Logo
Logo
×

রাজনীতি

বিচ্ছিন্ন হচ্ছে বিএনপি নেতারা

Icon

রাকিবুল ইসলাম

প্রকাশ: ০১ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০০ এএম

বিচ্ছিন্ন হচ্ছে বিএনপি নেতারা

বিচ্ছিন্ন হচ্ছে বিএনপি নেতারা

Swapno

মুখে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার কথা বললেও বাস্তবে তার চিত্র ভিন্নরকম ভিতরে। বিএনপির শীর্ষ নেতা থেকে শুরু করে স্থানীয় পর্যায়ের নেতারা সকলেই ঐক্যের কথা বলে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে তাহলে দলের মাঝে গ্রুপিং কোন্দল কিংবা বিভক্ত কেন তৈরী হয়। তার উত্তরে অনেকেই বলবে বলয় ভিত্তিক রাজনীতি, পেশি শক্তির রাজনীতি। কে কার থেকে বেশি লোক দেখিয়ে শীর্ষ নেতাকে খুশি করতে পারে। আর এতে করেই তৈরী নিজেদের মাঝে দুরত বা বিভক্ত তৈরী হয়।


তাছাড়া রাজনীতিতে রং বদলায়। কখনো সময়ের ব্যবধানে, আবার কখনো বা ক্ষণে ক্ষণে। রাজনীতি-বিজ্ঞানের দীক্ষা যা-ই হোক, বাস্তবে রাজনীতি একই কক্ষপথে চলে কম। এদিকে বাংলাদেশের ইতিহাসের বাঁকে বাঁকে তার প্রমাণ পাওয়া যায়। সেই চিত্র নারায়ণগঞ্জের বিএনপি নেতাদের মাঝেও তৈরী হয়েছে বলে মনে করে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। হেনরি ফোর্ডের একটি উক্তি স্মরণযোগ্য।


তিনি বলেছেন-রাজনীতিকে সৎ রাখতে পারে একটি মাত্র উদ্দেশ্য, তা হলো দেশের এবং তার জনগণের জন্য ভালো কিছু করার উদ্দেশ্য।এ দেশ ও দেশের জনগণের কল্যাণের যে রাজনীতি, সেটি বাংলাদেশে অনুপস্থিত বহুকাল। আখের গোছানো আর জনগণকে জিম্মি করে গদি টেকানোর রাজনীতির চর্চাই দেখেছে এ দেশের দুর্ভাগা জনগণ।


অন্যদিকে গত ৫ আগস্টের অভূতপূর্ব গণবিপ্লবের পর রাজনীতি নতুন কক্ষপথে চলছে। দেড় দশকের নিপীড়ক শাসকগোষ্ঠী তীব্র গণআন্দোলনের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর রাজনীতির সমীকরণেও চলছে বদলের হাওয়া। এ ক্ষেত্রে দেশি-বিদেশি ক্ষমতার নিয়ামক শক্তিগুলোর কৌতূহলি দৃষ্টি রয়েছে রাজনৈতিক শক্তিগুলোর দিকে। বিদ্বেষ আর হিংসা-হানাহানির রাজনীতির পরিবর্তে উদারতা, সহনশীলতা ও জনবান্ধব রাজনীতির বার্তা দেওয়ার চেষ্টা লক্ষ করা যাচ্ছে। এটি খুবই আশাব্যঞ্জক।


অপরদিকে দীর্ঘ দের যুগধরে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির শীর্ষ থেকে তৃনমুল পর্যন্ত নির্যাতন অত্যাচার জুলুমের শিকার হয়েছে। আবার অনেকেই বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্রে কিংবা দেশের বাইরে গিয়ে প্রবাস জীব কাটিয়েছেনেতারা। কিন্তু জুলাইয়ে পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে সারাদেশের ন্যায় অন্যান্য দলের মত বিএনপি নেতারা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে। তার মাঝে বহুকাঙ্খিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে ভোটাররা ভোট প্রয়োগের মাধ্যমে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপি ২১২ জন র্সসদ সদস্য নিয়ে সরকার গঠন করেন।


বিএনপি দেশ পরিচালনায় আসলেও সাংগঠনিক ভাবে এখনো তারা মনোযোগি হন নাই। তার মাঝে নারায়ণগঞ্জ জেলা মহানগর বিএনপির একাধিক সহযোগি সংগঠনের কমিটি না থাকায় দল শক্তিশালী হওয়ার চেয়ে দুর্বল হয়ে যাচ্ছে। সেদিকে দলের নেতৃবৃন্দ কতটুকু মনোযোগি তা দেখার বিষয়।


