দিন-তারিখ ঘোষণা না হলেও সিটি কর্পোরেশন, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে নিজস্ব বলয়ের শক্তি বাড়াতে মাঠ দাপাচ্ছে বিএনপি নেতাকর্মীরা। নান ইস্যুতে পাল্টাপাল্টি শোডাউন করছেন সম্ভাব্য প্রত্যাশীরা। যাকে ঘিরে নির্বাচনের পর ফের বাড়ছে দ্বন্দ্ব। তা ছাড়া দিন যতই যাচ্ছে ততই বাড়ছে গ্রুপিং। এদিকে গত বছরের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর থেকে বিএনপির বিভিন্ন গ্রুপের আধিপত্য বিস্তারের বাড়ছে এগুলোর পেছনে রয়েছে অর্থনৈতিক স্বার্থ।
বিশেষ করে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীরা নিজেদের আধিপত্য জানান দিতেই গ্রুপিং-কোন্দলের ঘটনা বেড়েছিলো। যা বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের হুঙ্কারে একত্রিত হলে ও জাতীয় নির্বাচনের পর ফের বিশৃঙ্খলা ও গ্রুপিংয়ের দিকে যাচ্ছেন। যার কারণ প্রত্যেকেরই নিজস্ব বলয় আছে। অনুগত লোকেরা আছে। তারা সবাই প্রার্থী হতে চাইছে, সৃষ্টি করতে চাইছেন নিজেদের অবস্থান। তা ছাড়া ইতিমধ্যে ত্রয়োদশ নির্বাচনে মনোনয়ন বঞ্চিত একাধিক নেতাকর্মীরা এবার মাঠে সরব রয়েছে স্থানীয় নির্বাচনকে ঘিরে। ইতিমধ্যে বর্তমান সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক এড. সাখাওয়াত হোসেন খান তিনি নিজে ও আগামী সিটি নির্বাচনের মেয়র প্রার্থী তা ছাড়া সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছে, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুকুল ইসলাম রাজীব, মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব এড. আবু আল ইউসুফ খান টিপু, মাসুদুজ্জামান মাসুদ, শিল্পপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব। এরা বর্তমানে যে যার যার অবস্থান থেকে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে মাঠে সরব রয়েছে। তা ছাড়া এরা বিগত দিনে একত্রিত থাকলে ও বর্তমানে বিভক্ত ছিন্নছাড়া হয়ে নিজ নিজ গ্রুপিং করে কাজ করছেন। একই সাথে জেলা পরিষদ ও উপজেলা পরিষদে রয়েছে ডজনে ডজনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী যারা ত্রয়োদশ নির্বাচনে একত্রিতভাবে কাজ করলে ও বর্তমানে নিজেদের অবস্থান শক্ত গড়তে নানা গ্রুপিংয়ে জড়িয়ে আলাদা অবস্থান দেখাচ্ছেন। সেখানে যার অর্থনৈতিক শক্তি বেশি সেখানেই ঝুঁকছে অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।
সূত্র বলছে, সরকার পতনের পর মেয়র, চেয়ারম্যান ও কাউন্সিলরদের পদত্যাগের প্রেক্ষাপটে অন্তবর্তীকালীন সরকার সারাদেশের ন্যায় নারায়ণগঞ্জের সিটি করপোরেশন , পৌরসভা, উপজেলা পরিষদের জনপ্রতিনিধিদের অপসারণ করে। প্রশাসক নিয়োগ দেয়া হয় সরকারি কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে ইউপিগুলোতে মেম্বারদের পদ থাকায় মেম্বারদের মধ্য থেকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেয়া হলে ও কার্যক্রমে দৃঢ়গতি লক্ষ্য করা যায়। যাকে ঘিরে ত্রয়োদশ নির্বাচনের পর বিএনপি ক্ষমতায় বসে মাস না ঘুড়তেই জেলা পরিষদ, সিটি করপোরেশন পদগুলোতে সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন বঞ্চিত বিএনপি নেতাদের প্রশাসক পদে নিয়োগের মাধ্যমে দলীয় ভাবে তাদের মূল্যায়িত করা হচ্ছে।
