Logo
Logo
×

রাজনীতি

দুই নেতায় পরিণত হলো জেলা যুবদল

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ১২:০০ এএম

দুই নেতায় পরিণত হলো জেলা যুবদল

দুই নেতায় পরিণত হলো জেলা যুবদল

Swapno



চাঁদাবাজির অভিযোগে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নানের ছেলে ও জেলা যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক খাইরুল ইসলাম সজীবের বহিস্কারে ২ নেতায় পরিণত হলো নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদল। এদিকে দীর্ঘদিন যাবৎই জেলা যুবদলে ফের শুরু হয়েছে দূরত্বের দ্বৈরথ। আহ্বায়ক, সদস্য সচিবকে রোষানলে ফেলে আলোচনায় উঠতে চাইছেন, আবার অনেকেই পরিচিত মুখের দীর্ঘদিনের ত্যাগী যুবদল নেতাকে পিছনে ফেলতে চলছে নানা ষড়যন্ত্র।


জেলা যুবদলকে ঘিরেই পাওয়া গিয়েছিলো দ্বন্দ্বের আভাসসহ অস্থিরতার দৃশ্য। যার প্রভাব পরছে থানা, ইউনিয়ন, ওয়ার্ড, পৌরসভা যুবদলে। কমিটি গঠনের গত ৩ বছরে উন্নতি আসেনি জেলা ও মহানগর যুবদলে। সেই পুরনো ৩ সদস্য কমিটি ও সাবেক মেয়াদোত্তীর্ণ ইউনিট কমিটি পারেনি দিতে। তা ছাড়া মহানগর যুবদল নিজেদের কমিটি ৫১ সদস্য কমিটি দিতে পারলে ও ইউনিট কমিটি গঠনে ব্যর্থ হয়ে পরেছেন। যা গঠনে ও কমিটি বড় করতে কেন্দ্রীয় হাইকমান্ডের নির্দেশনাকে ও পাত্তা দেয়নি জেলা যুবদল। এদিকে বিতর্কিত এই যুবদল ৩ থেকে এখন ২ এ পরিণত হলো। তা ছাড়া গত ৫ আগষ্টের পর জেলা যুবদলের ৩ নেতাকে ঘিরেই ব্যাপক বিতর্ক লক্ষ্য করা গেছে। তা ছাড়া ৩ নেতার বিরুদ্ধে রয়েছে স্থানীয় বিভিন্নস্থানের অপকর্মের অভিযোগ।


সূত্র জানিয়েছে, জেলা যুবদলে ৩ সদস্যের বাহিরে পদধারী যুবদল নেতা না থাকায় যুবদলের নেতাদের শেল্টারে কিছু দুস্কৃতিকারী যুবদলের নাম ব্যবহার করে অপকর্মে করলে ও কোন প্রকারের ব্যবস্থাগ্রহণ হচ্ছে না। কিছুদিন পূর্বে ভাড়াটে যুবদল নামধারী কিছু লোক বিএনপির এক বয়স্ক নেতার উপর ও হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে। পরবর্তীতে পদ না থাকলে ও যুবদল থেকে ভেল্কি দেখানো বহিস্কার করা হয়।


যেখানে সদস্য সচিবের একক স্বাক্ষর থাকলে ও ছিলো না আহ্বায়কের স্বাক্ষর। যা নিয়ে আহ্বায়ক প্রকাশ্যে সদস্য সচিবের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বলেছিলেন, ‘আমাকে পুতুল বানিয়ে রাখা হয়েছে’। সকল অপকর্মের লক্ষ্য হিসেবে বর্তমানে না.গঞ্জ জেলায় যুবদল এক অভিসাপ হিসেবে নারায়ণগঞ্জবাসীর মনে গেঁথে বসেছে। এদিকে গত ২০২২ সালে নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের আংশিক কমিটি ঘোষণা দেয়া হয়।


এরপর থেকে যুবদলের রাজনীতিতে কমিটি ঠাঁই নিয়ে পদবঞ্চিতদের ক্ষোভ এবং অভ্যন্তরীণ কোন্দল একটি দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা রূপ নেয়। দীর্ঘদিন ধরে ‘আংশিক কমিটি’ নির্ভর রাজনীতি, শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ এবং পদ না পাওয়া কর্মীদের বিক্ষোভের কারণে প্রায়শই এই দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে রূপ নেয়। তা ছাড়া গত ২০২৪ সালের ৫ আগষ্টের পর একাধিক অভিযোগে কোনঠাসা যুবদল।


ঝুট সেক্টর থেকে শুরু করে অপকর্মের সঙ্গে যা জড়িত তাতেই যুবদল রয়েছে। এদিকে নারায়ণগঞ্জ যুবদল করা অভিশাপে পরিণত হয়েছে। তা ছাড়া জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটির ১৫১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে ঠাঁই হয়নি নারায়ণগঞ্জের কোন নেতা। নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর  যুবদলের কমিটি ঠাঁই নিয়ে যখন নেতারা নিজেদের অবস্থান অটল সেখানে কেন্দ্রীয় তালিকা ছিটকে পড়লেন অনেকে।

রবিবার (২১ জুন) দুপুরে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে চাঁদাবাজির অভিযোগে নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নানের ছেলে ও জেলা যুবদলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক খাইরুল ইসলাম সজীবকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সহযোগিতায় তাকে হেফাজতে নেয় নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ। পরে তাকে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং সন্ধ্যায় ডিবি কার্যালয়ে পাঠানো হয়।


একই সাথে এখানে জিজ্ঞাসা শেষে সন্ধ্যায় প্রায় ছয় ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। সর্বশেষ সকালে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের কাছে সজীবকে হস্তান্তর করেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তা ছাড়া একইদিনে তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগে কেন্দ্রীয় যুবদল সজীবকে বহিস্কার করেন। এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সোনারগাঁও-সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায় এই খাইরুল ইসলাম সজীবের বিরুদ্ধে ডজনে ডজনে অভিযোগ রয়েছে। একই সাথে জেলা যুবদলের আহ্বায়ক বিরুদ্ধে ফতুল্লা-আড়াইহাজার এলাকায় দখল-দারিত্বসহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে।


একই সাথে সদস্য সচিবের বিরুদ্ধে ফতুল্লার বিসিক এলাকায় ঝুট নিয়ন্ত্রণসহ তার বিরুদ্ধে মাসদাইর এলাকা নিয়ন্ত্রণ এমন নানান অভিযোগ রয়েছে। এদিকে বর্তমানে জেলা যুবদলের করুণ দশা থেকে আরো দুর্দশায় পরিণত হলো। যাকে ঘিরে আলোচনা উঠছে, জেলা যুবদল আর কতদিন, দুই নেতা কি আরো বড় সদস্যে ধারণ করতে পারবে।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন