নাসিক নির্বাচনের প্রার্থী বাছাই করছে রাজনৈতিক দলগুলো
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ১২:০০ এএম
নাসিক নির্বাচনের প্রার্থী বাছাই করছে রাজনৈতিক দলগুলো
চলতি বছরের অক্টোবর মাস থেকেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে যাচ্ছে। যাকে কেন্দ্র করে ঘোষিত তপশিল আগস্টে সেই টার্গেট নিয়েই কাজ করছেন নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এদিকে স্থানীয় নির্বাচনের অংশ হিসেবে সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনকে সামনে রেখেই প্রস্তুতি শুরু করেছে বিএনপি-জামায়াত-এনসিপিসহ সর্বদলীয় নেতাকর্মীরা। ইতোমধ্যে জামায়াত এবং এনসিপি একাধিক সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে তাদের সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছেন।
নারায়ণগঞ্জে জামায়াতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে দলের মহানগরের আমীর মাওলানা আবদুল জব্বার এবং এনসিপি থেকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে এগিয়ে আছেন মহানগরের আহবায়ক শওকত আলী। খেলাফত মজলিস থেকে এবি.এম সিরাজুল মামুন হতে যাচ্ছে সিটির মেয়র প্রার্থী। কিন্তু ক্ষমতাসীন দল বিএনপি এখনো তাদের সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেনি। বর্তমানে সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এড. সাখাওয়াত হোসেন খান। এরই মাঝে নির্বাচনের ঘোষণা না দিলে ও নির্বাচনের আগেই নতুন মুখ হিসেবে উঠে এসেছেন সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী।
তার মৃত্যুতে ঘোলাটে আকারে রূপ নিয়ে নগরীর রাজনীতি, সকলেই নিশ্চুপ ভূমিকা পালন শুরু করেছেন। যাকে ঘিরে এবারের সিটি নির্বাচন চ্যালেঞ্জের রূপে দেখছেন স্থানীয়রা। সকলেই বলছেন, এবার যারা নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায় রয়েছেন সকলেই পরিচিতি মুখ। কিন্তু এবারের নির্বাচনে নগরবাসীর নজর সাখাওয়াত, এবিএম সিরাজুল মামুন ও আব্দুল জব্বারের দিকেই। তা ছাড়া নির্বাচনে নামলে ফ্যাক্টর হবে সাবেক মেয়র আইভী। কিন্তু যা করতে আইভীকে আওয়ামী লীগ ছেড়ে স্বতন্ত্রের দিকে ঝুকতে হবে।
এদিকে কিছুদিন পূর্বে প্রজ্ঞাপন জারি না হলে ও সদর উপজেলার কাশীপুর, এনায়েতনগর, ফতুল্লা, কুতুবপুর ইউনিয়নকে সিটি কর্পোরেশনের আওতাভুক্ত করার নির্দেশনা উঠলেও এবার প্রজ্ঞাপন বাস্তবায়ন হওয়া বাকি। এদিকে জামায়াত-এনসিপির সম্ভাব্য প্রার্থী থাকরে ও বিএনপি এখনও স্পষ্ট ভাবে কারও নাম ঘোষণা করেনি। তবে গুঞ্জন রয়েছে, বর্তমান প্রশাসকই হবেন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী। সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করে যেতে পারলে এই পদে পরিবর্তন হবার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। আর সেই কারণেই নিজেকে প্রমাণ করতে এবং সঠিকভাবে সেবা দিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছেন বর্তমান প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন খান। তবে বিরোধী প্রধান দুই দলের মধ্যে এগিয়ে আছে জামায়াতের প্রার্থী। এনসিপির নেতাকর্মীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানান আলাপ আলোচনা তৈরি করলেও বাস্তবে মাঠ পর্যায়ে কাজ করে যাচ্ছে জামায়াত।
এনসিপির সম্ভাব্য প্রার্থী এখনও সেভাবে মাঠে নামতে পারেননি। এদিকে জামায়াতের মহানগরের আমীর মাওলানা আবদুল জব্বার বেশ কোমড় বেধেই নেমেছেন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে প্রার্থীতা করতে। ইতোমধ্যে তিনি সিটি কর্পোরেশনের প্রতিটি ওয়ার্ডে জামায়াতের নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে বৈঠক করছেন। সেই সাথে এলাকায় এলাকায় নিজের পরিচিতি বৃদ্ধি, প্রচার প্রচারণা, পোস্টারিং এবং নির্বাচনী বৈঠক চালিয়ে যাচ্ছেন। অন্যদিকে এনসিপি এখনও নারায়ণগঞ্জে মেয়র প্রার্থী চূড়ান্ত করেনি। সম্ভাব্য হিসেবে শওকত আলীকে এগিয়ে রাখলেও তিনি এখনও দৃশ্যমান কোন উদ্যোগ নেননি।
মহানগরের আহবায়ক পদ পাওয়ার পরেও নিজের কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রেখেছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের মধ্যেই। ওয়ার্ড পর্যায়ে যোগাযোগ বৃদ্ধি কিংবা নির্বাচনী গণসংযোগও শুরু করেননি। নেই নির্বাচনী সালাম জানিয়ে পোস্টারিং। সব মিলিয়ে একেবারেই আলোচনার বাইরে শওকত আলী।
এর আগে চলতি বছরের (২৫ ফেব্রুয়ারী) নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এড. সাখাওয়াত হোসেন খান। এদিকে দায়িত্ব নিয়েই আগামী ৬০ দিনের মধ্যেই হকার সমস্যা সহনীয় পর্যায়ের মধ্যে নিয়ে আসবো। এমন ঘোষণা তিনি বাস্তবায়নে সম্ভব হয়েছে। এর বাহিরে ও আরো একাধিক প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি যা বর্তমানে বাস্তবায়নে কাজ করছেন। এদিকে বর্তমানে সাখাওয়াতের নানা গতির কাজে আলোচনায় রয়েছেন তিনি। বর্তমানে মেয়র হিসেবে সাখাওয়াতকেই দেখতে ইতিমধ্যে প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন বিএনপি নেতাকর্মীরা।
কিন্তু এমতা অবস্থায় সাখাওয়াতের সাজানো বাগানে বাধা হয়ে আসছে জামায়াতের জব্বার ও এনসিপির শওকত আলী। কিন্তু বর্তমানে নির্বাচনের ঘোষণা না দিলে ও বড় চ্যালেঞ্জে রূপ নিয়েছে সাবেক মেয়র আইভীর কারামুক্তি। গত (৩ জুন) ১২টি মামলার বেড়াজাল থেকে মুক্তি হয়েছেন আইভী। বিগত দিনে আইভী নাসিকের প্রথম নির্বাচনে স্বতন্ত্র হয়ে নির্বাচিত হলেও পরবর্তীতে আওয়ামী লীগের সাথে তাঁর সংশ্লিষ্টতা বাড়ে।
বিশেষ করে ২০১৬ সালের সিটি নির্বাচনের আগে তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি পদ পান। তবে পদ পেলেও রাজনীতির মাঠে তাকে সক্রিয় ভূমিকায় দেখা যায়নি, বক্তব্যে সীমাবদ্ধ ছিল তাঁর রাজনীতি। নাসিক এলাকায় উন্নয়নে আইভীর বড় ভূমিকা থাকায় আইভীকে সাধারণ মানুষও সমর্থন যুগিয়েছে যেটি আওয়ামী রাজনীতির বাইরে তাকে স্বতন্ত্র পরিচিতি এনে দিয়েছিল। যাকে ঘিরে এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ছেড়ে স্বতন্ত্র নির্বাচন করলে ফ্যাক্টর হতে পারে আইভী।