তথ্যমতে, ত্রয়োদশ নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীদের বিপক্ষে স্বতন্ত্র প্রার্থী অনেক হেভিওয়েট নেতা দল থেকে বহিস্কার হয়ে এখন বিলুপ্তির পথে রয়েছেন। তাদেরকে আগামীতে দলে ফিরিয়ে নেয়া হবে কি তা নিয়ে তেমন কোন আলোচনা নেই। এছাড়া যারা দলের পদে রয়েছেন তাদের অনেকেই নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি আসনের মাঝে চারটিতে সাংসদ হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।তার মাঝে নারায়নগঞ্জ-১ আসনে সাংসদ হিসেবে নির্বাচিত হয়ে জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক মোস্তাফিুজর রহমান দিপু ভূইয়া জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।


একই সাথে নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে এমপি নির্বাচিত হয়েছেন ঢাকা বিভাগীয় সহ সাংগঠনিক স্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে সাংসদ হয়েছেন সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজহারুল ইসলাম মান্নান, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য হয়ে দায়িত্ব পালন করছেন এড আবুল কালাম। জেলার সংসদ সদস্যরা তাদের অনুসারীদের নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু দলের সাংগঠনিক নিয়ে তেমন তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না। তাদের বিপক্ষে যারা নির্বাচন করে বহিস্কার হয়েছেন তারা এখন উধাও হয়ে রয়েছেন। তাদেরকে সামাজিক কিংবা অন্য কোন কর্মকান্ডে দেখা যাচ্ছে না। আর এতে করে বিহস্কার হওয়া অনুসারীরা দল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে রয়েছে।


বিশেষ করে জেলা বিএনপির সাবেক সভাপিত ও সাবেক সাংসদ গিয়াস উদ্দিন নির্বাচনের অংশ গ্রহন  করে বহিস্কার হওয়ায় তাকে তেমন দেখা যাচ্ছে না। এই নেতার সাথে তার অনুসারীরা তার পক্ষে নির্বাচনে কাজ করা অনেকেই দল থেকে বহিস্কার হয়ে এখন বিচ্ছিন্ন হয়ে নিজেদের মত করে সময় কাটাচ্ছে। এছ্ড়াা বিএনপি নেতা শিল্পপতি শাহ আলম নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে শাহ আলম নির্বাচনে পরাজীত হয়ে রাজনীতি না করার ঘোষনা দিয়েছে।


তার সাথে তার অফনুসারীদের আর দেখা যাচ্ছে না। তাদের সাথে সাবেক এমপি আতাউর রহমান আঙ্গুর, রেজাউল করিম তাদের পক্ষে কাজ করে দলের বাইরে রয়েছে। তাদেরকে কেউ এখন আর কদর করে না। অথচ যখন দলের পদে ছিলেন তখন ঠিকই কদর করা হত। কিন্তু বিচ্ছিন হওয়ার কারনে তা আর নেই।


এছাড়া পদে থাকা দলের নেতাদের মাঝে এখন অনেকেই নিজেদের মতে বলয় তৈরী করতে গিয়ে সাংগঠনকি ভাবে দলকে দুর্বল করে ফেলছে সেদিকে তাদের নজর নেই বললেই চলে। সাংগঠনিক ভাবে দলকে শক্তিশালী করা জন্য কারো কোন উদ্যোগ নেই। তবে জনপ্রতিনিধি হওয়ার জন্য সবাই ব্যস্ত সময় পার করছেন।


কিভাবে গুছিয়ে নিজে নির্বাচনে অংশ গ্রহন স্থানীয় ভাবে কোন চেয়ারে বসতেদ পারেন সেদিকে এখন। আর এ কারনেই যে যার মত করে বিচ্ছিন্ন হয়ে রয়েছেন। আর এই ভাবে যদি চলতে থাকে তাহলে বিএনপির পতন হতে হয়ত বেশি দিন সময় লাগবে না। কেননা দলের সাংগঠনিক ভাবে নেতাকর্মীরা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লে তখন  দল দুর্বল হয়ে পড়ে।


বিশ্লেষকদের মতে, রাজনীতিকদের রাজনীতি-জ্ঞান নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। বাংলাদেশ এর ব্যতিক্রম নয়। জর্জ বার্নার্ড শ’র ভাষায়-‘কিছুই জানে না; কিন্তু ভাবে যে, সেসব জানেন। রাজনীতিকদের প্রচুর পড়াশোনা করতে হয়। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে সম্যক জ্ঞান থাকতে হয়। ভূরাজনীতির মারপ্যাঁচে তালগোল পাকালে চলে না। রাজনীতি এক অর্থে দাবা খেলা। চালে ভুল করলেই রাজা চেক অনিবার্য। সেই কোন রাজনীতিবিধ ভুল করলে তাদের ৪০ থেকে ৫০ বছরের ক্যারিয়ার শেষ হয়ে এক নিমিষেই।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন