সরকারি দলের অঙ্ক, আইভীর ভবিষ্যৎ
নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র ডাক্তার সেলিনা হায়াৎ আইভী’র কারাগার থেকে মুক্ত হওয়া নিয়ে দেশব্যাপী রাজনৈতিক মহলে কৌতূহল এবং নানা জল্পনা কল্পনা চলছে। মুক্ত হয়ে আইভী’র বক্তব্যও কিছু প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। আইভী দেশের বিচার বিভাগ এবং বর্তমান সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। এখানেই নানা প্রশ্ন নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। বর্তমান সরকারের আচরণ বিভিন্ন সময়ে চমৎকার হলেও সবসময় পুরোপুরি উদার ও গণতান্ত্রিক, তা বলা যাবে না।
বিগত সরকারের অনেক নেতাকর্মী, সাংবাদিক, সংস্কৃতি কর্মী এখনো কারাগারে আছেন, তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলো “মিথ্যা এবং মনগড়া” এই দাবি অনেকে করেন। এ কথাও সত্যি, তারা ফ্যাসিস্ট সরকারের অংশ ছিল, তাদের অনেকে ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন এবং দুর্নীতিও করেছেন। এ কারণে রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ মানুষের মধ্যে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের হয়ে থাকলেও সহানুভূতি দেখা যাচ্ছে না। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ঢালাওভাবে মামলা করেছে, ওই মামলাগুলো বর্তমান সরকার এসে নাকচ করে দেবে-এমন প্রচারণা আওয়ামী শিবিরে ছিল এবং এখনো আছে।
কিন্তু অধিকাংশ জনের ক্ষেত্রে এমন দয়ালু আচরণ সরকার দেখায়নি। তবে আলোচিত কিছু রাজনীতিবিদের ক্ষেত্রে সরকারের আচরণ নমনীয়, সহানুভূতিশীল এবং গণতান্ত্রিক, দেখা গেছে। সরকারের এই অংকেই, সেলিনা হায়াত আইভী মুক্তি পেয়েছেন। এর পেছনে আন্তর্জাতিক মহলেরও আইভীর প্রতি সদয় দৃষ্টি থাকার বিষয়টি সরকার বিবেচনায় নিয়েছে। বিশেষ করে দুটি প্রভাবশালী দেশের দূতাবাস বিশেষ ভূমিকা রেখেছে। আইভী পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ এবং তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ নেই বা এমন অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে রাজনীতিতে “ক্লিন ইমেজ” যাদের আছে, তাদের রাজনীতি করার সুযোগ সৃষ্টির বিষয়টি অন্যতম বলে বিবেচনা করছে সরকার এবং অবশ্যই দাতা দেশের প্রতিনিধিরা।


