Logo
Logo
×

রাজনীতি

খই ফুটেছে মুখে

Icon

বিশেষ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৩ মার্চ ২০২৬, ১২:০০ এএম

খই ফুটেছে মুখে

খই ফুটেছে মুখে

Swapno

তিনি ছিলেন হেফাজত। অপরদিকে বাংলাদেশ জমিয়তে ওলামায়ে ইসলামের নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক। তার মুখে এক আর কর্মে আরেক। যখন নারায়ণগঞ্জে হেফাজত নেতারা গড ফাদার শামীম ওসমানের ধারে কাছেও ভিড়তে পারতেন না, তখনও তিনি ছিলেন শামীম ও সেলিম ওসমানের কাছের মানুষ। নিজেকে শামীম ওমানের ছোটো ভাই হিসেবেও পরিচয় দিতে গর্ববোধ করতেন। কারণ শামীম ওসমমান নিজে তাকে ছেটো ভাই হিসেবে একটি মঞ্জে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন। আর এই বিতর্কিত ব্যক্তিটিই হচ্ছেন মাওলানা ফেরদাউস। শামীম ওসমান যখন গণঅঅ্যুত্থানের পর দেশের বাইরে স্ত্রী সন্তান নিয়ে পালিয়ে গেছেন,আর তখনই ওসমান পরিবার বিরোধী হয়ে নানা ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন তিনি। এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসন থেকে বিএনপি জোটের প্রার্থী হওয়ার কথা ছিলো তার। কিন্তু তার দ্বিমূখী আচরণ তথা বিএনপির হেভিওয়েট নেতাদের কাছে হেফাজতের এই নেতার আর্জি বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে ধোপে টিকেনি। সব শেষে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের জোটের প্রার্থী মুফতি মনির হোসেন কাশেমীর নির্বাচনে গিয়ে হাজির হয়েছিলেন তিনি। প্রতিটি সভায় তার উপস্থিতি নিয়ে বিএনপিসহ বিভিন্ন ব্যক্তি মাওলানা ফেরদাউসের অতীত নিয়ে সরব হয়ে উঠেছিলেন।


সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মাওলানা ফেরদাউসকে নিয়ে শুরু হয়েছিলো নানা সমালোচনা। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর তিনি ফতুল্লা শিল্পাঞ্চলের চাঁদাবাজ ও মাদক ব্যবসায়ীদের নিয়ে প্রতিবাদে সরব। কিন্তু কেনো এবং কি কারনে তার এই প্রতিবাদ এনিয়েও চলছে নানা আলোচনা। শামীম ওসমানের ছায়ায় থেকে তৎকালীন সময়ে তিনি কো কেনো কোনো সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে মুখ খুলেননি এনিয়েও চলছে নানা আলোচনা।



দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছর আওয়ামীলীগ শামনামলে নারায়ণগঞ্জের গড ফাদার শামীম ওসমানের  ডেরায় গিয়ে  নিয়মিত হাজিরা দিতেন মাওলানা ফেরদাউসুর রহমান। শামীম ওসমানের ছোটো ভাই খ্যাত  ফেরদাউসকে দেখে শুনেই রাখতেন শামীম বলয়ের সন্ত্রাসী ও ক্যাডাররা। তৎকালীন সময়ে  হেফাজত  জেলা নেতৃবৃন্দ রাজনৈতিক কারনে কোনঠাসা থাকলেও মাওলানা ফেরদাউস চলা ফেরা করতেন বীরদর্পে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ফেরদাউস নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে থেকে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছিলেন বিএনপি দলীয় জোট থেকে। তবে তিনি মনোনয়ন পাননি। এরপর নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে থেকে বিএনপি জোটের মনোনয়ন পাওয়া মাওলনা মুফতি মনির হোসেন কাশেমীর বিভিন্ন নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্যও রাখেন। সেই সময় ফতুল্লার বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে ফেরদাউসকে ঘিরে তৃণমূল বিএনপি নানা ধরণের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছিলেন। এরপরই  নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে কাশেমীর নির্বাচনী সভায় যাওয়া বন্ধ করে দেন ফেরদাউস।



গত রোববার বিকেলে নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়ায় জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের কার্যালয়ে একটি ইফতার মাহফিলে মাওলানা ফেরেদাউস তার বক্তব্যে বলেছেন,“নারায়ণগঞ্জে যে যত বড় নেতাই হোক,সবাই সাবধান হয়ে যান। বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় আধিপত্যের লড়াই চলছে। বিশেষ করে ফতুল্লায় আধিপত্যের লড়াই আমরা স্পষ্টভাবে দেখতে পাচ্ছি। রাস্তায় হাঁটলে মানুষ আমাদের প্রশ্ন করে আমাদের পাশে নাকি চাঁদাবাজ থাকে,আমরা নাকি মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে চলাফেরা করি।”



তিনি আরো বলেছিলেন,“খেজুর গাছের পক্ষে নির্বাচনে কাজ না করার কারণে কিছু মানুষের বাড়িঘরে হামলা চালানো হচ্ছে। এরা কারা? জমিয়তের কোনো কর্মী তো হামলা চালানোর কথা না। সুতরাং যারা নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য এসব করছে,তাদের চিহ্নিত করতে হবে। আমরা আগেই বলেছি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে দল ও বিরোধী দল থাকবে এবং সবাই স্বাধীনভাবে নির্বাচনে কাজ করবে। এতে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু নির্বাচনের পর আধিপত্য বিস্তার করে কেউ যদি জমিয়ত ও খেজুর গাছকে কলঙ্কিত করতে চায় আমরা বসে থাকবো না। চাঁদাবাজদের নাম ধরে ধরে পোস্টার লাগানো হবে,বয়কট করা হবে। প্রয়োজনে বহিষ্কারের দাবিতে আন্দোলনও করা হবে।” মাওলানা ফেরদাউসের এমন বক্তব্যে অনেকে মনে করেন, বিগত ১৭ বছর শামীম ওসমানের  বিরুদ্ধে কথা না বলা ফেরদাউসের মুখে এখন খই ফুটেছে। কেন্দ্রীয় হেফাজতে ইসলামের নেতারা যখন ঢাকার রাজপথে বিভিন্ন যৌক্তিক ইস্যু নিয়ে রাজপথ গরম করেছেন। এ কারনে যখন হেফাজতের নেতাদে;র বিভিন্ন চাপ সহ্য করতে হয়েছে তখন ফেরদাউস ছিলেন শার্মীম ওসমানের আস্থাভাজনদের একজন। সেই সময়ে ওসমানদের কাছ থেকে সুবিধা ভোগ করা ফেরদাউস এখন যে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কথা বলছেন,এতে নিশ্চিয় অন্য কিছু আছে বলে মনে করছেন অনেকে। সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কথা বলাকে মানুষ সাধুবাদ জানায়। কিন্তু ফেরদাউস কোন মিশন নিয়ে এখন এগিয়ে আসছে এনিয়েও চলছে নানা সমালোচনা।



উল্লেখ্য,আওয়ামীলীগের শাসনামলে মাওলানা ফেরদাউসুর রহমান নারায়ণগঞ্জ মহানগর হেফাজত ইসলামকে এককভাবে নিয়ন্ত্রণ করতেন।  ২০১০ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়া হেফাজতে ইসলাম প্রতিষ্ঠা হয়। হেফাজতের নেতা কর্মীরা ঢাকার পার্শ^বর্তী নারায়ণগঞ্জের রাজপথ কাঁপিয়ে রাখতেন। শাপলা চত্ত্বরে ঢাকার পার্শ্ববর্তী জেলা হিসেবে নারায়ণগঞ্জের হেফাজতের নেতারা সক্রিয় ভূমিকায় ছিলেন। এভাবে একের পর এক কর্মসূচির মধ্য দিয়ে নারায়ণগঞ্জ হেফাজতের নেতাকর্মীদের সাথে ধর্মপ্রাণ মুসুল্লিদের নজর কাড়ে। তবে অভিযোগ রয়েছে,বিগত দিনে হেফাজতের আন্দোলন সংগ্রামের মধ্যেই নিজে বাঁচতে শামীম ওসমান ও সেলিম ওসমানের সাথে সম্পর্ক বজায় রেখেছিলেণ ফেরদাউস। ২০২১ সালের আলীরটেকের ডিক্রিরচর ঈদগাহ মাঠে ইসলামি মহাসম্মেলন করে ওলামা পরিষদ। সেই সম্মেলনে শামীম ওসমানকে প্রধান অতিথি করা হয়েছিলো মাওলানা ফেরদাউসের কারনেই। শামীম ওসমান সেই সম্মেলনে উপস্থিত হাজারো মানুষের সামনে বক্তৃতায় ফেরদাউসকে নিজের ছোটো ভাই হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন। যা স্থানীয় রাজনীতিতে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছিলো।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন