শহরে শৃঙ্খলা ফেরাবে কালাম-সাখাওয়াত
আজ ২৫ রমজান চলমান থাকলে ও শহরে নিয়ন্ত্রণে আসেনি হকার সমস্যা, হয়নি যানজট নিরসন। তা ছাড়া শহরের গভীর ড্রেন কাজ ও ফেব্রুয়ারীতে ইতি টানেনি। যাকে ঘিরে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে নগরবাসী। এ থেকে নগরবাসীকে পরিত্রান দিতে ইতিমধ্যে বিভিন্ন পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাংসদ সদস্য এড. আবুল কালাম ও নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক এড. সাখাওয়াত হোসেন খান। যা সময়ের কারণে রমজানে না হলে ও ঈদুল ফিতরের পর সেই সকল পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে। তা ছাড়া রমজান মাসে এক টেবিলে একাধিকবার এমপি-প্রশাসক বসে নগর পরিকল্পনাবিদদের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে শৃঙ্খলা নিয়ে নানা আলোচনা ইতিমধ্যে চলমান রয়েছেন। এর মধ্যে অনেকগুলো বাস্তবায়িত হয়েছে যার মধ্যে রয়েছে, গঞ্জে আলী খাল খনন, ময়লার ভাগার ভেঙে পার্ক করা কার্যক্রমসহ শহরের ড্রেনেজ কার্যক্রমের বড় দিকগুলো নিয়ন্ত্রণে আনা। এই সকল পরিকল্পনায় সফল হলে ও এবার ঈদের পর শহরে শৃঙ্খলা ফেরাতে ফুটপাতের হকার নিয়ন্ত্রণ, অটো রিক্সার ডিজিটাল প্লেট বিতরণ, দিগু বাবুর বাজারের সকল অনিয়ম শৃঙ্খলায় আনাসহ শহরের বড় বড় সমস্যাগুলো সমাধানে মাঠে নামতে যাচ্ছেন কালাম-সাখাওয়াত।
এদিকে সংশ্লিষ্টদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঈদুল ফিতরের পর নগরজীবনে কিছুটা শৃঙ্খলা ফেরাতে উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে বলে জানা গেছে । নগরীর চাষাড়া মোড়, ২নং রেলগেট ও বঙ্গবন্ধু সড়ক প্রতিদিনই হাজারো মানুষের চলাচলের কেন্দ্রবিন্দু। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে ফুটপাত দখল, সড়কের দোকান এবং ওপর অস্থায়ী অনিয়ন্ত্রিত অটোরিকশা চলাচলের কারণে এসব এলাকায় স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ফলে পথচারীরা বাধ্য হয়ে ফুটপাত ছেড়ে সড়কে হাঁটছেন, যা একদিকে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে, অন্যদিকে যান চলাচলও ধীরগতির হয়ে পড়ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের বর্তমান প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান এবং নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর-বন্দর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম শহরের শৃঙ্খলা ফেরাতে কিছু পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছেন। তবে রমজান মাসে হকার উচ্ছেদ বা বড় ধরনের অভিযান পরিচালনা করলে সামাজিক প্রতিক্রিয়া তৈরি হতে পারে এই বিবেচনায় আপাতত তা কার্যকর করা । হচ্ছে না। ঈদের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের কথা ভাবা হচ্ছে।
জানা গেছে, শহরের ফুটপাত হকারমুক্ত করতে ইতোমধ্যে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছেন এমপি আবুল কালাম। প্রয়োজনীয় অনুমতি পাওয়া গেলে প্রশাসনকে হকার উচ্ছেদের নির্দেশ দেওয়া হতে পারে। এদিকে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করলে শহরের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা সম্ভব বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন । সড়কের বড় অংশ দখল হয়ে যায় অস্থায়ী দোকান ও হকারদের ভিড়ে। এদিকে প্রতিদিন বিকেল গড়াতেই চাষাড়া ও আশপাশের এলাকায় ফুটপাত ও সব মিলিয়ে একসময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। জরুরি প্রয়োজনে ক্রেতাদের ভিড়, অটোরিকশার এলোমেলো অবস্থান এবং ব্যক্তিগত গাড়ির চাপ বের হওয়া মানুষ, এমনকি অনেক সময় অ্যাম্বুলেন্সও দীর্ঘ সময় যানজটে আটকে নগরবাসীর অভিযোগ, মাঝেমধ্যে প্রশাসনের অভিযান চালানো হলেও তা থাকে না দীর্ঘস্থায়ী হয় না কয়েকদিনের জন্য কিছুটা শৃঙ্খলা ফিরলেও পরে আবার আগের অবস্থায় ফিরে যায় সবকিছু। বিশেষ করে বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত চাষাড়া ও ২নং রেলগেট এলাকায় হকারদের ভিড় কয়েকগুণ বেড়ে যায়। একই সঙ্গে অবৈধভাবে অটোরিকশা দাঁড় করানো এবং মাঝরাস্তায় যাত্রী উঠানামা করানোর প্রবণতা যানজটকে আরও তীব্র করে তুলছে। যানজটের পাশাপাশি নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ভিড়ের সুযোগ নিয়ে প্রায়ই মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। ঈদ সামনে রেখে কেনাকাটার ভিড় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এমন অপরাধের আশঙ্কাও বাড়ছে। যদিও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা এলাকায় দায়িত্ব পালন করেন, তবুও ভিড়ের সুযোগে অপরাধীরা দ্রুত সরে পড়ায় অনেক সময় তাৎক্ষণিক প্রতিকার পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। এর মধ্যে সিটি করপোরেশনের চলমান ড্রেন নির্মাণকাজও ভোগান্তি বাড়িয়েছে। কিছু সড়কে আংশিক খোঁড়াখুঁড়ি ও নির্মাণসামগ্রী ফেলে রাখায় চলাচলের পথ সংকুচিত হয়ে পড়েছে। ফলে সামান্য চাপেই দীর্ঘ যানজট তৈরি হচ্ছে। নগরবাসীর প্রত্যাশা, হকারদের জন্য নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণ, অটোরিকশার জন্য শৃঙ্খলাবদ্ধ স্ট্যান্ড এবং নিয়মিত নজরদারির মাধ্যমে স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করা হবে। নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, কেবল সাময়িক অভিযান দিয়ে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। ফুটপাত পথচারীদের জন্য উন্মুক্ত রাখা, গণপরিবহনের নির্দিষ্ট স্টপেজ নির্ধারণ এবং ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমেই টেকসই সমাধান আসতে পারে। ঈদের পর এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দীর্ঘদিনের ভোগান্তি থেকে কিছুটা স্বস্তি পেতে পারে নারায়ণগঞ্জের নগরবাসী এমনটাই আশাবাদী। তা ছাড়া শৃঙ্খলা ফিরিয়ে সকল কার্যক্রম বাস্তবায়িত রাখতে মনিটরিং কমিটি ও রাখা হবে বলে জানা গেছে। দুই জনপ্রতিনিধির চমকে এবার দৃষ্টান্ত ফিরবে নগরে।


