নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব বিস্তার করে আসা ফতুল্লা থানা বিএনপি বর্তমানে এক অস্থির ও বিভক্ত পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে সময় পার করছে। দলীয় সিদ্ধান্তে একের পর এক বহিষ্কার এবং তৃণমূলের ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড কমিটি স্থগিতের ফলে সাংগঠনিক কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে করে একসময়কার শক্তিশালী এই ঘাঁটি এখন দিশেহারা অবস্থায় পড়েছে। ফতুল্লা থানা এলাকা যার অন্তর্ভুক্ত কুতুবপুর,
কাশিপুর, এনায়েতনগর, বক্তাবলী ও ফতুল্লা ইউনিয়ন দীর্ঘদিন ধরেই বিএনপির অন্যতম শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল। স্থানীয় নির্বাচন থেকে শুরু করে জাতীয় রাজনীতিতেও এ অঞ্চলের নেতাকর্মীদের সক্রিয় উপস্থিতি ছিল দৃশ্যমান। তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ না করার অভিযোগে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে থানা বিএনপির বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী নেতাকে বহিষ্কার করা হয়।
একই সঙ্গে তৃণমূল পর্যায়ের ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড কমিটিগুলো স্থগিত করে দেওয়া হয়, যা সরাসরি সংগঠনের কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। স্থানীয় পর্যায়ের অনেক নেতাকর্মীর দাবি, এই সিদ্ধান্তের ফলে মাঠপর্যায়ে দলীয় কার্যক্রম প্রায় স্থবির হয়ে পড়ে এবং নির্বাচনে দল মনোনীত জোট প্রার্থীর ভরাডুবির পেছনে এটিও একটি বড় কারণ হিসেবে কাজ করেছে।
নির্বাচনের পরও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। বরং বহিষ্কৃত নেতারা আলাদাভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন, যা দলের অভ্যন্তরীণ বিভাজনকে আরও স্পষ্ট করে তুলছে। অন্যদিকে যেসব নেতা এখনো পদে বহাল রয়েছেন, তাদের মধ্যেও গ্রুপিং ও অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব প্রকট আকার ধারণ করেছে।
ফলে সাংগঠনিক ঐক্য ও সমন্বয়ের অভাবে থানা বিএনপি কার্যত দুর্বল অবস্থানে রয়েছে। এদিকে যেসব ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড কমিটি স্থগিত রয়েছে, তাদের নেতাকর্মীরা নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভুগছেন। দলীয় কার্যক্রমে সক্রিয় অংশগ্রহণ করলেও সাংগঠনিক স্বীকৃতি না থাকায় তারা অনেকটাই নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছেন বলে জানা গেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, একটি শক্তিশালী সাংগঠনিক ভিত্তি ধরে রাখতে হলে তৃণমূলকে সক্রিয় রাখা এবং অভ্যন্তরীণ বিরোধ দ্রুত সমাধান করা জরুরি। অন্যথায় ফতুল্লা থানা বিএনপির এই অচলাবস্থা দীর্ঘমেয়াদে দলের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। সবমিলিয়ে বহিষ্কার, কমিটি স্থগিত এবং অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে একসময়কার শক্তিশালী ফতুল্লা থানা বিএনপি এখন সাংগঠনিকভাবে দুর্বল ও দিকনির্দেশনাহীন অবস্থায় রয়েছে এমনটাই মনে করছেন স্থানীয় নেতাকর্মী ও পর্যবেক্ষকরা।
এ বিষয়ে ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি শহিদুল ইসলাম টিটু বলেন, দলের সিদ্ধান্তেই থানা কমিটির কতিপয় নেতাদের বহিষ্কার করা ও ইউনিয়ন -ওয়ার্ড কমিটি স্থগিত করা হয়েছে। দল পরবর্তীতে যে সিদ্ধান্ত দিবে সেভাবেই কাজ করা হবে এবং নির্দেশনা বাস্তবায়ন করা হবে।