আইভীর মুক্তিতে ওসমান শিবিরে গাত্রদাহ
৩৯১ দিন কারাভোগের পর কারাগার থেকে মুক্তি পান নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। তবে সাবেক মেয়র আইভী জামিনে মুক্ত হয়েই বিচার বিভাগের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও বিএনপি সরকারের প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। আর এই কৃতজ্ঞতা এবং ধন্যবাদকে ভালভাবে নেয়নি খোদ নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামীলীগের বিপরীত বলয় ওসমান বলয়ের নেতারা।
আইভীর মুক্তির পর থেকেই ওসমান শিবিরের নেতাকর্মীদের একই সংগঠনের নেত্রীকে দীর্ঘদিনের কারাবরণ শেষে মুক্তি পাওয়ায় স্বাগতম অথবা শুভেচ্ছা জানানোর বদলে উল্টো তিরষ্কারে মেতে উঠেন। এছাড়া আইভী জামিনে মুক্ত হয়েই বিচার বিভাগের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও বিএনপি সরকারের প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করায় কখনো আইভীকে আওয়ামীলীগের দুশমন এবং কখনো খন্দকার মোশতাক ও মীর জাফরের উত্তরসূরি তকমা দিয়ে দিচ্ছেন।
এর আগে গত বছরের ২০২৫ সালের ৫ মে আইভী নিজ বাসভবন থেকে গ্রেফতার হন। পরবর্তীতে একাধিকবার বিভিন্ন মামলায় জামিনে মুক্তি লাভ করলেও একের টপর এক মামলায় জেল গেইট থেকে তাকে নতুন মামলায় আবারো গ্রেফতার দেখানো হয়। তবে গত ১৭মে আইভীর সকল মামলায় জামিন লাভের মাধ্যমে গত ৩জুন মুক্তিলাভ করতে সক্ষম হন। আইভীর মুক্তির মধ্য দিয়ে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের বিপরীত বলয় শামীম ওসমান,সেলিম ওসমান,আজমেরী ওসমান,অয়ন ওসমান দ্বারা পরিচালিত গোটা ওসমান শিবিরে হতাশা গাত্রদাহ শুরু হয়ে যায়।
কেননা ৫ই আগষ্টে আওয়ামীলীগ পতনের পূর্ব মুহুর্ত থেকেই ধীরে ধীরে ওসমান পরিবার এবং বলয়ের নেতারা নারায়ণগঞ্জ ত্যাগ করতে শুরু করেন। ৫ই আগষ্টে আনুষ্ঠানিক ভাবে আওয়ামীলীগের পতন ঘটে গেলে ওসমান পরিবার এবং বলয়ের নেতারা ধীরে ধীরে দেশত্যাগ করতে থাকেন। অপরদিকে ৫ই আগষ্টের পর এবং পূর্বে পরিবার নিয়ে নারায়ণগঞ্জ থেকেছেন। পরবর্তীতে আইভী নারায়ণগঞ্জ নিজ বাসভবন থেকে গ্রেফতার হয়ে ১বছর পর মুক্তি পান। তবে ওসমান পরিবার ও বলয়ের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন মামলায় জর্জরিত হয়ে দেশে ফেরা অথবা জামিন স্বপ্নেও কল্পনা করতে না পারায় ওসমান বলয়ের বিভিন্ন নেতাকর্মীরা আইভীকে তিরষ্কারে মেতে উঠেন ।
এছাড়া আইভী জামিনে মুক্ত হয়েই বিচার বিভাগের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও বিএনপি সরকারের প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। এটাকে ভিন্ন ভাবে উপস্থাপন করতে মড়িয়া হয়ে উঠেন ওসমান বলয়ের নেতাকর্মীরা। এরমধ্যে নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি মেহেদী হাসান সম্রাটের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের স্ট্যাটাসে লিখেন, যে বিচার বিভাগ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর কন্যা, দেশরত্ন শেখ হাসিনা, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কামাল সাহেবসহ অসংখ্য মানুষকে অন্যায়ভাবে ফাঁসির রায় ও বিভিন্ন সাজা দিয়েছে, সেই বিচার বিভাগকে আপনি সাধুবাদ জানান এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
আবার যে বিএনপির হাতে হাজার হাজার নেতাকর্মী নির্যাতিত হয়েছে, যাদের বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, এবং যে বিএনপি অবৈধভাবে ক্ষমতায় গিয়ে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে, সেই বিএনপিকেও আপনি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান। সাবাশ, আইভী! এরই নাম খন্দকার মোশতাক ও মীর জাফরের উত্তরসূরি হওয়া। নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সোহানুর রহমান শুভ্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের স্ট্যাটাসে লিখেন, মুজিব পরিবার ও আওয়ামী লীগ নির্মূলের লক্ষ্যে বাংলার অবৈধ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চক্রান্তের অংশ হিসেবে সেলিনা হায়াত আইভি মুক্তি পেয়েছেন।
তিনি বাম নেতা রফিউর রাব্বি ও অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান মাসুমকে পাশে বসিয়ে তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানিয়ে সবাইকে নিয়ে একটি মানবিক সরকার গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন। যে সরকার আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফাঁসির আদেশের ব্যবস্থা করেছে, জেলখানায় স্লো পয়জনিংয়ের মাধ্যমে আমাদের দলের প্রায় ২০০-৩০০ নেতাকর্মীকে হত্যা করেছে, সারাদেশে প্রায় ১০ হাজার নেতাকর্মীকে হত্যা, ধর্ষণ এবং তাদের বাড়িঘর লুট করেছে, শেখ হাসিনাবিরোধী বাম নেতাদের পাশে বসিয়ে সেই ক্যাঙ্গারু বিচারব্যবস্থার সরকারকে তিনি ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
আপনারা এটিকে সমর্থন করতে পারেন, কিন্তু আমরা এটিকে গভীর চক্রান্তের অংশ হিসেবেই দেখছি। ১৯৭১ সালেও তাঁর বাবা দলবল নিয়ে মুচলেকা দিয়ে পালিয়েছিলেন, আর আজ তিনিও মুচলেকাবদ্ধ মেয়র হিসেবে বাড়িতে ফিরেছেন। হয়তো তাঁর নজর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদকের পদে। শিয়ালের নজর যেমন জীবিত মানুষের দিকে থাকে, তেমনি।
এমনিই লিখলাম, আপনারা আবার অন্য কিছু মনে করবেন না।এদিকে আইভীর মুক্তির পর থেকেই তার বাড়ির সামনে নজরদারি অব্যাহত রেখেছে পুলিশ। আইভীর বাড়ির সামনে ও আশেপাশে কয়েকটি সিসি ক্যামেরাও স্থাপন করা হয়েছে। সাদা পোশাকে পুলিশও আছে নজরদারিতে। পুলিশ বলছে, নিরাপত্তার স্বার্থে এবং নিষিদ্ধ সংগঠনের কার্যক্রম রুখতে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।


