Logo
Logo
×

রাজনীতি

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে তোড়জোড়

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের  প্রস্তুতি নিয়ে তোড়জোড়

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে তোড়জোড়

Swapno



দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা স্থানীয় সরকার নির্বাচন আগামী অক্টোবর মাসে কয়েক দাপে অনুষ্ঠিত করার লক্ষ্যে কাজ করছেন নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সূত্র জানিয়েছে, কমিশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রথম ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) ও পৌরসভা নির্বাচনের আয়োজন করা হতে পারে। গতকাল সোমবার (৬ জুলাই) নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনে সীমানা বিরোধ নিষ্পত্তি নিয়ে সরকারকে চিঠি দিবে ইসি। যাতে নির্দিষ্ট সময়ে সব নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় সে ব্যাপারে আমরা সরকারকে সহযোগিতা করবো।


নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদসহ বিভিন্ন স্তরের জনপ্রতিনিধিত্বশীল প্রতিষ্ঠানগুলো বর্তমানে নির্বাচিত পরিষদবিহীন অবস্থায় প্রশাসক বা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। এতে করে জনগণ তাদের সঠিক সেবা পাচ্ছে না। বিশেষ করে পুরো জেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের বিগত সময়ে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান থাকায় জুলাই আন্দোলনে পতনের পরে অনেকেই এখনো পলাতক রয়েছে।


যার জন্য সঠিকভাবে সেবা পাচ্ছে না। নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলায় দীর্ঘ দিন যাবৎ প্রশাসক থাকায় নাগরিক সেবা পেতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। তাই রাজনৈতিক দলগুলো এবার জাতীয় নির্বাচনের পরে দ্রুত স্থানীয় নির্বাচনের দাবী জানান। আর এজন্য নারায়ণগঞ্জে স্থানীয় নির্বাচনে জনপ্রতিনিধি হতে বিএনপি জামায়াত-এনসিপি মাঠে নেমে নিজেদের মত প্রস্তুতি নিচ্ছে।   এই প্রেক্ষাপটে নির্বাচন আয়োজনের সময়সূচি নিয়ে সাম্প্রতিক বক্তব্য ও প্রস্তুতির আভাস নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এদিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আমেজ নারায়ণগঞ্জে নিয়ে এসেছে খেলাফত মজলিসে তারা নারায়ণগঞ্জ ৫ আসনের ঐক্যজোটের প্রার্থী হওয়া এবি.এম সিরাজুল মামুনকে সিটি নির্বাচনের প্রার্থী ঘোষণা করেছেন।


এদিকে গত ১৯ জুন জামায়াতে ইসলামী নারায়ণগঞ্জ মহানগরীর কর্মী সম্মেলনে হঠাৎ করে সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী হিসেবে আব্দুর জব্বারের হাত তুলে পরিচয় করিয়ে দেন কেন্দ্রীয় আমীর ও বিরোধী দলের প্রধান ড. শফিকুর রহমান। তা ছাড়া এককভাবে নির্বাচনে নামছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) তারা ঘোষণা না করলে ও গুঞ্জন রয়েছে মহানগর এনসিপির আহ্বায়ক শওকত আলীকেই প্রার্থী করা হতে পারে। যার ফলে তিন দলের প্রার্থীদের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বি হিসেবে বিএনপি কাকে মনোনয়ন দিবে এখনই প্রশ্ন উঠেছে। যদিও এ বিষয়ে বিএনপির হাইকমান্ডের কোন ধরনের তৎপরতা দেখা যায়নি।


তবে বিএনপির মনোনয়ন বাগাতে একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশী ইতোমধ্যে হাইকমান্ডের কাছে যেমন ধর্না দিচ্ছেন তেমনি নানা ধরনের তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। যাকে ঘিরে এবার কোন্দল ও বিদ্রোহ ছাড়াই বিএনপি প্রার্থী যাচাইয়ে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছেন। এদিকে সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এড. সাখাওয়াত হোসেন খান। এরই মাঝে নির্বাচনের ঘোষণা না দিলে ও নির্বাচনের আগেই নতুন মুখ হিসেবে উঠে এসেছেন সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী। তার মুক্তিতে ঘোলাটে আকারে রূপ নিয়ে নগরীর রাজনীতি, সকলেই নিশ্চুপ ভূমিকা পালন শুরু করেছেন।


যাকে ঘিরে এবারের সিটি নির্বাচন চ্যালেঞ্জের রূপে দেখছেন স্থানীয়রা। সকলেই বলছেন, এবার যারা নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায় রয়েছেন সকলেই পরিচিতি মুখ। তা ছাড়া বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী  না থাকায় মনোনয়ন চাইছেন বর্তমান প্রশাসক সাখাওয়াত, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও ব্যবসায়ী মাসুদুজ্জামান মাসুদ। এদিকে বিএনপি সম্ভাব্য প্রার্থী ঘোষণা না দেওয়ায় বিপাকে বিএনপি কর্মীরা। বিগত জাতীয় নির্বাচনে তিনবার বিএনপি প্রার্থী পরিবর্তন নিয়ে যে নাটকীয়তা হয়েছে তা এবার চায় না বিএনপি। এদিকে বর্তমানে ক্ষমতায় থাকায় নির্বাচনের তফসিলের আগেই প্রার্থী চায় বিএনপি।


নাসিকের আওতাধীন বর্তমানের ২৭টি ওয়ার্ডে এবার প্যানেল তৈরি করছেন জামায়াত, খেলাফত মজলিস, এনসিপি। পাশাপাশি আগে থেকেই আভাস পেয়ে বিদ্রোহ করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এদিকে সদর উপজেলা, রূপগঞ্জ উপজেলা, আড়াইহাজার উপজেলা, সোনারগাঁও উপজেলা, বন্দর উপজেলাসহ একাধিক ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের প্রস্তুতি ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। আগামী মাসে তফসিল ঘোষণা শেষেই অক্টোবরে নির্বাচন সুষ্ঠ করার পক্রিয়া চালু হবে। বর্তমানে উপজেলা নির্বাচনে মনোনয়ন চাইছেন রূপগঞ্জ উপজেলায় বিএনপি থেকে উপজেলার চেয়ারম্যান প্রার্থী হতে চাওয়া গোলাম ফারুক খোকন এবং মাহফুজুর রহমান হুমায়ন বিভিন্ন ভাবে প্রচার প্রচারণায় চালাচ্ছিলেন।


এরমধ্যে সোনারগাঁ উপজেলার বিএনপির চেয়ারম্যান প্রার্থী হতে চাওয়া আল মুজাহিদ মল্লিক,মোস্তফিজুর রহমান মামুন, কাজী নজরুল ইসলাম টিটু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে শুরু করে বিভিন্ন ভাবে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। পাশাপাশি এনসিপি থেকে সোনারগাঁ উপজেলায় চেয়ারম্যান প্রার্থী হতে চাওয়া তুহিন মাহমুদ উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে অংশ নিতে গণসংযোগ বিভিন্ন প্রচারণামূলক কর্মকান্ড অব্যাহত রেখেছিলেন। বর্তমানে জামায়াত-এনসিপিতে দ্বন্দ্ব না থাকলে ও স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে দ্বন্দ্বে জড়াচ্ছেন ক্ষমতাসীন দল বিএনপি।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন