টাকার ওজনে আলোচনায় এবার জেলা ছাত্রদল
দুই বছর ধরেই বিলুপ্ত অবস্থায় থাকা নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের কমিটি এবার টাকার ওজনে আসছে বলে উড়ছে নানা গুঞ্জন। কে বেশি টাকা দিয়ে কমিটি বাগিয়ে আনবে তা নিয়ে চলছে প্রতিযোগীতা। তা ছাড়া জেলার আওতাধীন রূপগঞ্জ বা আড়াইহাজার থেকে ফের সভাপতি/সাধারণ সম্পাদক পেতে মরিয়া হয়ে উঠছে একদল। যাকে ঘিরে দীর্ঘ দুই বছর যাবৎ চলছে না কমিটির কোন হিসেব-নিকেশ।
এদিকে জেলা ছাত্রদলের বর্তমান প্রার্থী সকলেই গত ৫ই আগষ্টের পর আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বুনে গেছেন। যাকে ঘিরে কোটি টাকা দিয়ে কমিটি ভাগিয়ে আনতে পারলে ফের ৫ বছর দিব্বি দলের নামে অপকর্ম করে বেড়ানো সম্ভব হবে দিকেই রয়েছে প্রার্থীরা। যাকে ঘিরে সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক পদে আসতে চলছে দর-কষাকষি এমনটাই জানিয়েছে সূত্র। ইতিমধ্যে জেলা ছাত্রদলের কমিটিতে স্থান পেতে ইতিমধ্যে তোড়জোড় চালিয়ে যাচ্ছেন। জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি নাহিদ হাসান ভূঁইয়া, জুবায়ের রহমান জিকু, মাসুম বিল্লাহ, সুলতান মাহমুদ, মাসুদুর রহমান মাসুদ, মোবারক হোসেন, জাকারিয়া ভূঁইয়া, মেহেদী হাসান দোলন।
এরা সকলেই ফুলে ফেঁপে এবার টাকার ওজনে কমিটি পেতে নান লবিং ও দৌড়ঝাঁপ চালিয়ে যাচ্ছেন এমনটাই ছাত্রদল সূত্র জানিয়েছে। এর বাহিরে ও পট পরিবর্তনের পর নতুন ছাত্রদল নেতা সেঁজে তারাও হাইকমান্ডে নানাভাবে লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন। যাকে ঘিরে গত ৫ আগষ্টের পর কোন অপকর্মে না জড়িয়ে দলের পক্ষে থাকা নেতাকর্মী অনেকেই টাকা ওয়ালাদের কারণে অবমূল্যায়িত হতে পারে। এদিকে বর্তমানে টাকার ওজনে জেলা ছাত্রদল গত ২ বছর যাবৎ কমিটিবিহীন নিশ্চুপ থাকা ছাত্রদল ফের কমিটি নিয়ে আলোচনায়। তা ছাড়া আন্দোলন সংগ্রামে জেলা ছাত্রদলের পক্ষে সর্বদা বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করা অনেকেই এখন যুবদল-স্বেচ্ছাসেবক দলে চলে যাচ্ছেন। যাকে ঘিরে যোগ্যতায় শূন্যস্থানে জেলা ছাত্রদল।
কিন্তু এই কমিটি বিলুপ্ত হওয়ার দুই বছর অতিবাহিত হতে চললেও এখন পর্যন্ত নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়নি। আর এই কমিটি বিলুপ্ত হয়ে বর্তমানে নেতৃত্ববিহীন অবস্থায় রয়েছে নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদল। এই অবস্থায় নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের কোনো কার্যক্রম পরিলক্ষিত হয় না। কোনো কর্মসূচিতেও যেন তাদের সরব অবস্থান দেখা মিলে না। দলীয় কোনো কর্মসূচিতেই জেলা ছাত্রদলের তেমন সরবতা দেখা যাচ্ছে না।
কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচির ক্ষেত্রেও তাদের নিরব ভূমিকাই পরিলক্ষিত হচ্ছে। ফলে দিন যাওয়ার সাথে ছাত্রদলের কমিটি ঘোষণা জরুরী হয়ে পড়েছে। তা ছাড়া জেলা ছাত্রদল এলোমেলো অবস্থায় থাকায় সংগঠনে শুরু হয়েছে দ্বন্দ্ব, কোন্দল, উত্তেজনা। তা ছাড়া আধিপত্য বিস্তারে কয়েক দফায় ছাত্রদল সংঘর্ষ দ্বন্দ্ব বহু বহু। এর আগে গত ২০২৩ সালের ২৬ জানুয়ারি নাহিদ হাসান ভূঁইয়াকে সভাপতি এবং জুবায়ের রহমান জিকুকে সাধারণ সম্পাদক করে ৯ সদস্য বিশিষ্ট নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের নতুন কমিটির অনুমোদন দিয়েছিলো জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদ। তৎকালিন কেন্দ্রীয় সভাপতি কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ ও সাধারণ সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েল নয় সদস্যের এ কমিটির অনুমোদন দেন।
কমিটির বাকীরা হলেন- সিনিয়র সহ- সভাপতি সুলতান মাহমুদ, সহ- সভাপতি সাগর সিদ্দিকী, সভাপতি আতা ই রাব্বি, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক জাকারিয়া ভূঁইয়া, যুগ্ম সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, যুগ্ম সম্পাদক আবু তাহের রিফাত এবং সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান দোলন । কমিটিতে স্থান পেয়েই সংগঠনের নয় নিজেদের আখেড় নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন নেতারা। যাকে ঘিরে মহানগর ছাত্রদল পারলে ও পরীলক্ষিত করতে পারেনি নিজেদের ইউনিট কমিটিগুলো। তা ছাড়া নিজেরা ও হতে পারেনি পূর্ণাঙ্গ। তা ছাড়া দলীয় আন্দোলন কিংবা বেষম্যবিরোধী আন্দোলন জেলা ছাত্রদলের প্রার্থীদের ছিলো না কাউর কোন ভূমিকা।
কিন্তু গত ৫ ই আগষ্টের পরবর্তীতে নিজ নিজ এলাকায় চাঁদাবাজি, আওয়ামী লীগ শেল্টার, দখল দারিত্বসহ নানা অপকর্মে জড়িয়ে পরেন জেলা ছাত্রদল। বন যান কোটি কোটি টাকার মালিক। রূপগঞ্জে নিজ নিজ এলাকায় গাউছিয়া, দাউদপুর, ভূলতায় নানা অপকর্মে জড়িয়ে পরে একই সাথে অনেকেই আড়াইহাজারের কালাপাহাড়িয়া, বাঞ্চারামপুরসহ বহু জায়গায় অপকর্ম চালিয়ে বেড়াচ্ছেন। আবার সোনারগাঁওয়ে আবার অনেকে ফতুল্লায় অপকর্ম চালিয়ে কোটি কোটি টাকার মালিক বনে এখন কমিটিতে স্থান পেতে মাঠে নেমেছেন।
ইতিমধ্যে অনেকেই টাকা দিয়ে কমিটি পেতে দৌড়ঝাঁপ চালিয়ে যাচ্ছেন। যাকে ঘিরে হাইকমান্ড ম্যানেজ হলেই ৭ দিনের মধ্যে আসতে পারে কমিটি। ইতিমধ্যে কোটি কোটি টাকার ছড়াছড়ি হচ্ছে। দলের পক্ষে সর্বদা আন্দোলন সংগ্রাম করে দলের বদনাম না চেয়ে অপকর্মে না জড়িয়ে আমরাই এবার পিছিয়ে, যারা অপকর্মে চ্যাম্পিয়ন তারাই সামনের কাতারে। এবারের কমিটিতেই পরিলক্ষিত হবে, কারা মূল্যায়িত হয়।


