Logo
Logo
×

রাজনীতি

মহানগর বিএনপির কমিটি ঘিরে বাড়ছে বঞ্চিতদের দৌড়ঝাঁপ

Icon

যুগের চিন্তা অনলাইন

প্রকাশ: ০২ মে ২০২৬, ১২:০০ এএম

মহানগর বিএনপির কমিটি ঘিরে  বাড়ছে বঞ্চিতদের দৌড়ঝাঁপ
Swapno

 চলতি মে মাসের মধ্যে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আংশিক কমিটি আসছে বলে উঠছে নানা গুঞ্জন। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিলের আগেই কমিটি প্রকাশ হবে বলে জানা গেছে। তা ছাড়া এবারের কমিটিকে ঘিরে চমক আসছে। যাকে ঘিরে বিগত দিনের সকল বিশৃঙ্খলার অবসান ঘটতে যাচ্ছে। একই সাথে এবারের কমিটিতে স্থান পেতে দৌড়ঝাঁপ চালিয়েছেন বঞ্চিত অনেকেই। ইতিমধ্যে মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এটি.এম কামাল, মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আতাউর রহমান মুকুল, মহানগর যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক মাকসুদুর খন্দকার খোরশেদ, মহানগর বিএনপির সাবেক সদস্য শওকত হাসেন শকু। এরা বর্তমানে ভালো দায়িত্বে আসতে করছেন দৌড়ঝাঁপ।


এদিকে বিগত আওয়ামীলীগ সরকার আমলে নির্যাতিত, কারাবন্দি হওয়ার মূল্যায়ন নিয়ে কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে লম্বা তালিকা রয়েছে। যার ফলে আগামীতে ক্লিন ইমেজে শক্ত অবস্থানকারী নেতাদের মহানগরের দায়িত্ব নেয়ার সিদ্ধান্তে রয়েছে বিএনপি। ত াছাগা দীর্ঘ চার বছর পর মেয়াদোত্তীর্ণ মহানগর বিএনপির কমিটিতে হাত দেওয়ার আলোচনায় তৃণমূলে আমেজ রয়েছে। এবার কার নেতৃত্বে আসছে মহানগর বিএনপি। ইতিমধ্যে কেন্দ্রে মহানগর বিএনপির দুটি পৃথক কমিটি জমা পরলে সেখানে যাচাই-বাছাই করে যোগ্য ও পরীক্ষিত কান্ডারী খুঁজছে দল। দলীয় সূত্র জানিয়েছে, এবার আর পকেট কমিটি নয়, যোগ্যতা যাচাইয়ে আসবে কমিটি যেখানে হবে কোন বিদ্রোহ। এদিকে মহানগর বিএনপির বর্তমান সদস্য সচিব এড. আবু আল ইউসুফ খান টিপু, মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম সজল, যুগ্ম আহ্বায়ক ফতেহ মোহাম্মদ রেজা রিপনর নেতৃত্বে একটি কমিটির তালিকা ও মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এড. সাখাওয়াত হোসেন খান ও যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল কাউসার আশার যৌথ নেতৃত্বে আরেকটি কমিটির তালিকা কেন্দ্রে জমা দেওয়া হয়েছে। জানা গেছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিলের আগেই এমন কমিটি হওয়ার গুঞ্জন ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কাঙ্খিত ভোট দলীয় প্রার্থীকে দিতে ব্যর্থতায় নতুন নীতি কমিটিতে আসছে পুরাতন নেতারাই। “নির্যাতিত, কারাবন্দি হওয়ার মূল্যায়ন নিয়ে কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে লম্বা তালিকা রয়েছে। যার ফলে আগামীতে ক্লিন ইমেজে শক্ত বিগত আওয়ামীলীগ সরকার আমলে অবস্থানকারী নেতাদের মহানগরের দায়িত্ব নেয়ার সিদ্ধান্তে রয়েছে বিএনপি। তা ছাড়া ইতিমধ্যে দু‘টি ফরমেড কেন্দ্রে জমা পরলে ও আরো দু‘টি ফরমেড রয়েছে যা জমা দেওয়া হভে বলে জানিয়েছে সূত্র। যেখানে বঞ্চিতদের তালিকা রয়েছে।



দলীয় সূত্র বলছে, ২০২২ সালের (১৩ সেপ্টেম্বর) বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির ৪১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি ঘোষণা করা হয়। কমিটিতে আহ্বায়ক হিসেবে অ্যাডভোকেট মো. শাখাওয়াত হোসেন খান এবং সদস্য সচিব হিসেবে অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপুকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। আর এই কমিটি ঘোষণার পর থেকেই নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি দুইভাগে বিভক্ত হয়ে পরেছিলেন। সেই সাথে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি থেকে ১৫ জন নেতা পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন।


পদত্যাগকারী নেতারা হলেন- মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটিতে যুগ্ম আহ্বায়ক পদে থাকা আব্দুস সবুর খান সেন্টু, হাজী নুরুদ্দিন, বন্দর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মুকুল ও মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল কাউসার আশা। সেই সাথে সদস্য পদে থাকা পদত্যাগকারী নেতারা হলেন- আওলাদ হোসেন, হান্নান সরকার, অ্যাডভোকেট বিল্লাল হোসেন, মনোয়ার হোসেন শোখন, আলমগীর হোসেন, হাসান, অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান মোল্লা, শহীদুল ইসলাম রিপন, অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান মোল্লা, আমিনুর ইসলাম মিঠু, ফারুক হোসেন, অ্যাডভোকেট শরীফুল ইসলাম শিপলু, মো. ফারুক হোসেন। দুইভাবে বিভক্ত হয়ে নানাভাবে চললে ও ত্রয়োদশ জাতীয় সাংসদ নির্বাচনকে ঘিরে ঐক্যবদ্ধ হয়ে পরেন মহানগর বিএনপি। কিন্তু মহানগর বিএনপির সাবেক বহিস্কৃত যুগ্ম আহ্বায়ক আতাউর রহমান মুকুল একই নিজেকে মহানগর বিএনপি দাবী করে মহানগর বিএনপিকে অনঐক্যে রেখেছিলেন এবং এখনো রাখছেন।


তা ছাড়া এই বিতর্কিত আতাউর রহমান মুকুল বিগত দিন থেকেই লাঙ্গলের নেতা সেলিম ওসমানের সাথে সুসম্পর্কে জড়িয়ে আছেন। ২০১৪-২০১৮ সালের নির্বাচনগুলোতে প্রকাশ্যে সেলিম ওসমানের নির্বাচনী প্রচারনাসহ তার হাতকে শক্তিশালী করার লক্ষে কাজ করেছেন। এদিকে ২০২৪ সালের নির্বাচনে ও এই মুকলকে নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। এমনকি বন্দরে একটি নির্বাচনী বৈঠকে লাঙ্গলের এমপি সেলিম ওসমান সকলকে বলেছেন মুকুল বহুবার আজকে এখানে আসতে চেয়েছিলো কিন্তু আমি আসতে না বলেছি। বন্দরে এক নির্বাচনী মঞ্চে উপস্থিত সেলিম ওসমানস মুকুলকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আমি মুকুলকে বলছি নির্বাচনের পর যেন সে নির্বাচনের ১১টি গরু কেটে বন্দরে তার উপজেলাবাসীকে খাওয়ায় তার এমন বক্তব্যের প্রেক্ষিতে আর সেখনে মুকুলের ঘনিষ্ট নেতাকর্মীরা উপস্থিত থাকায় সেই অনুষ্ঠানের পর পরই হারিয়েছিলেন দলীয় পদ পদবী। হয়েছিলেন দল থেকেই বহিস্কার।


তা ছাড়া মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এ.টিম কামাল বিগত দিনে নানা নির্যাতনের শিকার। যাকে ঘিরে নির্যাতনের চাপে তিনি দেশের বাহিরেই বেশি অবস্থান করেছিলেন। তা ছাড়া শওকত হাসেম শকু বিএনপি নাকি আওয়ামী লীগ করতেন তা কেউ জানতো না বললেই চলে। তিনি কাউন্সিলর থাকাকালীন সাবেক সাংসদ সেলিম ওসমানের বিশস্ত ভ্যান গার্ড হিসেবে ছিলেন। তা ছাড়া করোনা যুদ্ধা মাকসুদুর খন্দকার খোরশেদ আন্দোলন সংগ্রামের সাহসী যোদ্ধা হলে ও বিগত ট্রাম্পে ছিলো সাবেক সাংসদ সদস্য ও মেয়রের সাথে সক্ষ্যতা। কিন্তু আন্দোলন সংগ্রামে লাস্ট সময়ে আসলে ও এর আগে মানবিক কাছে শক্তিশালী ভূমিকা ছিলো তারই। কিন্তু বিতর্কিত তৈমূর আলম খন্দকারের ভাই হওয়ায় এখনো অবমূল্যায়িত এই খোরশেদ।


তা ছাড়া গত ৪ বছরে এই কমিটি থেকে একজন যুগ্ম আহ্বায়ক ও একজন সদস্য মৃত্যুবরণ করেন। যাকে ঘিরে দীর্ঘদিন যাবৎ সাখাওয়াত-টিপু-রেজা রিপন অন্য দিকে আলাদা ব্যানারে আশার নেতৃত্বেই পরিচালিত হয়েছে মহানগর বিএনপি। কিন্তু নির্বাচনকে ঘিরে একত্রিত হতে পারেনি মহানগর বিএনপি। বর্তমানে নানাভাবে ঐক্যবদ্ধ না হয়ে কমিটি নিয়েই চালাচ্ছেন দৌড়ঝাঁপ।  

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন