Logo
Logo
×

রাজনীতি

সরকারি দলের অঙ্ক, আইভীর ভবিষ্যৎ

Icon

দর্পণ কবীর নিউইয়র্ক থেকে

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ১২:০০ এএম

সরকারি দলের অঙ্ক,  আইভীর ভবিষ্যৎ

সরকারি দলের অঙ্ক, আইভীর ভবিষ্যৎ

Swapno



নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র ডাক্তার সেলিনা হায়াৎ আইভী’র কারাগার থেকে মুক্ত হওয়া নিয়ে দেশব্যাপী রাজনৈতিক মহলে কৌতূহল এবং নানা জল্পনা কল্পনা চলছে। মুক্ত হয়ে আইভী’র বক্তব্যও কিছু প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। আইভী দেশের বিচার বিভাগ এবং বর্তমান সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। এখানেই নানা প্রশ্ন নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। বর্তমান সরকারের আচরণ বিভিন্ন সময়ে চমৎকার হলেও সবসময় পুরোপুরি উদার ও গণতান্ত্রিক, তা বলা যাবে না।


বিগত সরকারের অনেক নেতাকর্মী, সাংবাদিক, সংস্কৃতি কর্মী এখনো কারাগারে আছেন, তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলো “মিথ্যা এবং মনগড়া” এই দাবি অনেকে করেন। এ কথাও সত্যি, তারা ফ্যাসিস্ট সরকারের অংশ ছিল, তাদের অনেকে ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন এবং দুর্নীতিও করেছেন। এ কারণে রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ মানুষের মধ্যে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের হয়ে থাকলেও সহানুভূতি দেখা যাচ্ছে না। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ঢালাওভাবে মামলা করেছে, ওই মামলাগুলো বর্তমান সরকার এসে নাকচ করে দেবে-এমন প্রচারণা আওয়ামী শিবিরে ছিল এবং এখনো আছে।


কিন্তু অধিকাংশ জনের ক্ষেত্রে এমন দয়ালু আচরণ সরকার দেখায়নি। তবে আলোচিত কিছু রাজনীতিবিদের ক্ষেত্রে সরকারের আচরণ নমনীয়, সহানুভূতিশীল এবং গণতান্ত্রিক, দেখা গেছে। সরকারের এই অংকেই, সেলিনা হায়াত আইভী মুক্তি পেয়েছেন। এর পেছনে আন্তর্জাতিক মহলেরও আইভীর প্রতি সদয় দৃষ্টি থাকার বিষয়টি সরকার বিবেচনায় নিয়েছে। বিশেষ করে দুটি প্রভাবশালী দেশের দূতাবাস বিশেষ ভূমিকা রেখেছে। আইভী পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ এবং তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ নেই বা এমন অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে রাজনীতিতে “ক্লিন ইমেজ” যাদের আছে, তাদের রাজনীতি করার সুযোগ সৃষ্টির বিষয়টি অন্যতম বলে বিবেচনা করছে সরকার এবং অবশ্যই দাতা দেশের প্রতিনিধিরা।


আইভীকে মামলায় সাজা দেওয়ার ষড়যন্ত্রের চেষ্টা করেছিল, চেষ্টা এখনো আছে। এখন আগামী দিনে আইভী কী করবেন, সেটা দেখার অপেক্ষা করছে অনেকে। আইভীর ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে, তাঁর নিজের সিদ্ধান্তের ওপর।


আমি জানি, তিনি রাজনীতির চেয়ে নারায়ণগঞ্জ শহরের মানুষদের সঙ্গে থাকতে বেশি আগ্রহী। তিনি মন্ত্রীত্বের কথা ভাবেন না, তাঁর ভাবনা জুড়ে শহরের মানুষ। তাঁর সঙ্গে (অতীতে) আলোচনা থেকে এটাই আমার মনে হয়েছে।


নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে এলে আইভী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চাইবেন। তবে তিনি যদি মনে করেন গণতান্ত্রিক পরিবেশে ভোট হবে, তাহলেই তিনি প্রার্থী হবেন। অন্যথায় প্রার্থী হবেন না। আগামী দিনে স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে বর্তমান সরকার কোন অংক করে এগোবে, সেটাও দেখার বিষয়। আপাতত দৃষ্টিতে মনে হচ্ছে, এ সরকার ভোট ডাকাতির নির্বাচন করবে না। তাহলে, আইভী নির্বাচনের মাঠে নামবেন, জোর দিয়েই বলা যায়।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন