তৃতীয়বার মাঠে নামার ইঙ্গিত মাসুদুজ্জামানের
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ১০ মার্চ ২০২৬, ১২:০০ এএম
তৃতীয়বার মাঠে নামার ইঙ্গিত মাসুদুজ্জামানের
শেষ সময়ে স্ট্যান্টবাজি করে সরে দাঁড়ানোকে এক ধরনের পেশা হিসেবে নিয়েছেন শিল্পপতি মাসুদুজ্জামান মাসুদ। ব্যবসায়ী সংগঠন, এমপির পর এবার মেয়র হতে চাইছেন এমন ইঙ্গিত দিচ্ছেন তিনি। সেই হিসেবে পুরনো কায়দায় এবারও নির্বাচনী বার্তা পৌঁছে দেওয়ার খেলার মেতেছেন মাসুদুজ্জামান মাসুদ। এবার নাসিক সিটি এলাকায় মাংস বিলি ও আগামী (১১ মার্চ) ক্লাবে ইফতার মাহফিলের মাধ্যমে আগামীতে মেয়র নির্বাচনে মাঠে থাকবেন এমনই ইঙ্গিত দিতে চাইছেন তিনি। তা সাংসদ নির্বাচনের মতোই এবার ও সাবেক কাউন্সিলর ও নতুন কাউন্সিলর প্রার্থীদের নানা কায়দায় নিজের নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টায় মগ্ন রয়েছেন। তা ছাড়া বর্তমানে সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এড. সাখাওয়াত হোসেন খান তার সঙ্গে পাল্টাপাল্টিভাবে বর্তমানে মাসুদুজ্জামান মেয়র হওয়ার লক্ষ্যে মাঠে নানাভাবে নামতে চাইছেন। এদিকে বর্তমানে বিএনপির সমর্থন চাইছেন এই শিল্পপতি ব্যবসায়ী মাসুদ। এদিকে ইতিমধ্যে মাসুদুজ্জামানকে সমর্থন দিতে অনীহা প্রকাশে রয়েছেন ডজনে ডজনে বিএনপি নেতাদের। যার কারণে সরূপ তিনি ত্রয়োদশ নির্বাচনে শেষ পর্যায়ে যে স্ট্যান্ডবাজি করেছেন তাতে অনেক বিএনপি নেতা বর্তমানে কোনঠাসা প্রায়। সেই হিসেবে এবার পূর্ণ শক্তিশালী সমর্থন পাবে না মাসুদুজ্জামান মাসুদ। তা ছাড়া শহরের ১৪নং ও ১৫নং ওয়ার্ডে গরুর গোস্ত বিতরণের মাধ্যমে আলোচনা নাম উঠেছেন তিনি। আসন্ন সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে তিনি মেয়র প্রার্থী হচ্ছেন এমনতা জানিয়েছেন সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থীরা। তা ছাড়া ১২নং ওয়ার্ডে , বন্দরের ২২নং ওয়ার্ডে, ১৪নং ওয়ার্ডে ১৫ নং, ১৬নং ওয়ার্ডে গতকাল আবার নাসিক ১০ নং ওয়ার্ডে ও গরুর মাংস বিতরণ করছেন মাসুদুজ্জামান। তা ছাড়া ঈদ পর্যন্ত নাসিকের ২৭টি ওয়ার্ড জুড়ে গরুর মাংসের রাজনীতি করবেন মাসুদুজ্জামান মাসুদ।
এদিকে জানা গেছে, গত ৫ আগষ্ট ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ এর কোঅপ্ট সভাপতি হওয়ার মধ্য দিয়ে আলোচনা এসেছিলেন মাসুদুজ্জামান মাসুদ ওরফে মডেল মাসুদ। এর নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের নির্বাচনে সভাপতি হওয়ার খায়েশ থেকে বিরোধে জড়িয়ে ছিলেন কিং মেকার খ্যাত মোহাম্মদ আলী ও বিকেএমইএ এর সভাপতি হাতেমের সাথে। তবে শেষ পর্যন্ত চেম্বারের নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়ে নিজের মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেন। চেম্বার সভাপতি হতে না পেরে টার্গেঠ নেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের এমপি হওয়ার। সেই লক্ষ্যে তিনি সকল কিছু গুছিয়ে এনেছেন বিএনপির স্থানীয় নেতাদের বিভিন্ন প্রলোভনে কাছে টেনে নিজস্ব বলয় তৈরি করে মহানগর বিএনপির অঘোষিত দিকপাল হয়ে উঠতে শুরু করেছিলেন। কেন্দ্র থেকে প্রাথমিকভাবে মনোনয়নও বাগিয়ে এনে ছিলেন। কিন্তু বিধিবাম তার এমপি হওয়ার খায়েশও পূরণ করতে পারেন নাই। ২০২৫ সালের ১৬ ডিসেম্বর নিজেই তিনি নির্বাচন করবেন না বলে সরে দাঁড়ান। এবার তিনি নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র হবেন বলে মাঠে নেমেছেন। এমপি মনোনয়ন ভাগিয়ে নেওয়ার লড়াইয়ে যেভাবে তিনি ধীরে ধীরে মাঠে নিজেকে উপস্থাপন করে ছিলেন এবারো তিনি মেয়র প্রার্থী হওয়ার পূর্বে একই ভাবে নিজেকে উপস্থাপন করতে শুরু করেছেন। শেষ পর্যন্ত তিনি মেয়র পদে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়ে শেষ পর্যন্ত সেখান থেকে ও সরে দাঁড়াবেন এমন গুঞ্জন উঠছে।


