Logo
Logo
×

রাজনীতি

এক মুচলেকায় সজীবের রাজনৈতিক পরিসমাপ্তি

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম

এক মুচলেকায় সজীবের  রাজনৈতিক পরিসমাপ্তি

এক মুচলেকায় সজীবের রাজনৈতিক পরিসমাপ্তি

Swapno



ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী এমপি পুত্র হয়ে ও চাঁদাবাজির অভিযোগে রাজনৈতিক পতন ঘটলো জেলা যুবদলের বহিস্কৃত সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মান্নানপুত্র খাইরুল ইসলাম সজীবের। এক মুচলেকা তার দীর্ঘদিনের জীবনের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের মোড় পাল্টে দিলো। মুচলেকা দিয়ে ছাড়া পাওয়া নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য (এমপি) আজহারুল ইসলামের ছেলে খাইরুল ইসলাম সজীব দেশ ত্যাগ করেছেন বলে জানা গেছে। মুচলেকা দেয়ার এক সপ্তাহের মধ্যে রবিবার (২৮ জুন) তিনি দেশ ত্যাগ করেছেন বলে জানান বিএনপির রাজনীতি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্র।


এর আগে একাধিক চাঁদাবাজির অভিযোগে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রবিবার (২১ জুন) গভীর রাতে মুচলেকা নিয়ে খাইরুল ইসলাম সজীবকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। জানা যায় মুচলেকায় শর্ত হিসেবে ছিলো একটাই শর্ত সজীবকে ছাড়াতে হলে দিতে হবে মুছলেকা, রাজনীতি থেকে চিরতরে বিদায় নিয়ে পারি জমাতে হবে সুদূর প্রবাসে নারায়ণগঞ্জ তো দূরের কথা দেশের মাটিতে আর থাকা চলবে না। স্থায়ীভাবে বসবাস করতে হবে বিদেশে।


অবশেষে সেই মুচলেকা ও কঠোর শর্তের বিনিময়ে মুচলেকায় ছাড়া পাওয়ার পর সজীবকে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে এশিয়ার দেশ ফ্রান্সে। এ ব্যাপারে সোনারগাঁ, সিদ্ধিরগঞ্জের বিএনপি নেতাদের সাথে যোগাযোগ করা হলেও তারা কেউ মুখ খুলতে চাননি। এদিকে সাম্প্রতিক এ ঘটনায় দেখা যাচ্ছে, সেখানে একজন সংসদ সদস্যের ছেলেকে চাঁদাবাজির অভিযোগে আটক করার পর জিজ্ঞাসাবাদ করে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। প্রায় ১২ ঘণ্টা পর মুচলেকা নিয়ে ছেড়েও দেওয়া হয়। ‘বেশ কিছু অভিযোগের’ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁকে আটক করা হয়েছিল বলে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়ছিল।


এই ঘটনা রাষ্ট্রের ফৌজদারি বিচারব্যবস্থা, পুলিশের ক্ষমতার প্রয়োগ এবং আইনের শাসনের বাস্তব কার্যকারিতা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন তুলেছে। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলামের ছেলে খাইরুল ইসলাম সজীবের বিরুদ্ধে সিদ্ধিরগঞ্জ, সোনারগাঁ ও কাঁচপুর শিল্পাঞ্চলে একাধিক কারখানা ও পণ্যবাহী যানবাহন থেকে চাঁদা তোলা, ট্রাক আটকে অর্থ আদায় এবং ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণের মতো গুরুতর অভিযোগ ওঠে।


স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি, সজীবের দাবিমতো অর্থ না দিলে পণ্যবাহী যান চলাচলে বাধা সৃষ্টি করা হতো, যা কিনা সরাসরি শিল্প উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থাকে ব্যাহত করে। পরবর্তী সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাঁকে সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশে হেফাজতে নেয় এবং ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। এরপর রাজনৈতিক সংগঠন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল তাঁকে বহিষ্কার করে, যা ঘটনার রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে দেয়।


এদিকে গত রবিবার (২১ জুন) রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার বাসা থেকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের জেলা ডিবি পুলিশ তাকে হেফজতে নেয়। নানা অনিয়মে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগে সজীবকে প্রাথমিক সদস্য পদসহ যুবদল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহসভাপতি নুরুল ইসলাম সোহেল স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।


বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বহিষ্কৃতদের কোনো অপকর্ম দল নেবে না। যুবদলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীকে সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়। ক্ষমতার দাপটে শরীরের গরমে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো নিয়ন্ত্রণে নিতে গিয়েই বেকায়দায় সজীব। বড় ধাক্কায় দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে পরলো চাঁদাবাজির ছিল, অবশেষে ছাড়তে হলো দেশ।


এদিকে রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের ভাষ্য, রাজনীতিতে ব্যাপক প্রভাব দেখাতেন সজীব। কেন্দ্রীয় যুবদলের একাধিক নেতাদের সঙ্গে উঠা বসা থাকায় যখন ইচ্ছা যাকে খুশি তাকে বহিস্কার-শোকজ করতেন এই সজীব। তিনি এলাকায় বলে বেড়াতেন কাউকে বহিস্কার কিংবা শোকজ করাতে তার একটি ফোনই যথেষ্ট এমনটাই জানিয়েছে একাধিক রাজনৈতিক সূত্র। কিন্তু সময়ের অবর্তমানে গাম্বিরতায় রাজনীতি থেকে ছিটকে পরলেন এই এমপি পুত্র। শুধু তাই নয়, মুচলেকায় ছাড়তে হলো দেশ। এখানেই পতন ঘটলো দীর্ঘদিনের রাজনীতির।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন