নতুন রাজনীতির মাঠে জাকির খান ‘ডেড হর্স’
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ০৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০০ এএম
নতুন রাজনীতির মাঠে জাকির খান ‘ডেড হর্স’
টানা ৯৫২ দিন কারাবন্দিসহ গত বছরের ১৩ এপ্রিলের আগ মুহুর্ত্ব পর্যন্ত সাবেক ছাত্রদল নেতা জাকির খানের স্টাইল, পোশাক এবং নাম ডাক নিয়ে নানা গল্প উত্থাপিত হলে ও তার মুক্তির ১ বছর অতিক্রম হওয়ার পর এটা মাকাল ফলে রূপান্তরিত হয়েছে। জাকির খানের মুক্তিতে শুধু বিএনপি নয় নগরবাসীর ও কোন উপকার হয়নি, শুধু মাঝে মধ্যে কিছু গাড়ি বহর ও মোটরসাইকেল বহর নিয়ে শোডাউন এবং তার মুখের বিভিন্ন বক্তব্যে সারা বাংলাদেশের ট্রল হিসাবে সমালোচিত ছাড়া বিএনপি ও নগরবাসীকে এর থেকে বেশি কিছু উপহার দিতে পারেনি এই ছাত্রনেতা।
এমনকি রাজনীতিতেও জাকির খানের কোন রকমের অবস্থান পরিষ্কার হয়নি। এদিকে নিজেকে বিএনপি নেতা দাবি করা জাকির খানকে গত (১২ ফেব্রুয়ারী) অনুষ্ঠিত হওয়া সাংসদ নির্বাচনসহ পরবর্তীতে দলীয়ভাবে সিটি কর্পোরেশন প্রশাসকের দায়িত্ব অর্পণ এবং জেলা পরিষদে প্রশাসকের দায়িত্ব অর্পণ কোথাও জাকির খানকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। এর বাহিরে ও বিএনপির রাজনীতিতে তার কোন কার্যকারী ভূমিকা লক্ষ্য করা যায় না। তা ছাড়া ও বর্তমানের রাজনীতিতে জাকির পাচ্ছে না কোন প্রকারের পাত্তা। যাকে ঘিরে অনেকেই বর্তমানে আধুনিক রাজনীতিতে জাকির খানকে ‘ডেড হর্স’ বলে মন্তব্য করেছেন।
২২ বছর নারায়ণগঞ্জ থেকে পলাতক ও কারাবন্দি জীবনে মাত্র ১ বছরেই বদলে গেছে তার জীবন। লাখ টাকা প্রাডো চড়ে যখন জাকির খান নারায়ণগঞ্জ এপাড় থেকে ওপাড় ঘুরপাক করছিলেন তখন নতুন আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে চাঁদপুরে। সাড়ে ৪ কোটি টাকার বেশি দামী বিলাসবহুল এসআইভি একটি ‘রেঞ্জ রোভার’ গাড়িতে চড়ে দুই হাত উড়িয়ে সমর্থকদের উৎসাহ দেয়া ভিডিওতে জাকির খান আবারো ভাইরাল হয়েছে। এর আগেও আজমেরি ওসমানের সেকেন্ড ইন কমান্ড পাগলা হামিদের প্রাডো গাড়ী চড়া নিয়ে আলোচনা সমালোচনা হয়েছিলেন জাকির খান।
যাকে ঘিরে বলা চলে বর্তমানে জাকির খানের পুরনো সেই গল্পের দাপটে আওয়ামী লীগের কিছু প্রভাবশালী চাঁদাবাজদের ব্যবসা বানিজ্যে ভাগভাটোরায়া করেই চলছে তার জীবন। এর বাহিরে বর্তমানে বিএনপির রাজনীতিতে তার কোন পাত্তা নেই। যা উপলব্দি করা গেছে সাংসদ নির্বাচনে যেখানে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসন নিয়ে নানা সমালোচিত কর্মকাণ্ড প্রকাশ্যে আসলে ও দেখা মিলেনি জাকির খানের। মাসাদুজ্জামান হোক কিংবা এড. আবুল কালাম তা ছাড়া পরবর্তীতে এড. সাখাওয়াত অথবা অধ্যাপক মামুন মাহমুদের কাউর পাশে দেখা যায়নি জাকির খানকে।
শোনা গেছে, তারা ও জাকির খানকে কোন রকমের পাত্তা দিয়ে ডাকেনি তাদের পাশে। শুধু শোনা গিয়েছিলো সাংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীকে বাদ দিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী আওয়ামী লীগের দোসর মাকসুদকে সমর্থন করেছিলেন এই জাকির খান। যা নিয়ে আলোচনা উঠলে ও কিছুদিন পূর্বে স্মান উৎসবে মাকসুদের ভাই মৃত কালুর ছেলে অন্তরের আমন্ত্রণে তিনি বন্দরের লাঙ্গলবন্দ স্মান উৎসবে গিয়েছিলেন। বর্তমানে আওয়ামী লীগের সখ্যতায় টিকে আছেন এই জাকির খান এমনটাই সূত্র জানিয়েছে।
এর বাহিরে আধুনিক রাজনীতিতে বর্তমানে প্রয়োজন নেই জাকির খানের। যাকে ঘিরে উপলব্দি করা যাচ্ছে দ্রুতই নির্বাচিত সাংসদ সদস্যরা জোরেশোরে কাজ শুরু করলে দেওভোগের আখড়ায় সীমাবদ্ধ হয়ে পরবে জাকির খানের অবস্থান।


