ঈদের পর পদ হারাচ্ছেন টিপু
মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব এড. আবু আল ইউসুফ খান টিপুর নানামুখী বিতর্কিত কর্মকান্ডে আগে থেকেই বিএনপির হাইকমান্ড তার উপর ক্ষুব্ধ। এই নেতার আচার আচরণ, কথা বলার ভঙ্গি, হকার ইস্যূসহ সদ্য নারী আইনজীবীকে মারধর, লাঞ্ছিত এবং আদালতপাড়ার নারী আইনজীবীদের নর্তকী মন্তব্য করার বিষয়টি হাইকমান্ড ইতিমধ্যে জানতে পেরেছে। এদিকে বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাংসদ সদস্য এড. আবুল কালাম টিপুর আচরণে সন্তুষ্ট নন, একই সাথে নারায়ণগঞ্জের বিএনপির প্রভাবশালী নেতারাও টিপুর আচরণে নাখোশ। সব মিলিয়ে ঈদের পর পরই কঠোর অ্যাকশনে যাবে বিএনপির হাইকমান্ড।
একের পর এক বিতর্ক তৈরি করায় মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব পদ থেকে তাকে সরিয়ে দেয়ার দাবিও জানানো হচ্ছে। এর পরপরই আইনজীবী সমিতির এক নারী সদস্যকে লাঞ্ছিত করার ৪৮ ঘন্টার মধ্যে এবার আইনজীবী সমিতির নারী আইনজীবীদের নিয়ে অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দিয়ে সমালোচিত টিপু। এনিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েছে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্টজনেরা। তারা অবিলম্বে বিএনপি হাইকমান্ডকে টিপুর ব্যাপারে ব্যবস্থাগ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন। এড.আমেনা আক্তার শিল্পী যিনি বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ জেলা আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর, তাকে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় এড.টিপুকে নিয়ে ব্যাপক নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়।
এর রেশ কাটতে না কাটতে গত শনিবার আইনজীবী সমিতি ভবনের সামনে প্রকাশ্যে সহকর্মী নারী আইনজীবীদের নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করেন। বিএনপির এই নেতা দাবি করেন, ‘এই কোর্টে (নারায়ণগঞ্জ) কয়েকজন নর্তকী আছে যারা পুরুষদের নিয়ে ঘুরতে ভালোবাসে। আইন পেশা করে না, খালি আইনের পোশাক পরে এসে বেটাছেলেদের নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় গাড়িতে ঘুরে আর নর্তকীগিরি করে।’ এই কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব পদ থেকে এড.আবু আল ইউসুফ খান টিপুকে বহিষ্কারের দাবি জানান বিশিষ্টজনেরা।
এ ঘটনায় গতকাল জেলা আদালত প্রাঙ্গণে নারী আইনজীবী এড. শিল্পীর উপর হামলা ও নারী আইনজীবীদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যের প্রতিবাদে মানববন্ধণ। এদিকে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সামছুন নূর বাঁধন মানববন্ধনে টিপুর এই মন্তব্যে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন দলীয় হাইকমান্ডের।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী অ্যাডভোকেট আমেনা আক্তার শিল্পী বলেন, আমি আইনজীবী সভাপতি ও সাথারণ সম্পাদকের সাথে কথা বলে আইনজীবী সমিতির ভবনের সামনে থেকে দুইজন মহিলা হকারকে সড়িয়ে দূরে বসতে বলি। সেই ঘটনার জের ধরে অ্যাডভোকেট রফিক আহমেদ আমাকে জিজ্ঞস করেন আমি কেন সড়িয়ে দিয়েছি? আমি বলি আমি একা সরায়নি। আপনার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সাথে কথা বলেন। এভাবে কথা বলার এক পর্যায়ে অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে অকথ্য ও অশ্রাব্য ভাষায় গালি দিয়ে আমাকে ঘুষি মারে। এদিকে অভিযোগে আমেনা আক্তার শিল্পী উল্লেখ করেন, অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু তাকে অকথ্য ও অশ্রাব্য ভাষায় গালি দিয়ে শিনায় ঘুষি মারে। কয়েকবার আইনজীবীদের মোটা ডাইরী ও ব্যাগ ছুরে মারে। অ্যাডভোকেট রফিক আহমেদ অকথ্য ও অশ্রাব্য ভাষায় গালি দেয় এবং আইনজীবী সমিতির আইনজীবী ও মোক্কেলদের সামনে মারার জন্য তেড়ে আসে। অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু অন্যান্য আইনজীবীদের সাথেও প্রায়শই দুর্ব্যবহার করে ও গায়ে হাত তুলে।
এসময় মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু উপস্থিত ছিলেন। তবে তাকে উদ্দেশ্য করে কেউ কিছু বলেনি। এই ঘটনায় আইনজীবী ভবনের নিচ তলায় আমাকে পেয়ে টিপু নানাভাবে গালিগালাজ করতে থাকেন। এক পর্যায়ে তার সাথে থাকা দুইজন বহিরাগত মিলে আমার গলা চেপে ধরেন। পরে অন্যরা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। তিনি এই ঘটনায় আইনজীবী সমিতির কাছে অভিযোগ দিয়েছিলেন। সেই সাথে এই ঘটনায় পাল্টাপাল্টি শক্তি প্রদর্শন চলে। তবে এই ঘটনাতেও সমালোচিত হয়েছিলেন টিপু।
তা ছাড়া সম্মেলন নিয়ে আলোচনা উঠলেই টিপুর পায়ের তলার মাটি সরে যায়। তা ছাড়া প্রভাবশালী অনেকেই ম্যানেজ করে বাঁচিয়ে রেখেছিলেন নিজের পদ। কিন্তু এবার তা হারানোর পথে টিপু। এদিকে মহানগর বিএনপির দায়িত্বে এসেই কমিটিতে পদ দেওয়ার কথা বলে বিএনপি থেকে রাশেদুল ইসলাম টিটুর সেই বক্তব্যে ভাইরাল হলে বিতর্ক শুরু হয় টিপুর। এর পর দীর্ঘ ৪ বছরে ডজনখানিক বিতর্কের সম্মূখিন হলে ও এবার আইনজীবী সমিতির এক সদস্যকে লাঞ্চিত ও সকল নারী আইনজীবীদের নিয়ে অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দিয়ে ফেঁসে গেলেন টিপু। এবার তার বিরুদ্ধে সরাসরি দলীয় হাইকমান্ড অকশ্যানে যাচ্ছেন। যা ঈদের পরপরই বাস্তবায়ন হতে যাচ্ছে।


