জৌলুস হারিয়েছে জেলা ও মহানগর বিএনপি
নির্বাচনের পর ক্ষমতায় বসেই সেই পুরনো জৌলুস হারিয়েছে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপি। যাকে ঘিরে কয়েক মাস ধরে বিএনপিতে সাংগঠনিক কার্যক্রমে এক ধরনের স্থবিরতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সেই সুযোগে ইতিমধ্যে বিশৃঙ্খলায় পরিণত হয়েছে বিএনপির অঙ্গসংগঠন। যেখানেই প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় অঙ্গসংগঠনের নেতারা নিজেরাই বড় নেতা হয়ে নিজেদের জাহির করে চালাচ্ছে নানান অপকর্মে। যা নিয়ে উঠছে নানান অভিযোগ।
তা ছাড়া এখনো কমিটি পূর্নাঙ্গ বা মেয়াদউত্তীর্ণ ইউনিট কমিটি ভেঙে নতুন কমিটি গড়তে ব্যর্থ হয়। তা ছাড়া নির্বাচনের ফলাফল জেলা বিএনপির জন্য কিছুটা স্বস্তির বার্তা নিয়ে এসেছে। জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনের মধ্যে চারটিতে বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থীদের জয় সংগঠনের নেতাকর্মীদের মাঝে নতুন করে আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে। পাশাপাশি জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে দলের আহ্বায়কের দায়িত্ব পাওয়া এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ আসনে দলের সিনিয়র নেতার সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হওয়া দুটি ঘটনাও সংগঠনের অবস্থানকে আরও শক্ত করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে রাজনৈতিক এই সাফল্যের পাশাপাশি সাংগঠনিক দুর্বলতার বিষয়টি উঠে এসেছে।
তা ছাড়া একই সাথে মহানগর বিএনপি মেয়াদউত্তীর্ণ কমিটি বিরাজমান রয়েছে। গত সাড়ে ৩ বছরে ও পরেনি নিজেদের পুর্নাঙ্গ করতে। তা ছাড়া কমিটি গঠনের পরপরই ছন্নছাড়া হয়ে পরেন মহানগর বিএনপি। কিন্তু মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এড. সাখাওয়াত হোসেন খান ও সদস্য সচিব এড. আবু আল ইউসুখ খান টিপু সাংগঠনিক কার্যক্রম ধরে রাখলে ও ত্রয়োদশ নির্বাচনে কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনাসহ দলের আহ্বায়ক নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসকের দায়িত্ব পাওয়ায় সাংগঠনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা রয়েছে।
এদিকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবেই রয়ে গেছে। তৃণমূল নেতাকর্মীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে আহ্বায়ক কমিটির ওপর নির্ভরশীলতা এবং পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনে বিলম্বের কারণে সংগঠনের গতি অনেকটাই মন্থর হয়ে পড়েছে। এর ফলে মাঠপর্যায়ের কর্মীরা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছেন না, বরং তাদের মধ্যে এক ধরনের হতাশা ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তা ছাড়া সংগঠনে জৌলুস না থাকায় ঝিমিয়ে পরেছে তৃণমূলের নেতারা।
তা ছাড়া জেলার রাজনীতিতে বিএনপির দীর্ঘ ও সমৃদ্ধ ইতিহাস থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখা সম্ভব হয়নি। বিশেষ করে ইউনিট পর্যায়ে শক্তিশালী কমিটি গঠন ও কার্যক্রম সচল রাখতে ব্যর্থতা এখন বড় উদ্বেগের কারণ। সংগঠনের নিচের স্তরগুলো সক্রিয় না থাকলে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নও কঠিন হয়ে পড়ে এমনটাই মনে করছেন অভিজ্ঞ নেতারা। এই প্রেক্ষাপটে ঈদের পর দল গোছানোর উদ্যোগ নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট নেতারা।
তাদের মতে, তৃণমূলকে সক্রিয় করা, পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন এবং নিয়মিত কর্মসূচির মাধ্যমে সাংগঠনিক কাঠামোকে পুনরুজ্জীবিত করাই এখন সময়ের দাবি। পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব নিরসন করে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে। তৃণমূল কর্মীদের প্রত্যাশা, দ্রুত একটি নির্বাচিত ও পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হলে সংগঠনের শৃঙ্খলা ও গতি ফিরে আসবে।
তবে এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের পক্ষ থেকে এখনো সুস্পষ্ট কোনো দিকনির্দেশনা না থাকায় অনিশ্চয়তা কাটছে না। তা ছাড়া জেলা ও মহানগর বিএনপিতে বর্তমানে সবাই নেতা হয়ে জাহির করছেন যাকে ঘিরে সংগঠনে দেখা মিলছে অভ্যন্তরীন কোন্দল ও বিশৃঙ্খলা। সেই সকল দিক লক্ষ্য করে তৃনমূলকে মূল্যায়িত করে নতুন কমিটির মাধ্যমে বিএনপিতে সাংগঠনিক শক্তি বাড়ানোর দাবি তৃণমূলের নেতাদের।