ইতিমধ্যে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে মনোনয়ন বঞ্চিত এড. সাখাওয়াত হোসেন খান ও জেলা পরিষদে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন অধ্যাপক মামুন মাহমুদ। ইতিমধ্যে প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব দিয়ে মূল্যায়িত করা হলে ও দ্রুত দেওয়া স্থানীয় নির্বাচনে কে পাচ্ছেন মেয়র, চেয়ারম্যান হিসেবে বিএনপির মনোনয়ন সেটাই দেখার বিষয়। তা ছাড়া কাউন্সিলর, উপজেলা এবং ইউপি পদে বিএনপির মনোনয়ন পেতে উদগ্রীব হয়ে আছেন নারায়ণগঞ্জ জেলার সকল উপজেলা এবং ইউপির বিএনপির নেতাকর্মীরা।
নির্বাচনের পরপরই ঈদুল ফিতর চলে আসায় স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আওয়াজ না জমে উঠলে ও ঈদ চলে যাওয়ায় এবার নির্বাচনী হাওয়া বইতে শুরু করছে নারায়ণগঞ্জে। এদিকে মেয়র, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ। সাংসদ সদস্য নির্বাচনে মনোনয়ন বঞ্চিত হওয়াদের মূল টার্গেট এই তিন পদের দিকে নজর। এদিকে গত সাড়ে ১৭ বছর ধরে ক্ষমতার ছিলো বিএনপি। এ সময় বিএনপি ও এর অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীরা মামলা-হামলায় নাস্তানাবুদ হয়ে পড়েন। অনেকেই অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। এরই জেরে বিগত আওয়ামী লীগ সরকার জনরোষে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর বিএনপি ও এর অঙ্গ-সংগঠনের নিপীড়িত নেতাকর্মীরা তাদের সাড়ে ১৭ বছরের লোকসান পুষিয়ে নিতে এবং এলাকায় আধিপত্য ধরে রাখতে বিভিন্ন এলাকায় মহড়ার পাশাপাশি বিভিন্ন শিল্পকারখানায় নিজেদের অবস্থান জানান দিতে থাকেন। এমতা অবস্থায় মাথায় জনপ্রতিনিধি দায়িত্বে থাকার কথা চিন্তা করে ত্রয়োদশ নির্বাচনে হয়েছিলেন মনোনয়ন প্রত্যাশী সেখান থেকে বঞ্চিত হয়েও অনেকেই হয়েছেন মূল্যায়িত হয়েছেন দীর্ঘদিন যাবৎ নির্যাতিত অনেকেই এখনো অপক্ষোয় রয়েছে। ইতোমধ্যে নারায়ণগঞ্জ-১ আসনে মুস্তাফিজুর রহমান দীপু, নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে নজরুল ইসলাম আজাদ, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে আজহারুল ইসলাম মান্নান ও নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে আবুল কালাম এমপি নির্বাচিত হয়েছেন।
এদের ছাড়াও জেলা বিএনপি আহবায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ জেলা পরিষদে ও মহানগর বিএনপি আহবায়ক সাখাওয়াত হোসেন খান নাসিকের প্রশাসকের নিয়োগ পেয়েছেন। তাদের ছাড়াও আওয়ামীলীগ সরকার বিরোধী আন্দোলনে নির্যাতিত হয়েছিলেন মহানগর বিএনপি সাবেক সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল, মহানগর বিএনপি বর্তমান সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু, যুগ্ম আহবায়ক আবুল কাউসার আশা, জেলা বিএনপি যুগ্ম আহবায়ক মাসুকুল ইসলাম রাজীব। এরা বর্তমানে সিরিয়ালে রয়েছে। জানা গেছে, সহ আসন্ন সিটি কর্পোরেশন, জেলা পরিষদ ও উপজেলা পরিষদে চেয়ারম্যান ও মেয়র প্রার্থী হিসেবে তোড়জোড় চালিয়ে যাচ্ছেন উপরোক্ত নেতারা গুরুত্বরপূর্ণ পদে মাঠ পর্যায়ে নেতাদের স্থান দেয়া হবে বলে জানা গেছে হাইকমান্ড সূত্রে। যাকে ঘিরে নয়া নয়া গ্রুপিংয়ে আলাদাভাবে নিজেদের শক্তি জানান দিচ্ছেন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রার্থীরা।


