Logo
Logo
×

রাজনীতি

কেড়ে নেওয়া বিএনপি কার্যালয় ফিরিয়ে দেয়ার উদ্যোগ

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ০১ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম

কেড়ে নেওয়া বিএনপি কার্যালয় ফিরিয়ে দেয়ার উদ্যোগ

কেড়ে নেওয়া বিএনপি কার্যালয় ফিরিয়ে দেয়ার উদ্যোগ

Swapno



দীর্ঘ ১০ বছর আওয়ামী লীগের খপ্পরে সিটি কর্পোরেশনের কেড়ে নেওয়া সেই দোয়েল সিটি প্লাজায় জেলা ও মহানগর বিএনপির কার্যালয় ফিরিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন নাসিক প্রশাসক এড. সাখাওয়াত হোসেন খান। তার এমন আশ্বাসে স্বস্তি¡ ফিরেছে বিএনপির নেতাকর্মীদের মাঝে।


গত বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বেলা সাড়ে ১২টায় নগরভবনের অডিটোরিয়ামে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ১৫ তম বাজেট ঘোষণার অনুষ্ঠানে জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এড. হুমায়ূন কবিরের দেওয়া বক্তব্যে কার্যালয়ের দাবিতে নাসিক প্রশাসক এই আশ্বাস দেন।


এদিকে ২০১৭ সালে নতুন ভবন (দোয়েল সিটি প্লাজা ১) নির্মাণের জন্য বিএনপি কার্যালয়সহ পুরেনা স্থাপনা ভেঙে ফেলে নাসিক। তখন এ নিয়ে মহানগর বিএনপির এক নেতা সিটি করপোরেশনের বিরুদ্ধে মামলাও করেন।  তা ছাড়া স্থাপনা ভেঙে ফেলার সময় ফের এখানে তাদের একটি অফিস দেওয়া হবে বললেও তা ও দেওয়া হয়নি।  যাকে ঘিরে অভ্যন্তরীন কোন্দলে জর্জরিত হয়ে দীর্ঘ প্রায় ১০ বছরের কাছাকাছি সময় ধরে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপি ঠিকানাবিহীন অবস্থায় রয়েছে। অস্থায়ী কিংবা নামকাওয়াস্তে ব্যক্তিগত কার্যালয় দিয়েই চলছে তাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম।


এরই মধ্যে কয়েক দফায় পদে থাকা নেতাদের বদল হলেও নারায়ণগঞ্জ বিএনপির স্থায়ী ঠিকানা আর মিলছে না। নেতারা নিজের মতো করে নিজ নিজ বাসা বাড়ীকেই কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করতে শুরু করছেন। ফলে নেতাকর্মীরা অনেকটাই ছন্নছাড়া হয়ে দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকেন। তা ছাড়া ক্ষমতায় আসার ৬ মাস অতিক্রমসহ নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন ও নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদ নিজেদের আওতায় রয়েছে।


কিন্তু এরপরে ও কার্যালয় নিয়ে নেই কোন আলোচনা। নির্বাচনের পূর্বে কার্যালয় নিয়ে আলোচনা উঠলেই নির্বাচনের পরপরই কার্যালয় স্থাপনের আশ্বাস দেন নেতারা। নির্বাচনের পরপরই সেই আশা বর্তমানে ভেস্তে গেছে বললেই চলে। তা ছাড়া বিরোধী দল জামায়াত-এনসিপিসহ সকলের বর্তমানে কার্যালয় থাকলে ও বড় দল বিএনপি ঠিকানাহীন অবস্থার সুরাহ হচ্ছে না। এমন প্রশ্ন নানাভাবে উঠলে ও এবার কার্যালয় ফেরত পাচ্ছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। যাকে ঘিরে নাসিক প্রশাসককে বাহাবা দিচ্ছেন দলীয় নেতাকর্মীরা।  


সূত্র বলছে, এদিকে দীর্ঘদিন ধরে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় ছিলো আওয়ামী লীগ। আর এই ক্ষমতায় থাকাবস্থায় নারায়ণগঞ্জ বিএনপির নেতাকর্মীরা অনেক নির্যাতন নীপিড়নের শিকার হয়েছেন। দিনের পর দিন মাসের পর মাস এবং বছরের পর বছর বিএনপির নেতাকর্মীদেরকে পরিবার পরিজন ছেড়ে দিন যাপন করতে হয়েছে। সেই সাথে তারা আন্দোলন সংগ্রামেও অংশ নিতে পারতেন না। ব্যবসা বাণিজ্যেও নানাভাবেই বাধার শিকার হয়েছেন। সব মিলিয়ে তাদের যেন স্বাভাবিক জীবন যাপন ছিলো না। যার দোহাই দিয়ে বিএনপি স্থায়ী কার্যালয় নিয়ে তেমন মনযোগ দেয়নি।


এরই মধ্যে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। আর এই পতনের মধ্যে দিয়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়েও আলাপ আলোচনা শুরু হয়। সেই সাথে প্রতিদ্বন্দ্বীতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। আর এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় এসেছে বিএনপি। সেই সাথে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান।


ফলে এবার নারায়ণগঞ্জ বিএনপি ঠিকানায় ফিরতে পারবে কিনা তা নিয়ে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। তা ছাড়া দলীয় নেতাকর্মী অনেকেই সিটি প্রশাসকের দায়িত্ব এড. সাখাওয়াত পাওয়ার পরপরই তার বরাবার প্রথম দাবি হিসেবেই তুলে ধরেছিলেন ডিআইটিতে বিএনপির সেই পুরনো কার্যালয় উদ্ধার। কিন্তু সেই দাবি ও ইতিমধ্যে বাস্তবায়নে রূপ নেয়নি। এদিকে এর আগে বিএনপি তিন মেয়াদে ক্ষমতায় আসলেও নারায়ণগঞ্জে বিএনপির কোন পাকাপোক্ত কার্যালয় করতে পারেনি এখানকার বিএনপির ওই সময়ের এমপিরা।


২০০৯ সালে অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার নারায়ণগঞ্জ বিএনপির নেতৃত্বে আসার পর তৎকালীন নারায়ণগঞ্জ পৌরসভা থেকে দোকান হিসেবে ইজারা নিয়ে ডিআইটি বাণিজ্যিক এলাকায় বিএনপির কার্যালয় করেন। সেই সাথে বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে বিআরটিসির চেয়ারম্যান হয়ে অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার বিএনপির কার্যালয়টির জন্য পৌরসভা থেকে দোকান বরাদ্দ নেন। তৎকালিন নগর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট জাকির হোসেনের নামে এ দোকান ভাড়া নিয়ে বিএনপির কার্যালয় করা হয়। পরবর্তীতে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সঙ্গে কার্যালয় নিয়ে মামলায় হেরে যাওয়ার পর ২০১৭ সালের ১০ মার্চ কার্যালয় ভবন ভেঙ্গে ফেলে।


পরবর্তীতে সেখানে মার্কেট হলে বিএনপির কার্যালয় বুঝিয়ে দেয়ার কথা থাকলেও এখনও সেই অফিস বুঝিয়ে দেয়া হয়নি বিএনপি নেতাকর্মীদের। এদিকে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির কার্যালয় ভেঙ্গে তৎকালিন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র জেলা বিএনপিকে একটি অস্থায়ী কার্যালয়ের জন্য স্থান নির্ধারণ করতে বলেছিলেন মেয়র। স্থান নির্ধারন হলে সেখানে জায়গা বরাদ্ধ দিতেন নাসিক। কিন্তু সে সময়ে নেতৃত্বে থাকা নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির তৎকালিন সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান ও সাধারণ সম্পাদক মামুন মাহমুদের এ নিয়ে কোন আগ্রহ দেখাননি। একই সাথে মহানগর বিএনপির পদে থাকা নেতারাও কোনো আগ্রহ দেখাননি। সেই সাথে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপির নেতাকর্মীরা ঘরমুখী হয়ে পড়েন। দলীয় কোনো কর্মসূচিতেই তাদের রাজপথে দেখা মিলতো না।


নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপির বিভিন্ন গলিভিত্তিক কর্মসূচি পালিত হতো। ফলে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির কোনো স্থায়ী ঠিকানাও হয়নি। এরপর থেকেই এখন পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ বিএনপি নতুন করে আর কার্যালয় নিতে পারেনি। এদিকে গত ৫ আগষ্টের পর সাবেক কার্যালয়ের স্থানে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপির কার্যালয় নামে বিশাল ব্যানার টানিয়ে রেখেছেন বিএনপি নেতাকর্মীরা। নেতাকর্মীরা জানান, আওয়ামী লীগের পতনের পর কার্যালয়টি উদ্ধার করতে একাধিকবার পদক্ষেপ নেয়া হলেও এখনও সিটি করপোরেশন কার্যালয়টি বুঝিয়ে দেয়নি। দলের শীর্ষ নেতারা সোচ্চার হলে আরও আগেই কার্যালয়টি উদ্ধার করতে পারত বিএনপি।


এরই মধ্যে সকল প্রতিবন্ধকা পেরিয়ে বিএনপি সুসময়ে ফিরছে। যার ধারাবাহিকতায় নারায়ণগঞ্জের ৪ টি আসনে বিএনপি নেতারা সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান। সেই সাথে নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ। কিন্তু বর্তমানে বিএনপিতে ফের শুরু হয়েছে কামড়াকামড়ি যা নিয়ে হচ্ছে না বিএনপির কার্যালয়। তা ছাড়া বর্তমানে বিরোধী দল হলে ও নিজেদের মধ্যে ঐক্য থাকায় বর্তমানে জামায়াত-এনসিপি শহরে নিজ কার্যালয় থেকে সাংগঠনিক কার্যক্রমের লিড দিচ্ছে।


কিন্তু বড় দল বিএনপির কার্যালয় না থাকায় কর্মী-সমর্থকদের মাঝে হতাশা। কিন্তু সকল সমস্যা কাটিয়ে এবার হোটেল কিংবা হোসিয়ারীর কমিউনিটি সেন্টারের অফিসে কার্যালয় ছেড়ে জামায়াত-এনসিপির নেতাকর্মীদের মতোই বসার স্থান, সাংগঠনিক আলোচনার  স্থান হিসেবে কার্যালয় পাচ্ছে বিএনপি।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন