জামায়াত-এনসিপি সম্পর্কে টানাপোড়েন প্রকাশ্যে
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ০৭ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০০ এএম
জামায়াত-এনসিপি সম্পর্কে টানাপোড়েন প্রকাশ্যে
# এনসিপির নেতারা অনুদান নেওয়ার সময় মনে ছিল না, সে ফ্যাসিস্ট এর দোসর : জাব্বার
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনকে ঘিরে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি)’র মধ্যে দূরত্ব এখন আর আড়ালে নেই বরং প্রকাশ্যেই দৃশ্যমান হচ্ছে দুই দলের অবস্থানগত ভিন্নতা। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে কৌশলগত জোট গঠন করে একসাথে নির্বাচনে অংশ নেয় এই দুই দল। ওই সমঝোতার অংশ হিসেবে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে জামায়াতের প্রার্থী মহানগরের আমির মাওলানা জাব্বার নিজের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে এনসিপির প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল আমিনের পক্ষে কাজ করেন। পরবর্তীতে আল আমিন বিজয়ী হলেও জোটের সমন্বিত রাজনৈতিক কার্যক্রম প্রত্যাশিত ধারায় এগোয়নি।
কিছুদিন পূর্বে ফতুল্লার বিসিক এলাকায় জামায়াত আয়োজিত এক ইফতার মাহফিলকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি নতুন মোড় নেয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিকেএমই’র সভাপতি হাতেমকে “ফ্যাসিস্টের দোসর” আখ্যা দিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বয়কট করেন এনসিপি থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য আল আমিন। এ ঘটনাকে ঘিরেই দুই পক্ষের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয় এবং রাজনৈতিক দূরত্ব স্পষ্ট হতে শুরু করে। তবে এই ঘটনার প্রেক্ষিতে জামায়াতের নারায়ণগঞ্জ মহানগর আমির মাওলানা জাব্বার প্রকাশ্যে ভিন্ন অবস্থান তুলে ধরেছেন। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “হাতেম সাহেবকে ফ্যাসিস্টের দোসর হিসেবে দেখার মতো কোনো তথ্য আমাদের কাছে নেই। বিষয়টি আমাদের কাছে প্রতীয়মান নয়।”
ইফতার মাহফিল প্রসঙ্গে তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন, ব্যবসায়ী সংগঠনের একজন শীর্ষ নেতা হিসেবে হাতেমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল এবং ব্যক্তিগত সম্পর্কের ভিত্তিতেই তিনি অনুষ্ঠানে অংশ নেন। একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, যে ব্যক্তি এনসিপির নেতাদের জুলাই যুদ্ধাদের চিকিৎসার জন্য অনুদান দিলেন, তাকে হঠাৎ করে ‘ফ্যাসিস্টের দোসর’ হিসেবে আখ্যায়িত করার ভিত্তি কী।
জব্বার স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আমরা একটি শান্তিপূর্ণ নারায়ণগঞ্জ চাই। এখানে ব্যবসায়ীও লাগবে, রাজনীতিবিদও লাগবে। তবে যারা সরাসরি ফ্যাসিবাদের সাথে জড়িত, তাদের কোনোভাবেই সুযোগ দেওয়া হবে না।”
জামায়াতের এই অবস্থান কার্যত এনসিপির বক্তব্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ায় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে দুই দলের মধ্যে আদৌ সমন্বয় রয়েছে কি না। স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জোটের ভেতরের মতবিরোধ এখন আর কেবল অন্তর্দ্বন্দ্বে সীমাবদ্ধ নেই; বরং তা প্রকাশ্য দ্বিমতের রূপ নিয়েছে। সব মিলিয়ে, নির্বাচনের আগে গড়ে ওঠা কৌশলগত ঐক্য এখন ভাঙনের মুখে কিনা সেই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে।


