Logo
Logo
×

রাজনীতি

নির্বাচনের পর ছন্নছাড়া বিএনপি

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ০২ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০০ এএম

নির্বাচনের পর ছন্নছাড়া বিএনপি

নির্বাচনের পর ছন্নছাড়া বিএনপি

Swapno

ত্রয়োদশ জাতীয় সাংসদ নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় আসলেও নির্বাচনের রেশ কাটতে না কাটতেই বলয়ে নির্ভরশীল হচ্ছে বিএনপি নেতাকর্মীরা। এদিকে পুরনো বলয়ের পাশাপাশি নয়া বলয়ের আবির্ভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তা ছাড়া দিন-তারিখ ঘোষণা না হলেও সিটি কর্পোরেশন, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে নিজস্ব বলয়ের শক্তি বাড়াতে মাঠ দাপাচ্ছে বিএনপি নেতাকর্মীরা। নান ইস্যুতে পাল্টাপাল্টি শোডাউন করছেন সম্ভাব্য প্রত্যাশীরা।


যাকে ঘিরে নির্বাচনের পর ফের বাড়ছে দ্বন্দ্ব। তা ছাড়া দিন যতই যাচ্ছে ততই বাড়ছে গ্রুপিং এবং বিএনপি বলয়ে নির্ভর হয়ে পরছে দলটি। এদিকে গত বছরের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর থেকে বিএনপির বিভিন্ন গ্রুপের আধিপত্য বিস্তারের বাড়ছে এগুলোর পেছনে রয়েছে অর্থনৈতিক স্বার্থ। বিশেষ করে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীরা নিজেদের আধিপত্য জানান দিতেই গ্রুপিং-কোন্দলের ঘটনা বেড়েছিলো। যা বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের হুঙ্কারে একত্রিত হলে ও জাতীয় নির্বাচনের পর ফের বিশৃঙ্খলা ও বলয়ের দিকে যাচ্ছেন।


যার কারণ প্রত্যেকেরই নিজস্ব বলয় আছে। অনুগত লোকেরা আছে। তারা সবাই প্রার্থী হতে চাইছে, সৃষ্টি করতে চাইছেন নিজেদের অবস্থান। তা ছাড়া ইতিমধ্যে ত্রয়োদশ নির্বাচনে মনোনয়ন বঞ্চিত একাধিক নেতাকর্মীরা এবার মাঠে সরব রয়েছে স্থানীয় নির্বাচনকে ঘিরে। ইতিমধ্যে বর্তমান সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক এড. সাখাওয়াত হোসেন খান তিনি নিজে ও আগামী সিটি নির্বাচনের মেয়র প্রার্থী তা ছাড়া সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছে, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুকুল ইসলাম রাজীব, মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব এড. আবু আল ইউসুফ খান টিপু, মাসুদুজ্জামান মাসুদ, শিল্পপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব। এরা বর্তমানে যে যার যার অবস্থান থেকে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে মাঠে সরব রয়েছে।


তা ছাড়া এরা বিগত দিনে একত্রিত থাকলে ও বর্তমানে বিভক্ত ছিন্নছাড়া হয়ে নিজ নিজ গ্রুপিং করে কাজ করছেন। একই সাথে জেলা পরিষদ ও উপজেলা পরিষদে রয়েছে ডজনে ডজনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী যারা ত্রয়োদশ নির্বাচনে একত্রিতভাবে কাজ করলে ও বর্তমানে নিজেদের অবস্থান শক্ত গড়তে নানা বলয়ে জড়িয়ে আলাদা অবস্থান দেখাচ্ছেন। যাকে ঘিরে ঐক্য ভেঙে নিরবিচ্ছিন্ন হয়ে পরছে দলটির নেতাকর্মীরা।


সূত্র বলছে, গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপি ২১২ জন র্সসদ সদস্য নিয়ে সরকার গঠন করেন। বিএনপি দেশ পরিচালনায় আসলেও সাংগঠনিক ভাবে হয়নি মনোযোগী। তা ছাড়া ত্রয়োদশ নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীদের বিপক্ষে স্বতন্ত্র প্রার্থী অনেক হেভিওয়েট নেতা দল থেকে বহিস্কার হয়ে এখন বিলুপ্তির পথে রয়েছেন। তাদেরকে আগামীতে দলে ফিরিয়ে নেয়া হবে কি তা নিয়ে তেমন কোন আলোচনা নেই। এছাড়া যারা দলের পদে রয়েছেন তাদের অনেকেই নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি আসনের মাঝে চারটিতে সাংসদ হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার মাঝে নারায়নগঞ্জ-১ আসনে সাংসদ হিসেবে নির্বাচিত হয়ে জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক মোস্তাফিুজর রহমান দিপু ভূইয়া জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।


একই সাথে নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে এমপি নির্বাচিত হয়েছেন ঢাকা বিভাগীয় সহ সাংগঠনিক স্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে সাংসদ হয়েছেন সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজহারুল ইসলাম মান্নান, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য হয়ে দায়িত্ব পালন করছেন এড আবুল কালাম। জেলার সংসদ সদস্যরা তাদের অনুসারীদের নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু দলের সাংগঠনিক নিয়ে তেমন তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না। তাদের বিপক্ষে যারা নির্বাচন করে বহিস্কার হয়েছেন তারা এখন উধাও হয়ে রয়েছেন। তাদেরকে সামাজিক কিংবা অন্য কোন কর্মকান্ডে দেখা যাচ্ছে না।


আর এতে করে বহিস্কার হওয়া অনুসারীরা দল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পরেছে। যা দুর্বল করে ফেলছে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রমকে। তা ছাড়া ইতিমধ্যে নির্বাচিত হওয়া সাংসদরা দলের কেউ নয় বললেই চলে তারা জনপ্রতিনিধি হিসেবে নিজেদের আলাদা বলয় তৈরি করে ফেলেছেন। এদিকে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এড. সাখাওয়াত হোসেন খান সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক থাকায় তিনি তার আলাদা বলয় সৃষ্টি করে কাজ করে যাচ্ছেন। একই সাথে সদস্য সচিব আর আল ইউসুফ খান টিপু সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশী হওয়ায় তিনি মহানগর বিএনপির বাহিরে আলাদা বলয় নিয়ে করছেন কাজ।


একই সাথে এটি এম কালাম আলাদা বলয় তা ছাড়া মহানগর বিএনপির বাকি নেতৃবৃন্দরা কেউ মাসুদুজ্জামান আবার কেউ আশা বলয়ের সঙ্গে যুক্ত। ঠিক একইভাবে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ জেলা পরিষদের প্রশাসকের দায়িত্ব পেয়েই সৃষ্টি করে ফেলেছেন আলাদা বলয়। তা ছাড়া কমিটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু রূপগঞ্জের সাংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে তিনি বর্তমানে জেলা থেকে বিছিন্ন হয়ে পরেছেন। তা ছাড়া যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুকুল ইসলাম রাজীব বর্তমানে তিনি জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করার লক্ষে আলাদা বলয় নিয়ে কাজ করছেন। তা ছাড়া বর্তমানে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা যে যেখানে সুবিধা পাচ্ছেন সেখানেই স্থান নিচ্ছেন। যাকে ঘিরে ধীরে ধীরে বলয়ে নির্ভরের দিকে যাচ্ছেন বিএনপি।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন