Logo
Logo
×

রাজনীতি

নূর বাঁধনকে সংরক্ষিত আসনের এমপি হিসেবে দেখতে চায় তৃণমূল

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ১৩ মার্চ ২০২৬, ১২:০০ এএম

নূর বাঁধনকে সংরক্ষিত আসনের এমপি হিসেবে দেখতে চায় তৃণমূল

নূর বাঁধনকে সংরক্ষিত আসনের এমপি হিসেবে দেখতে চায় তৃণমূল

Swapno

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এবার সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য বিএনপির কেন্দ্রীয় পর্যায়ে আলোচনাও শুরু হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ থেকে এ আসনে মনোনয়নপ্রার্থী নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় স্থানীয় পর্যায়ের নারী নেত্রীরা ইতিমধ্যেই দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। অনেকে তাদের বায়োডাটাও জমা দিয়েছেন। জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসন ৫০টি। প্রতি ছয়জন সাধারণ সংসদ সদস্যের বিপরীতে একটি সংরক্ষিত নারী আসন বণ্টন করা হবে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি এককভাবে ২০৯টি আসনে জয়লাভ করে। এর ফলে দলটি সংরক্ষিত নারী আসনে ৩৫টি আসন পাবে। এছাড়া জামায়াতে ইসলামী ১১টি, এনসিপি ১টি, স্বতন্ত্র ১টি এবং বাকি দুটি অন্যান্য দলের মধ্যে ভাগ হবে। নারায়ণগঞ্জে পাঁচটি সংসদীয় আসন থাকায় মুন্সিগঞ্জ জেলার সঙ্গে আসনটি ভাগ করতে হয়। ফলে বেশিরভাগ সময় মুন্সিগঞ্জ থেকে সংরক্ষিত নারী সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তবে এবার জেলার চারটি আসনে বিএনপির প্রার্থী জয়লাভ করায় সংরক্ষিত আসনটি নারায়ণগঞ্জের সম্ভাবনা রয়েছে। সেই ক্ষেত্রে নারায়ণগঞ্জের নারী আসনে সম্ভাব্য মনোনয়নপ্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন অনেকেই এর মধ্যে তৃণমূলের আস্থা ও ভরসার বাহক হিসেবে আলোচনার শীর্ষে রয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাংসদ সদস্য এড. আবুল কালামের সুযোগ্য কন্যা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের জেলা যুগ্ম আহ্বায়ক সামছুন নূর বাঁধন। বর্তমানে তাকে নারায়ণগঞ্জের নারী সংরক্ষিত আসনের সাংসদ সদস্য হিসেবে দেখতে ইচ্ছুক তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।

এদিকে সকলেই বলছেন, রাজনৈতিক ও এমপি পরিবার থেকেই নারী সংরক্ষিত আসনে নারী সাংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে সুন্দর নারায়ণগঞ্জ গড়ার ক্ষেত্রে ব্যাপক ভূমিকা পালন করা যাবে। তা ছাড়া দীর্ঘদিন যাবৎ আইনপেশাসহ রাজনৈতিক বিভিন্ন কার্যকলাপে লিপ্ত ছিলেন এই নূর বাঁধন। যাকে ঘিরে নারায়ণগঞ্জের সকল সমস্যার কথা তার জানা রয়েছে। তা ছাড়া বাবার সাংসদ নির্বাচনে হাতিয়ার হয়ে (সদর-বন্দর) চষে বেড়িয়ে ছিলেন এই নূর বাধঁন। যাকে ঘিরে শহরে তার আলাদা একটি পরিচিত তৈরি হয়েছে। যাকে ঘিরে সব মিলিয়ে বর্তমানে যোগ্যতার শীর্ষ তালিকায় রয়েছেন আলোচিত এমপি কন্যা নূর বাধঁন।

জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের জেলা যুগ্ম আহ্বায়ক সামছুন নূর বাঁধন বলেন, আমি বাংলাদেশ জাতীয়বাদী দলের একজন নগন্য রাজপথের কর্মী। বিগত দিনে আন্দোলন সংগ্রামে দলের পক্ষে কাজ করেছি। দল যদি আমাকে যোগ্য মনে করে তাহলে আমাকে সংরক্ষিত আসনে মনোনীত করবে এখানে আমাদের বলার কিছু নেই। এদিকে আমাকে ব্যাক্তি হিসেবে অনেকেই পছন্দ করতে পারে, অনেকেই আমাকে এমপি হিসেবে দেখতে চাইতে পারে এটা তাদের চাওয়া, কিন্তু দল কারে যোগ্য মনে করে সেটাই আসল দেখার বিষয়। আমরা সকলেই দলের প্রতি শ্রদ্ধাশীল দলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।

নারায়ণগঞ্জকে সুন্দর গড়তে তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জের নাগরিক হিসেবে নারায়ণগঞ্জ (সদর-বন্দর) এলাকায় আমরা সুন্দরভাবে বসবাস করতে চাই। ইতিমধ্যে নারায়ণগঞ্জ তথা সারা বাংলাদেশে বর্তমানে আমরা কিশোরগ্যাং ও মাদকের যে অরাজকতা দেখছি সেখান থেকে আমরা পরিত্রান চাই। এটা শুধু আমাদের দাবি নয়, এটা পুরো সমগ্র নারায়ণগঞ্জের দাবি। তা ছাড়া ইতিমধ্যে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাংসদ সদস্য, সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক, জেলা প্রশাসক সকলেই এক টেবিলে বসে নারায়ণগঞ্জের যানজট ও ফুটপাত থেকে হকারমুক্ত করতে কাজ করছেন।

তিনি আরো বলেন, ঈদের পর থেকে তারা আরো সোচ্চারভাবে কাজ করবে। আমরা এমপি ও প্রশাসক সাহেবের কাছে বিনীত নিবেদন রাখবো আপনারা একত্রিত হয়ে কাজের মাধ্যমে শহর যানজট ও হকারমুক্ত করে আমাদের উপহার দিবেন। তা ছাড়া আমরা যারা রয়েছি সকলের এই সকল বিষয়ে মাঠে কাজ করতে হবে। কাজ করতে বড় কোন পোস্ট ক্যারি করতে হয় না। আমাদের এমপি-প্রশাসক মহোদয় যারা রয়েছেন তাদের সঙ্গে একত্রিত হয়ে সুন্দর নারায়ণগঞ্জ গড়লেই জনগণ বর্তমানের নতুন স্বাধীনতার ঘ্রান নিতে পারবেন। সকলেই ঐক্যবদ্ধভাবে প্রচেষ্টা করে কাজ করলে সুন্দর নারায়ণগঞ্জ গড়া সম্ভব।

হর্কাস সমস্যা নিয়ে নূর বাঁধন আরো বলেন, নারায়ণগঞ্জের একটি হর্কাস মার্কেট ছিলো হর্কাসদের পূর্ণবাসনের জন্য যার কারণ হলো এর মাধ্যমে জনগণের দূর্ভোগ কমবে ও হর্কাসরা ও একটি সুন্দরভাবে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারে। কারণ তাদের ও পরিবার রয়েছে তারা ও আমাদের অবিচ্ছেদ্র একটি অংশ। কিন্তু বর্তমানে হর্কাসের অবস্থা এমন হয়েছে যে বাসা থেকে বেড়িয়ে শুধু হর্কাসই রাস্তায় পরে রাস্তায় চার-পাঁচ লাইন করে হর্কাস বসে সব দখল করে রেখেছেন। আশা করছি এমপি ও প্রশাসক মহোদয় তাদের জন্য একটি ব্যবস্থা করে তাদের নিয়ন্ত্রণে আনবেন।
সদর-বন্দরকে একত্রিত করার ক্ষেত্রের পরিকল্পনা নিয়ে তিনি বলেন, আমাদের মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া সদর-বন্দরকে একত্রিত করতে শীতলক্ষ্যা সেতুর যে ভিত্তি প্রস্তুর করে গিয়েছিলো কিন্তু পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসায় দেশনেত্রীর ভিত্তি প্রস্তর যেখানে স্থাপিত হয়েছিলো সেখানে সেই কাজটি আর হয়ে উঠেনি। কিন্তু যেহেতু পূণরায় জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে সেই ক্ষেত্রে এমপি মহোদয় প্রকল্পের ভিত্তিতে সেই কাজটি দ্রুত চালু করার ব্যবস্থা করবে বলে আমরা আশা রাখছি। আমরা দ্রুত শহর-বন্দরকে একত্রিত হিসেবে দেখতে চাই। শীতলক্ষ্যা সেতুটি হলে আমরা সকলেই উপকৃত হবো। নারায়ণগঞ্জ আমাদের সবার সকলে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে সবই করা সম্ভব।


Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন