মনোনয়ন বঞ্চিতদের টার্গেট স্থানীয় সরকার নির্বাচন
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৮ মার্চ ২০২৬, ১২:০০ এএম
মনোনয়ন বঞ্চিতদের টার্গেট স্থানীয় সরকার নির্বাচন
ত্রয়োদশ জাতীয় সাংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন না পেয়ে বঞ্চিত হওয়া নেতাকর্মীদের এবার শেষ সুযোগ স্থানীয় সরকার নির্বাচনে। সেই দিকে লক্ষ্য রেখেই দৌড়ঝাঁপ করছেন মনোনয়ন বঞ্চিতরা। একই সাথে মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে ও বিদ্রোহ করা একাধিক প্রার্থী এবার ব্যাকফুটে থেকেও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আশা বুনছেন অনেকেই। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর মেয়র, চেয়ারম্যান ও কাউন্সিলরদের পদত্যাগের প্রেক্ষাপটে অন্তবর্তীকালীন সরকার সারাদেশের ন্যায় নারায়ণগঞ্জের সিটি করপোরেশন , পৌরসভা, উপজেলা পরিষদের জনপ্রতিনিধিদের অপসারণ করে।
প্রশাসক নিয়োগ দেয়া হয় সরকারি কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে ইউপিগুলোতে মেম্বারদের পদ থাকায় মেম্বারদের মধ্য থেকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেয়া হলে ও কার্যক্রমে দৃঢ়গতি লক্ষ্য করা যায়। যাকে ঘিরে ত্রয়োদশ নির্বাচনের পর বিএনপি ক্ষমতায় বসে মাস না ঘুড়তেই জেলা পরিষদ, সিটি করপোরেশন পদগুলোতে সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন বঞ্চিত বিএনপি নেতাদের প্রশাসক পদে নিয়োগের মাধ্যমে দলীয় ভাবে তাদের মূল্যায়িত করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে মনোনয়ন বঞ্চিত এড. সাখাওয়াত হোসেন খান ও জেলা পরিষদে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন অধ্যাপক মামুন মাহমুদ।
ইতিমধ্যে প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব দিয়ে মূল্যায়িত করা হলে ও দ্রুত দেওয়া স্থানীয় নির্বাচনে কে পাচ্ছেন মেয়র, চেয়ারম্যান হিসেবে বিএনপির মনোনয়ন সেটাই দেখার বিষয়। তা ছাড়া কাউন্সিলর, উপজেলা এবং ইউপি পদে বিএনপির মনোনয়ন পেতে উদগ্রীব হয়ে আছেন নারায়ণগঞ্জ জেলার সকল উপজেলা এবং ইউপির বিএনপির নেতাকর্মীরা। নির্বাচনের পরপরই ঈদুল ফিতর চলে আসায় স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আওয়াজ না জমে উঠলে ও ঈদ চলে যাওয়ায় এবার নির্বাচনী হাওয়া বইতে শুরু করছে নারায়ণগঞ্জে। এদিকে মেয়র, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা সাংসদ সদস্য নির্বাচনে মনোনয়ন বঞ্চিত হওয়াদের মূল টার্গেট এই চার পদের দিকে নজর।
এদিকে বিগত সরকারের সময় থেকে আন্দোলন সংগ্রামে হামলা মামলায় নির্যাতিত এবং ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন বঞ্চিত অনেকেই এবার উপজেলার প্রশাসক পদে প্রশাসন থেকে পরিবর্তন করে সিটি করপোশন এবং জেলা পরিষদের মত স্থানীয় বিএনপির প্রভাবশালী নেতারা প্রশাসক পদে উপজেলার চেয়ারে বসতে চাচ্ছেন। সেই সাথে ইউনিয়ন পরিষদগুলোতেও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের জায়গায় বিএনপির স্থানীয় প্রভাবশালী নেতারা ইউপি চেয়ারম্যান পদে বসতে চাচ্ছেন। এতে করে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে একপ্রকার বিশাল ধোয়াশা সৃষ্টি হতে যাচ্ছেন।
কেননা বর্তমান সরকারের ইচ্ছায় তাদের দলীয় নেতাদের স্থানীয় সরকারের সকল জায়গাগুলোতে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিয়ে দিচ্ছেন। এতে করে বর্তমান সরকারের ইচ্ছেমত ছাড়া সহসাই স্থানীয় সরকার নির্বাচনে মুখ দেখবে না স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিতে চাওয়া প্রার্থীরা। ইতিমধ্যে সিটি কর্পোরেশন, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা এগুলোই এবার মনোনয়ন বঞ্চিতদের টার্গেট হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ইতিমধ্যে ১১ দলীয় জোট স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছে। সেই হিসেবে দ্রুত বিএনপি ও মাঠে নামতে যাচ্ছে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে। এদিকে বিএনপির মহা-সচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছিলেন, চলতি বছরেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে সেই হিসেবেই দলীয় নির্দেশনা মোতাবেক মাঠে নামবে বিএনপি। এর আগে মনোনয়ন চূড়ান্ত করতে যে যার যার অবস্থান হাইকমান্ডে শক্তিশালী করার প্রতিযোগীতা চালাচ্ছেন।


