Logo
Logo
×

রাজনীতি

ফিরতে মরিয়া পলাতক আ.লীগ নেতারা

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০০ এএম

ফিরতে মরিয়া পলাতক  আ.লীগ নেতারা

ফিরতে মরিয়া পলাতক আ.লীগ নেতারা

Swapno

২০২৪ সনের ৫ আগষ্ট বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তোপের মুখে পরে দীর্ঘ এক যুগের বেশি সময় ধরে শাসন করা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনার পতনের সাথে নারায়ণগঞ্জের সাবেক এমপি শামীম ওসমান এবং সেলিম ওসমান সহ পুরো ওসমানীয় সম্রাজ্যের পতন ঘটে।


তবে তাদের পতনের পর থেকে গত ২১ মাসেও নারায়ণগঞ্জে দেখা যায় নাই। এমনকি আওয়ামী লীগের এক সময়ের সরগরম থাকা অফিস বন্ধ হওয়ার পর কেউ খোলার সাহস পর্যন্ত পায় নাই।কিন্তু হঠাৎ করে গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর বিএনপি সরকার গঠন করার পর স্থানীয় পর্যায়ে আওয়ামী লীগ ফিরতে তৎপর হয়ে রয়েছে। তারা ফিরার জন্য প্রশাসন থেকে শুরু করে বিএনপি নেতাদের ম্যানেজে তৎপর হয়েছেন।  


এদিকে বিভিন্ন সময় নানা ভাবে নারায়ণগঞ্জে অস্থিরতা তৈরী করার জন্য ওসমানীয় সম্রাজ্য অর্থ দেয়া থেকে শুরু করে কিভাবে লোকবল নামিয়ে তা করা যায় তার জন্য তৎপর হয়ে রয়েছেন। তাছাড়াী গত ২১ মাস যাবত মহানগর বিএনপি সহ জামায়াতের নেতৃবৃন্দ সেলিম ওসমানের গ্রেপ্তারের দাবী জানিয়ে আসলেও কোন পদক্ষেপ নেয়া হয় নাই। অতচ তিনি নিয়মিত নারায়ণগঞ্জের তার উজডম ফ্যাক্টরীতে এসে অফিস করেন। তার পরেও প্রশাসন তেমন কোন ব্যবস্থা নেয় না।

নারায়ণগঞ্জে ওসমানীয় সম্রাজ্যে যেন কোন ধরনের নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে না  পারে তার জন্য বিএনপি সহ তাদের অঙ্গ সংগঠন, জামায়াতের নেতৃবৃন্দ তাদের অঙ্গ সংগঠন এবং অন্যান্য ইসলামী দল গুলো মাঠে থেকে ভুমিকা পালন করলেও নির্বাচনের পরে বিএনপি সরকার গঠন করলে জামায়ার বিএনপির দুই মেরুতে অবস্থান করছে।


বৈষম্য বিরোধী ছাত্র জনতার আন্দোলনে মানুষের উপর গুলি চালিয়ে নারায়ণগঞ্জের গডফাদার সাবেক এমপি শামীম ওসমান ও সেলিম ওসমানের নামে প্রায় শতাধিক মামলা হয়েছে। সেই সাথে কয়েকটি মামলায় চার্জশিট হয়ে তাদের  বিরুদ্ধে বিচারকার্যম শুরু হয়েছে। এছাড়া অর্ধ শতাধিক হত্যা মামলা হয়েছে। কিন্তু তাদের রেখে যাওয়া দোসরদের মাধ্যমে তারা এখনো অস্থিতিশীল তৈরী করার জন্য নানা ভাবে ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে।

তথ্য মতে ২০২৪ সনের ৫ আগষ্টের পর থেকে নারায়ণগঞ্জের ওসমানীয় সম্রাজ্যের গডফাদার শামীম ওসমান পালিয়ে রয়েছে। যদিও বিভিন্ন সময় তাকে ভিডিওতে দুবাই, যুক্তরাষ্ট্রে দেখা গেছে। বিপরীতে তারই বড় ভ্ইা সেলিম ওসমান দেশে থেকে এখনো নারায়ণগঞ্জে নানা ভাবে বিশৃঙ্খলা তৈরীর জন্য ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে।


এমনকি মাঝে মধ্যে তার মালিকানাধীন ফতুল্লার ফ্যাক্টরী উইজডমে এসে মিটিং করে যান। গোপন মিটিং করে তার দোসরদের মাধ্যমে টাকা দিয়ে যায়। কিভাবে পরিবেশ ঘোলাটে করা যায়। এছাড়া সম্প্রতি সময়ে বিএনপি সরকার গঠনের পর বিএনপি নেতাদের  ম্যানেজ করে ওসমান সম্রাজ্যের গুন্ডাবাহিনী লোকেরা নিজ এলাকায় ফিরতে শুরু করেছেন। আর এতে প্রশাসন এবং বিএনপির একটি গুষ্টি ফায়দা নিচ্ছে।

অপরদিকে বিগত সময়ে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, ভূমিসদস্যুতা, চর দখল, নদী দখল, বালু ব্যবসা, মাদক ব্যবসা, জেলা প্রশাসনের রাজস্ব খাত ও ভূমি অধিগ্রহণ শাখা, গণপূর্ত, এলজিইডি, সড়ক ও জনপথ, রাজনীতি, নিয়োগ-বদলি, অবৈধ গ্যাস চোরাই ব্যবসা, হাসপাতালের ঔষধ, ডিস লাইন, ইন্টারনেট, পোষাক সেক্টরের লুটপাট আর উন্নয়ন প্রকল্প- সবকিছুতেই দীর্ঘদিন আধিপত্য বিস্তার করে রেখেছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমান, তার ভাই সেলিম ওসমান, ভাতিজা আজমেরী ওসমান,


শামীম পুত্র অয়ন ওসমানসহ  পুরো ওসমানীয় সম্রাজ্য এই সেক্টর গুলো নিয়ন্ত্রণ করেছেন হাজার কোটি টাকা পাচার করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। পাচার করা টাকা দিয়ে মিছিল সহ  রাস্তায় যেন ককটেল মেরে আতঙ্ক তৈরী করতে পারে তার জন্য মোটা অংকের টাকা ফান্ডিং দিচ্ছে। এছাড়া নারায়ণগঞ্জে ওসমানীয় সম্রাজ্যের লোকজনই বিশেষ করে ওয়ান ওসমানী বাহিনী রাস্তায় নেমে ঝটিকা মিছিল করতে তৎপর হওয়া শুরু করেছে।


অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত ১৫ বছর আওয়ামীলীগের ক্ষমতাবলে নারায়ণগঞ্জে একক সাম্রাজ্য গড়ে তোলেন ওসমানীয় পরিবার। শামীম ওসমানের নেতৃত্বে সরকারি সকল দপ্তর ছিলো এই ওসমানীয় দখলে। ওসমানীয় বিরাগভাজন হয়ে টিকতে পারেন নাই নারায়ণগঞ্জের সাবেক এমপি,  আওয়ামী লীগের নেতা, এসপি, ডিসি, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন পর্যন্ত। এমপি হওয়ার সুবাদে ভিওআইপি ব্যবসা, জ্বালানী ব্যবসার নাম করে হাজার কোটি টাকা নানা অবৈধ পন্থায় হাতিয়ে নেয় ওই পরিবারের সকলেই।


ওসমানীয় অবৈধ  ‘টাকার মেশিন’ ছিলেন সিদ্ধিরগঞ্জের তেল চোরের মূল হোতা কাউন্সিলর মতি ও পুলিশের এক সময়ের সোর্স আশরাফ। এ ছাড়াও সোনারগাঁওয়ের ইউনিয়ন পরিষদের  চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মাসুম, বন্দর উপজেলার সকল ইউপি চেয়ারম্যান, সদর উপজেলার সকল ইউপি চেয়ারম্যান, নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের সাবেক সহ-সভাপতি এস এম রানা। ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাইফুল্লাহ বাদল, সাধারণ সম্পাদক শওকত আলী, নিপু, সাজনু, ফাইজুল সহ আরও অনেকে। তারাই এখন বিএনপি সরকার গঠনের পর নানা ভাবে এলাকায় ফিরতে তৎপর হয়েছেন।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন