Logo
Logo
×

রাজনীতি

স্থানীয় নির্বাচনে শক্তিমত্তার জানান দিতে চায় খেলাফত মজলিস

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ১২:০০ এএম

স্থানীয় নির্বাচনে শক্তিমত্তার জানান  দিতে চায় খেলাফত মজলিস

স্থানীয় নির্বাচনে শক্তিমত্তার জানান দিতে চায় খেলাফত মজলিস

Swapno



জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরে সরকার চার মাস অতিবাহিত করতে যাচ্ছে। এবছরের শেষের দিকে স্থানীয় নিবাচন হতে পারে ধরে নিয়ে রাজনৈতিক দল গুলো নিজেদের মত করে কাজ করে যাচ্ছে মানুষের মাঝে। স্থানীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বর্তমান ক্ষমতাসীন দল বিএনপির সাথে লড়াই হবে ধরে নিয়ে বিরোধী দলেল জামায়াত এনসিপি সহ তাদের শরিক দল গুলো নিজেদের মত করে মাঠ গুছাচ্ছে। এই দিক দিয়ে অন্যন্য রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে নারায়ণগঞ্জ খেলাফত মজলিসও নিজেদের অবস্থান জানান দিতে প্রস্তুতি নিচ্ছে।


তারা সংসদ নির্বাচনের ধারাবাহিকতায় বজায় রেখে স্থানীয় নির্বাচনেও শক্তভাবে নিজেদের উপস্থাপন করতে চাচ্ছেন। আর এজন্য আগে থেকে বিভিন্ন এলাকায় ইউনিয়ন চেয়ারম্যান, নাসিক কাউন্সিলর,মেম্বার প্রার্থীদের নাম ঘোষনার মধ্য দিয়ে মাঠে কাজ করার জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন।  বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জের কয়েকটি এলাকায় খেলাফত মজলিসের প্রার্থীরা বেশ জোড়ালোভাবেই নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন।


তথ্যমতে, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন, বিভিন্ন উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে  পর্যায়ে খেলাফত মজলিস দুই ধাপে প্রায় অর্ধ শতাধিক প্রার্থী ঘোষণা করেছে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর শাখা। ১৪ মে খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব এবিএম সিরাজুল মামুন জেলা মজলিস কার্যালয়ে এই প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন।


অপরদিকে ঘোষনাকৃত প্রার্থীদের নিজ নিজ এলাকায় মানুষের কাছে গিয়ে প্রচারনার মাধ্যমে নিজেদের তুলে ধরার পাশা পাশি সামাজিক নানা উন্নয়ন মুলক কাজ করার জন্য আহবান জানানো হয়েছে দল থেকে। এমনকি প্রত্যেক প্রার্থীদের বাছাইয়ের ক্ষেত্রে স্থানীয় ভাবে পরিচিতি সহ নানা যোগ্যতার ভিত্তিতে সাংগঠনিক ভাবে সামনে এনে তাদের নাম ঘোষনা করা হয়েছে। যদিও খেরাফত মজলিস ১১ দলী ঐক্য জোটে সংসদ নির্বাচনে অংশ গ্রহন করেন।


স্থানীয় নির্বাচনে জোটগত ভাবে অংশ নিবে না ধরে নিয়ে দলটির প্রার্থীরা নির্বাচনের প্রস্তুতিতে আগাচ্ছে। তাছাড়া মাস কয়েক পরেই স্খানীয় নির্বাচনের তফসিল হতে পারে এমন ইঙ্গিত দিয়েছে স্থানীয় সরকার মস্ত্রী মির্জাফখরুল ইসলাম আলমগীর। দীর্ঘদিন পর ফ্যাসিষ্ট মুক্ত সরক্রা থাকায় নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে তা ধরে নিয়ে রাজনৈতিক দল গুলোর প্রার্থীরা প্রস্তুতি নিচ্ছে। বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জ খেলাফত মজলিস যেসকল এলাকায় প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে তার মাঝে উল্লেখ যোগ্য হলো- বন্দর উপজেলা পরিষদে চেয়ারম্যান পদে মহানগর সভাপতি হাফেজ কবির হোসেন, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান পদে মহানগর সেক্রেটারি ইলিয়াস আহমদ, ভাইস-চেয়ারম্যান পদে সদর থানা সাধারণ সম্পাদক খন্দকার হাফেজ আওলাদ।


এছাড়া নাসিকের কাউন্সিলর হিসেবে- ২নং ওয়ার্ডে খেলাফত মজলিসের ওয়ার্ড সেক্রেটারি হাবিবুর রহমান তালুকদার, ৩নং ওয়ার্ডে দলের ওয়ার্ড সভাপতি ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা হেফাজতের সেক্রেটারি মাওলানা নুর হুসাইন নূরানী, ৪নং ওয়ার্ডে মুফতি জাকারিয়া ফরহাদ, ৫নং ওয়ার্ডে দলের ওয়ার্ড সেক্রেটারি মাওলানা সিফাতুল্লাহ, ৭ নং ওয়ার্ডে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা সভাপতি নুর মোহাম্মদ খান, ৮নং ওয়ার্ডে দলের ওয়ার্ড সভাপতি ফারুকুল ইসলাম,


১১ নং ওয়ার্ডে দলের ওয়ার্ড সভাপতি হানিফ কবির বাবুল, ১২ নং ওয়ার্ডে সদর থানা সহ-সভাপতি আলমগীর হুসাইন, ১৩ নং ওয়ার্ডে ইসলামী যুব মজলিসের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক প্রভাষক মাইদুল ইসলাম, ১৬ নং ওয়ার্ডে ফরহাদ হোসাইন, ১৭ নং ওয়ার্ডে আব্দুস সামাদ, ১৮ নং ওয়ার্ডে মুহাম্মদ শাহআলম, ২০ নং ওয়ার্ডে দলের ওয়ার্ড সভাপতি মুহাম্মদ ছানাউল্লাহ, ২৪ নং ওয়ার্ডে বন্দর থানা সহ-সভাপতি মাওলানা শফিকুল ইসলাম, ২৫ নং ওয়ার্ডে বন্দর থানা সহ-সভাপতি মুহাম্মদ শাহিদুজ্জামান, ২৬ নং ওয়ার্ডে দলের ওয়ার্ড সভাপতি হাফেজ আবুল হাসান ও ২৭ নং ওয়ার্ডে সালমান হোসাইন শাহীন।


ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে- ধামগড় ইউনিয়নে উপজেলা সভাপতি মুফতী আবুল কাসেম, মদনপুর ইউনিয়নে উপজেলা সেক্রেটারি মাওলানা মাজহারুল ইসলাম ভূইয়া, কলাগাছিয়া ইউনিয়নে ফারুকুল ইসলাম প্রধান, কাঁচপুর ইউনিয়নে মুহাম্মদ সাহাবুদ্দীন, সনমান্দি ইউনিয়নে ইবনে মিজান, ইউপি সদস্য হিসেবে- মদনপুর ইউনিয়ন ৭নং ওয়ার্ডে মুফতি আল-আমীন, কলাগাছিয়া ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডে ইউনিয়ন সভাপতি মাসুম আহমদ, ৩নং ওয়ার্ডে জুয়েল মাহমুদ, ৬নং ওয়ার্ডে মাওলানা আব্দুল কাদির।


স্থানীয় নির্বাচনে জোট প্রসঙ্গে খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব এবিএম সিরাজুল মামুন বলেন, আমরা এখনও ১১ দলীয় জোটের সাথে আছি। যতদিন পর্যন্ত জাতির স্বার্থ রক্ষিত হয় আমরা এই জোটে থাকবো। আমরা এখন যার যার দল থেকে প্রার্থী ঘোষনা করেছি। তফসিল ঘোষণার সময়ে আমরা এখানে এনসিপি আছে জামায়াতে ইসলামীর ভাইয়েরা আছে অন্যান্য রাজনৈতিক দল আছে সবাই মিলে চেষ্টা করবো সমন্বিত প্রার্থী দেয়ার জন্য।


তিনি বলেন, আমরা আমাদের ভোটের মাঠ ধরে রাখার জন্য চেষ্টা করবো। আমরা কখনও মাঠ ছাড়বো না। সংসদ নির্বাচনের মত গুজামিল ফলাফল ঘোষনা করা হলে আমরা মেনে নিবো না। কেননা সংসদ নির্বাচনে ফলাফল হ্ইাজাক করা হয়েছে। কিন্তু স্থানীয় নির্বাচনে তা হাইজাক করতে দেয়া হবে না। এর আগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য থেকে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব এবিএম সিরাজুল মামুনকে বেশ শক্তভাবেই প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেছিলেন।


তিনি তার জনপ্রিয়তার প্রমাণ রেখেছেন। খেলাফত মজলিসের নেতাকর্মীরা মনে করেন, তাদের প্রার্থী এবিএম সিরাজুল মামুন ভোটের মাঠে পাশ করেছেন। কিন্তু তাকে ফেল করানো হয়েছে। তিনি পুনরায় ফলাফল গণনার দাবী জানিয়ে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ দিয়ে তেমন কোন ফলাফল পান নাই।  তারই ধারাবাহিকতায় এবার স্থানীয় নির্বাচনে খেলাফত মজলিসের সেই জনপ্রিয়তাকে ধরে রাখতে চাচ্ছেন। সেই সাথে আগে থেকেই প্রার্থী ঘোষণা করে প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন