Logo
Logo
×

রাজনীতি

৩৪ মাসেও শেষ হয়নি যুবদলের নাটকীয়তা

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৬, ১২:০০ এএম

৩৪ মাসেও শেষ হয়নি যুবদলের নাটকীয়তা

৩৪ মাসেও শেষ হয়নি যুবদলের নাটকীয়তা

Swapno



৩৪ মাস অতিবাহিত হলেও নারায়ণগঞ্জ যুবদল দেখাতে পারেনি সাংগঠনিক দক্ষতা। আহ্বায়ক কমিটি গঠনের পরপরই অভ্যন্তরীন কোন্দল ও বিভেদে জর্জড়িত হয়ে কেন্দ্রীয় নেতাদের আগমনের পোগ্রাম ছাড়া সাংগঠনিক আলোচনা কিংবা মধ্যস্ততার দেখা মিলেনি জেলা ও মহানগর যুবদলে। তা ছাড়া বর্তমানে জেলা ও মহানগর যুবদলে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে কেউ নেই।


এক সংগঠন থেকে এই পদের নেতাকে কোনঠাসা এবং আরেক সংগঠনে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এমপি মান্নানপুত্র সজীব চাঁদাবাজির অভিযোগে আটকের পর বহিস্কার হওয়ার পর বর্তমানে উধাও। এদিকে আগামী মঙ্গলবার ( ৩০ জুন) জেলা ও মহানগর যুবদলের যৌথ উদ্যোগে অপপ্রচার ও শিষ্টাচার বহির্ভূত রাজনীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ মিছিল ও সমাবেশে অনুষ্ঠিত হবে। এই কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকবেন ঢাকা বিভাগীয় পর্যবেক্ষক টিমের সদস্য ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সভাপতি ইয়াসিন ফেরদৌস মুরাদ, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন কেন্দ্রীয় যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবুল মনসুর খান দীপক এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাজেদুল ইসলাম।


এদের সামনে নারায়ণগঞ্জের যুবদল ঐক্যবদ্ধ, সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী রয়েছে সকলেই ঐক্যবদ্ধ এই ধরনের বেল্কি দিতেই গতকাল সাইবোর্ড গ্রান্ড চাদঁনী রেস্টুরেন্টে প্রস্তুতি সভায় আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব এমন নাটকীয় আলোচনা ঘটে। এদিকে কর্মীদের কোন পদ-পদবী না দিয়ে ঝুলিয়ে রেখে এখন আবার সেই পুরনো মিথ্যা আশ্বাসই দেওয়া হচ্ছে। এদিকে কিছুদিন পূর্বে মহানগর যুবদল নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে মহানগর ছাত্রদলের সাবেক প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি ও মহানগর যুবদল নেতা মাজহারুল ইসলাম জোসেফকে কোনঠাসায় রাখতে কেন্দ্রীয় যুবদলে তোড়জোড় করে একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি  প্রেরণ করা হয়।


অথচ গত ১৭ বছর যুবদল নেতা জোসেফ কী ধরণের ভূমিকা রেখেছে তা বিএনপি তো বটে, সাধারণ মানুষও স্বীকার করবে। জোসেফ নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাতাকালীন সভাপতি। অথচ হুট করে গতকাল পাঠানো এক প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, কে এম মাজহারুল ইসলাম জোসেফ নামে জনৈক ব্যক্তি বিভিন্ন স্থানে নিজেকে নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের বর্তমান কমিটির পদবিধারী নেতা পরিচয় দিচ্ছেন মর্মে অভিযোগ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির দৃষ্টিগোচর হয়েছে।


প্রকৃতপক্ষে নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম সজল এবং সদস্য সচিব সাহেদ আহমেদ-এর নেতৃত্বাধীন ৫১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে কে এম মাজহারুল ইসলাম জোসেফ নামে কেউ নেই। এতে আরও উল্লেখ করা হয়, তার অনৈতিক কর্মকাণ্ডের দায়ভার বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল বহন করবে না। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না এবং সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়ন এমপির নির্দেশনা অনুযায়ী এ বিজ্ঞপ্তি প্রেরণ করা হয়েছে। যা নিয়ে শুরু হয়েছে সমালোচনা।


মাজহারুল ইসলাম জোসেফ নারায়ণগঞ্জ যুবদলের একজন পরিচিত মুখ, তাকে কোনঠাসায় রাখতেই মরিয়া পদধারীরা। এদিকে মহানগরের আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম সজল বর্তমানে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কিংবা সদস্য সচিব হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন। এদিকে বর্তমানে কর্মীরা কোনভাবেই মূল্যায়িত না হওয়ায় আগের মতো সর্বকালের সেরা মিছিলের লোক জমায়েত না করে নারায়ণগঞ্জ যুবদলকে কেন্দ্রীয় নেতাদের সামনে ফ্লপ করতে বহু থানার নেতারা যোগ দিবেন না সেদিনের কর্মসূচিতে।


এদিকে জানা গেছে , জেলা ও মহানগর যুবদলের নেতার্দে অভ্যন্তরীন দ্বন্দ্বে কোনঠাসা হয়ে পরেছে থাকার নেতারা। পটপরিবর্তনের ২ বছর এবং কমিটি গঠনের ৩৪ মাস অতিবাহিত হলে ও দ্বন্দ্বে পারেনি ইউনিট কমিটি দিতে কিংবা নিজেদের কমিটির সম্মেলন করতে।   বর্তমানে না.গঞ্জ জেলা ও মহানগর যুবদল এক অভিসাপ হিসেবে নারায়ণগঞ্জবাসীর মনে গেঁথে বসেছে। এদিকে গত ২০২৩ সালে একই দিনে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর যুবদলের আংশিক কমিটি ঘোষণা দেয়া হয়।


এরপ থেকে যুবদলের রাজনীতিতে কমিটি ঠাঁই নিয়ে পদবঞ্চিতদের ক্ষোভ এবং অভ্যন্তরীণ কোন্দল একটি দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা রূপ নেয়। দীর্ঘদিন ধরে ‘আংশিক কমিটি’ নির্ভর রাজনীতি, শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ এবং পদ না পাওয়া কর্মীদের বিক্ষোভের কারণে প্রায়শই এই দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে রূপ নেয়। আংশিক কমিটি ও ধীরগতিতে বছরের পর বছর ধরে আংশিক কমিটি দিয়ে কাজ পরিচালনা করা হচ্ছে। মহানগর যুবদলের পূর্ণাঙ্গ হলেও এখনো জেলা পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনে চরম ধীরগতির কারণে পদপ্রত্যাশীদের মাঝে ক্ষোভ কাজ করছে। পূর্বে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর যুবদলের একাধিক নেতাকে দলের মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার মতো শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে কেন্দ্রীয় কমিটি শোকজ করেছে।


তা ছাড়া গত ২০২৪ সালের ৫ আগষ্টের পর একাধিক অভিযোগে কোনঠাসা যুবদল। ঝুট সেক্টর থেকে শুরু করে অপকর্মের সঙ্গে যা জড়িত তাতেই যুবদল রয়েছে। এদিকে নারায়ণগঞ্জ যুবদল করা অভিশাপে পরিণত হয়েছে। তা ছাড়া জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটির ১৫১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে ঠাঁই হয়নি নারায়ণগঞ্জের কোন নেতা।


এদিকে বিরোধী দলীয় একাধিক নেতাদের অভিযোগ, ৫ আগষ্টের পর বিএনপি নেতারা ক্লিন ইমেজ ধরে রাখতে অঙ্গসংগঠন যুবদল নেতাদের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতা করে ব্যবসা বানিজ্যেসহ সকল অপকর্মে থাকা সেক্টর দখলে নিয়েছেন। বর্তমানে বিতর্ক পিছু ছাড়েনি যুবদলের। বর্তমানে সকলেই সুবিধা নিতে একে অপরকে কোনঠাসার ভাবনায় মগ্ন। কিন্তু কেন্দ্রীয় নেতাদের আগমনেই ঐক্যরূপ লক্ষ্য করা যায় যুবদলে।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন