাচ্ছে আমাকে জেলা পরিষদে মুল্যায়ন করা হোক। আমাকে দল থেকে মুল্যায়িত করে জেলা পরিষদে দায়িত্ব দেয়া হলে আমি সবার আগে চাদাঁবাজ মুক্ত শহর গড়ে তুলবো। এছাড়া কোন অন্যায়কে প্রশ্রয় দিব না।
মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাড. আবু আল ইউসুফ খান টিপু বলেন, আমি দলের প্রতি আনুগত্য থেকে জাতীয় নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থী অ্যাড. আবুল কালামের পক্ষে কাজ করে বিজয়ী করেছি। এছাড়া বিগত আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে দলের প্রতিটি কর্মসূচি দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছি। কেন্দ্র থেকে যে কোন নির্দেশনা দেয়া হত তা সফল ভাবে বাস্তবায়ন করেছি। তাছাড়া মামলা হামালা কারাগার থেকে শুরু করে সকল ধরনের নির্যাতন সহ্য করেছি। তাই দল এখন মুল্যায়িত করবে সেই প্রত্যাশা করি।
উল্লেখ্য দীর্ঘ সাড়ে ১৫ বছর ধরে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় ছিলো আওয়ামী লীগ। এই ক্ষমতায় থাকাবস্থায় নারায়ণগঞ্জ বিএনপির নেতাকর্মীরা অনেক নির্যাতন নীপিড়নের শিকার হয়েছেন। দিনের পর দিন মাসের পর মাস এবং বছরের পর বছর বিএনপির নেতাকর্মীদেরকে পরিবার পরিজন ছেড়ে দিন যাপন করতে হচ্ছে। ব্যবসা বাণিজ্যেও নানাভাবেই বাধার শিকার হয়েছেন। সব মিলিয়ে তাদের যেন স্বাভাবিক জীবন যাপন ছিলো না।এরই মধ্যে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়।


