ছাত্রলীগ সম্পর্কে সচেতন এনসিপি
# সন্ত্রাসী কার্যক্রমে জড়িত ছিলো না তাদের স্বাগত জানাবো : যুবাইর সরদার
# ছাত্রলীগ করতে অনেকেই বাধ্য হতো : জোবায়ের হোসেন তামজিদ
এনসিপিতে ছাত্রলীগের নেতারা যোগ দিচ্ছে এমন সংবাদে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলে। তবে কোন প্রেক্ষিতে এমন উত্তেজনা ছড়ালো কিংবা আসল বিষয়টি কি তা খোলাসা করেছেন এনসিপি নেতারা। সম্প্রতি এবিষয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহবায়ক মো. নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ‘অতীতে কেউ, ছাত্রদল, শিবির কিংবা ছাত্রলীগ করুক এটা মূখ্য বিষয় নয়। আজ থেকে কেউ যদি এনসিপিতে আসবেন তিনি এনসিপির সংগঠক, এনসিপির নেতাকর্মী হিসেবে কাজ করবে। এনসিপির আদর্শ ধারণ করে কাজ করবে। তবে ফ্যাসিজমে অংশগ্রহণকারী, চাঁদাবাজ, দুর্নীতিতে অভিযুক্ত এমন কেউ আসতে পারবে না।’
এনসিপির আহবায়কের এমন বক্তব্যে মানুষের মাঝে নানান প্রশ্ন ঘুরপাক খেলেও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ কিছুটা স্বস্তি বোধ করছে। আর এর কারণ হচ্ছে প্রায় বিশ মাস আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা পালিয়ে বেড়াচ্ছে , তার সাথে সাথে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরাও। তবে অনেকেই মনে করছেন রাজনৈতিক পরিচয় পেতে পালিয়ে বেড়ানোর থেকে হয়তো এনসিপিতে যেগদান করলে, কিছুটা স্বস্তি ফিরে পেতে পারেন। এমনকি এনসিপিও একটি শক্তিশালী দল হিসেবে গড়ে উঠতে পারবে।
তবে এই ঘোষণার পর সারাদেশের ন্যায় ঢাকার পার্শ্ববর্তী জেলা নারায়ণগঞ্জেও এর প্রভাব কিছুটা পড়েছে। বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জে যেসকল ছাত্রলীগের নেতাকর্মী ছিলো তাদের মধ্যে অনেকেই কোন ধরণের সন্ত্রাসী কার্যক্রমে জড়িত ছিলো, এমনকি এলাকায় অনেককেই ছাত্রলীগের সাথে জড়িত হতে বাধ্য করা হয়েছিলো। তাদের মধ্যে অনেকেই জুলাইয়ে সন্ত্রাসী কার্যক্রমে জড়িত ছিলো, অনেকেই আবার সেই সময় ছাত্রলীগে এমন কর্মকাণ্ড থেকে সরে আসে। তারাই আবার নতুন করে হয়তো রাজনীতি করার সুয়োগ পেতে পারে।
তবে এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা এনসিপির আহবায়ক যুবাইর সরদার জানান, আমি এক সময় গণঅধিকার পরিষদের অংঙ্গ সংগঠন যুব অধিকার পরিষদের সহ-সভাপতি ছিলাম। যেহেতু আমাদের নতুন দল অনেকের পুরাতন দল থেকে বিএনপি, জামাত, ছাত্রদল অনেকেই আবার ফ্যাসিবাদ আন্দোলনে ছাত্রলীগ থেকে পদত্যাগ করে ছাত্রদের সাথে থেকে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন এবং আমরা দেখেছি, ছাত্রলীগের অনেক নেতাকর্মী এবং আওয়ামী লীগের অনেকেই আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন, যারা অপকর্মের বিরুদ্ধে ছিলো তাদেরকে নিয়ে জেলার এনসিপির সংগঠন করতে চাই এবং তাদেরকে এনসিপিতে স্বাগত জানাই। কোন ফ্যাসিষ্ট, সন্ত্রাসীদের স্থান হবেনা নারায়ণগঞ্জ জেলা এনসিপিতে।
এসময় তিনি আরও বলেন, নারায়ণগঞ্জে বিএনপি থেকে বহিস্কার হওয়া যে সকল নেতাকর্মী রয়েছে তারা যদি মনে করে এনসিপিতে আসবে তাহলে তাদেরকেও স্বাগত জানাবে এনসিপি। তবে কোন ধরণের সন্ত্রাসী মামলার আসামী তাদেরকে গ্রহণ করা হবেনা এনসিপিতে।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা এনসিপির সদস্য সচিব জোবায়ের হোসেন তামজিদ জানান, বিগত সময় শিবির এবং ছাত্রদল এমনিতেই নির্যাতিত। যদি আমি বলি, ১৭ বছর একটি শাসন আমল ছিলো আওয়ামী লীগের। আর সেই শাসন আমলে অনেকেই ছাত্রলীগের সাথে জড়িত হয়ে গেছে এর কারণ হচ্ছে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়েও একটি সিট পেতে হলেও ছাত্রলীগের দ্বারস্ত হওয়া লাগতো, তা না হলে সিট পেতো না। সেই আমলে শুধু যে বিএনপি আর জামাত বা অন্যান্য দল নির্যাচিত ছিলো, তা নয়। ছাত্রলীগের নেতাদের দ্বারা ছাত্রলীগের কর্মীরাও নির্যাতিত ছিলো। আর আমরা মনে করি ছাত্রলীগ আগে করতো এবং জুলাই সন্ত্রাসীদের সমর্থন না দিয়ে সরে এসেছে এবং পদত্যাগ করেছে কোন ধরনের সন্ত্রাসী কার্যক্রমে জড়িত ছিলা না। তারা চাইলে এনসিপির সাথে যুক্ত হতে পারে এতে কোন বাধা নেই।
প্রসঙ্গত, জুলাইয়ের আন্দালনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পরপরই সর্ব প্রথমেই নিষিদ্ধ হয় বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। এর পরপরই ধারাবাহিকভাবে আওয়ামী লীগের সকল কার্যক্রম নিষিদ্ধের ঘোষণা করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এরপর থেকেই আওয়ামী লীগের সকল কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। প্রকাশ্যে কোন ধরণের কর্মসূচি করতে না পারলেও ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ঝটিকা মিছিল করে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ। এমনকি গণঅভ্যুত্থানের পর অনলাইন প্লাটফর্মে আওয়ামী লীগের তেমন শীর্ষ নেতাদের না দেখা গেলেও ছাত্রলীগের যে সকল নেতাকর্মী রয়েছে প্রতিনিয়তই বিভিন্ন পোষ্ট এবং কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জেও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বিগত সময়ে যে সক্রিয় ছিলো তার কিছুটা হলেও ভাটা পড়েছে।
প্রকাশ্যে না থাকলেও তারা অললাইন প্লাটফর্মে নেতাকর্মীদের সক্রিয় রাকতে কাজ করে যাচ্ছে। শুধু তাই নয় সাম্প্রতিক সময়ে নারায়ণগঞ্জে ছাত্রলীগের কমিটি নিয়েও বেশ আলোচনা দেখা গেছে। অনেকের ছবি এবং নাম অনলাইনে ঘুরে বেড়িয়েছে। যেখানে দেখা গেছে কেউই প্রকাশ্যে না থাকলেও অনলাইনে নেতাকর্মীদের গুপ্ত হিসেবে কাজ করে নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ রাখছেন। তবে ছন্নছাড়া এই ছাত্রলীগের নেতাকর্মী যদি এনসিপিতে যোগদান করে তাহলে তারা হয়তো আবারো নারায়ণগঞ্জের মাটিতে রাজনীতি করার সুযোগ পাবে। আর এই সুযোগ হয়তো অনেকেই হাতছাড়া করবে না। এর কারণ হচ্ছে দীর্ঘদিন অনেকেই ঘরবাড়ি ছাড়া,পরিবার ছাড়া এমনকি নানান সমস্যায় জর্জরিত। হয়তো এনসিপিতে যোগদানের মাধ্যমে তারা নতুন রূপে ফিরবে।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জের ছাত্রলীগের কোন বক্তব্যে না পাওয়া গেলেও কোন এক সূত্রের মাধ্যমে জানা যায়, এলাকায় ফেরার কৌশল হিসেবে অনেকেই হয়তো ছাত্রলীগ বিদায় জানিয়ে এনসিপিতে যোগদান করারও সম্ভাবনা থাকতে পারে।


