# জামায়াত-এনসিপির টাকা ভরপুর, আমাদের টাকা নেই অফিসও নেই : এড. টিপু
# আমরা দ্রুতই কার্যালয় স্থাপনের বিষয়ে আলোচনায় বসবো : মাসুকুল রাজীব
অভ্যন্তরীন কোন্দলে জর্জরিত হয়ে দীর্ঘ প্রায় ১০ বছরের কাছাকাছি সময় ধরে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপি ঠিকানাবিহীন অবস্থায় রয়েছে। অস্থায়ী কিংবা নামকাওয়াস্তে ব্যক্তিগত কার্যালয় দিয়েই চলছে তাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম। এরই মধ্যে কয়েক দফায় পদে থাকা নেতাদের বদল হলেও নারায়ণগঞ্জ বিএনপির স্থায়ী ঠিকানা আর মিলছে না। নেতারা নিজের মতো করে নিজ নিজ বাসা বাড়ীকেই কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করতে শুরু করছেন। ফলে নেতাকর্মীরা অনেকটাই ছন্নছাড়া হয়ে দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকেন। তা ছাড়া ক্ষমতায় আসার আড়াইমাস অতিক্রমসহ নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন ও নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদ নিজেদের আওতায় রয়েছে। কিন্তু এরপরে ও কার্যালয় নিয়ে নেই কোন আলোচনা। নির্বাচনের পূর্বে কার্যালয় নিয়ে আলোচনা উঠলেই নির্বাচনের পরপরই কার্যালয় স্থাপনের আশ্বাস দেন নেতারা। নির্বাচনের পরপরই সেই আশা বর্তমানে ভেস্তে গেছে বললেই চলে। তা ছাড়া বিরোধী দল জামায়াত-এনসিপিসহ সকলের বর্তমানে কার্যালয় থাকলে ও বড় দল বিএনপি ঠিকানাহীন অবস্থার সুরাহ হচ্ছে না।
সূত্র বলছে, নির্বাচনের পরপরই আবারো সেই পুরনো বলয় ভিত্তিক রাজনৈতিক দ্বারা শুরু হয়েছে বিএনপিতে। যা বর্তমানে বিএনপিকে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি ঢেলে দেওয়ার মূল কারণ হিসেবে আখ্যায়িত হচ্ছে। এদিকে দীর্ঘদিন ধরে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় ছিলো আওয়ামী লীগ। আর এই ক্ষমতায় থাকাবস্থায় নারায়ণগঞ্জ বিএনপির নেতাকর্মীরা অনেক নির্যাতন নীপিড়নের শিকার হয়েছেন। দিনের পর দিন মাসের পর মাস এবং বছরের পর বছর বিএনপির নেতাকর্মীদেরকে পরিবার পরিজন ছেড়ে দিন যাপন করতে হয়েছে। সেই সাথে তারা আন্দোলন সংগ্রামেও অংশ নিতে পারতেন না। ব্যবসা বাণিজ্যেও নানাভাবেই বাধার শিকার হয়েছেন। সব মিলিয়ে তাদের যেন স্বাভাবিক জীবন যাপন ছিলো না। যার দোহাই দিয়ে বিএনপি স্থায়ী কার্যালয় নিয়ে তেমন মনযোগ দেয়নি। এরই মধ্যে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। আর এই পতনের মধ্যে দিয়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়েও আলাপ আলোচনা শুরু হয়। সেই সাথে প্রতিদ্বন্দ্বীতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। আর এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় এসেছে বিএনপি। সেই সাথে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান। ফলে এবার নারায়ণগঞ্জ বিএনপি ঠিকানায় ফিরতে পারবে কিনা তা নিয়ে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
তা ছাড়া দলীয় নেতাকর্মী অনেকেই সিটি প্রশাসকের দায়িত্ব এড. সাখাওয়াত পাওয়ার পরপরই তার বরাবার প্রথম দাবি হিসেবেই তুলে ধরেছিলেন ডিআইটিতে বিএনপির সেই পুরনো কার্যালয় উদ্ধার। কিন্তু সেই দাবি ও ইতিমধ্যে বাস্তবায়নে রূপ নেয়নি। এদিকে এর আগে বিএনপি তিন মেয়াদে ক্ষমতায় আসলেও নারায়ণগঞ্জে বিএনপির কোন পাকাপোক্ত কার্যালয় করতে পারেনি এখানকার বিএনপির ওই সময়ের এমপিরা। ২০০৯ সালে অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার নারায়ণগঞ্জ বিএনপির নেতৃত্বে আসার পর তৎকালীন নারায়ণগঞ্জ পৌরসভা থেকে দোকান হিসেবে ইজারা নিয়ে ডিআইটি বাণিজ্যিক এলাকায় বিএনপির কার্যালয় করেন। সেই সাথে বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে বিআরটিসির চেয়ারম্যান হয়ে অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার বিএনপির কার্যালয়টির জন্য পৌরসভা থেকে দোকান বরাদ্দ নেন। তৎকালিন নগর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট জাকির হোসেনের নামে এ দোকান ভাড়া নিয়ে বিএনপির কার্যালয় করা হয়। পরবর্তীতে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সঙ্গে কার্যালয় নিয়ে মামলায় হেরে যাওয়ার পর ২০১৭ সালের ১০ মার্চ কার্যালয় ভবন ভেঙ্গে ফেলে। পরবর্তীতে সেখানে মার্কেট হলে বিএনপির কার্যালয় বুঝিয়ে দেয়ার কথা থাকলেও এখনও সেই অফিস বুঝিয়ে দেয়া হয়নি বিএনপি নেতাকর্মীদের।
এদিকে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির কার্যালয় ভেঙ্গে তৎকালিন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র জেলা বিএনপিকে একটি অস্থায়ী কার্যালয়ের জন্য স্থান নির্ধারণ করতে বলেছিলেন মেয়র। স্থান নির্ধারন হলে সেখানে জায়গা বরাদ্ধ দিতেন নাসিক। কিন্তু সে সময়ে নেতৃত্বে থাকা নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির তৎকালিন সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান ও সাধারণ সম্পাদক মামুন মাহমুদের এ নিয়ে কোন আগ্রহ দেখাননি। একই সাথে মহানগর বিএনপির পদে থাকা নেতারাও কোনো আগ্রহ দেখাননি। সেই সাথে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপির নেতাকর্মীরা ঘরমুখী হয়ে পড়েন। দলীয় কোনো কর্মসূচিতেই তাদের রাজপথে দেখা মিলতো না। নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপির বিভিন্ন গলিভিত্তিক কর্মসূচি পালিত হতো। ফলে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির কোনো স্থায়ী ঠিকানাও হয়নি। এরপর থেকেই এখন পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ বিএনপি নতুন করে আর কার্যালয় নিতে পারেনি। এদিকে গত ৫ আগষ্টের পর সাবেক কার্যালয়ের স্থানে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপির কার্যালয় নামে বিশাল ব্যানার টানিয়ে রেখেছেন বিএনপি নেতাকর্মীরা। নেতাকর্মীরা জানান, আওয়ামী লীগের পতনের পর কার্যালয়টি উদ্ধার করতে একাধিকবার পদক্ষেপ নেয়া হলেও এখনও সিটি করপোরেশন কার্যালয়টি বুঝিয়ে দেয়নি। দলের শীর্ষ নেতারা সোচ্চার হলে আরও আগেই কার্যালয়টি উদ্ধার করতে পারত বিএনপি। এরই মধ্যে সকল প্রতিবন্ধকা পেরিয়ে বিএনপি সুসময়ে ফিরছে। যার ধারাবাহিকতায় নারায়ণগঞ্জের ৪ টি আসনে বিএনপি নেতারা সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান। সেই সাথে নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ। কিন্তু বর্তমানে বিএনপিতে ফের শুরু হয়েছে কামড়াকামড়ি যা নিয়ে হচ্ছে না বিএনপির কার্যালয়। তা ছাড়া বর্তমানে বিরোধী দল হলে ও নিজেদের মধ্যে ঐক্য থাকায় বর্তমানে জামায়াত-এনসিপি শহরে নিজ কার্যালয় থেকে সাংগঠনিক কার্যক্রমের লিড দিচ্ছে। কিন্তু বড় দল বিএনপির কার্যালয় না থাকায় কর্মী-সমর্থকদের মাঝে হতাশা।
মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব এড.আবু আল ইউসুফ খান বলেন, কার্যালয় আমাদের দরকার নেই, আমরা রাস্তা বসেই দলীয় সকল কার্যক্রম করতে অভ্যস্ত। তা ছাড়া জামায়াত-এনসিপির বিভিন্ন জায়গা থেকে টাকা আসে তারা বড় বড় জায়গা ভাড়া নিয়ে কার্যালয় বানায়। আমাদের তো টাকার জোগান নেই। বিগত দিনে আমরা বিরোধী দল ছিলাম, এখন সরকারি দলে এসেছি অল্প কিছুদিন। দ্রুতই আমাদের কার্যালয় হবে। আওয়ামী লীগ আমলে আমাদের কার্যালয় ছিল। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা উঠিয়ে দিয়েছে। ইনশাল্লাহ আবার হবে
তিনি বলেন, বর্তমানে জামায়াত-এনসিপির টাকা ভরপুর। সরকারি দল হলে ও আমাদের কাছে টাকা নাই। থাকলে তো আমরা ও সমবায় সমিতিতে এনসিপির মতো বিলাস-বহুল ফ্লোর নিয়ে অফিস বানাতাম।
তিনি আরো বলেন, এখন আমরা বিএনপি ঐক্যবদ্ধ রয়েছি। জনগণের দাবি নিয়ে কাজ করছি।
জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুকুল ইসলাম রাজীব বলেন, আমরা দ্রুতই শহরে জেলা বিএনপির কার্যালয় স্থাপন করবো। ইতিমধ্যে আমরা একটি সুইটেবল জায়গা খুঁজছি। তা পেলেই আমাদের কার্যালয়ের কাজ ধরবো। তা ছাড়া কার্যালয় নিয়ে কিছুদিন পরই জেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা একটি মিটিংয়ে আমরা বসবো।
তিনি বলেন, তা ছাড়া বর্তমানে জনগণের প্রতি আমাদের যে দায়বদ্ধতা। সেই দায়বদ্ধতার দিকে লক্ষ্য করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, দেশের জনগণের আশা-আকাক্সক্ষা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে যে চেষ্টা চালিয়ে যাছেন। সেই চেষ্টায় নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি সকলে শরিক হয়ে কাজ করছে।
তিনি বলেন, দলীয় কাজের থেকেও বেশি জনগণের সকল কাজে বিএনপি বর্তমানে নিয়োজিত। যাকে ঘিরে বলা চলে বিএনপিতে কোন্দলের কোন সুযোগ নাই। দেশের জনগণ যে আশা-আকাক্সক্ষা নিয়ে বিএনপিকে ভোট দিয়েছে। সেই আশা বাস্তবায়নে বিএনপি কাজ করছে।


