দ্বন্দ্ব কমছে না বিএনপির দল গোচাচ্ছে জামায়াত
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
দ্বন্দ্ব কমছে না বিএনপির দল গোচাচ্ছে জামায়াত
নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে বর্তমান ক্ষমতাসীন দল বিএনপিতে অভ্যন্তরীন কোন্দলকে ঘিরে দ্বন্দ্ব লেগেই আছে। দলের নেতাকর্মীরা একের পর এক ঘটনায় সমালোচিত হয়ে ব্যাকফুটে যাচ্ছেন। আর তাদের বিপরীতে বর্তমান প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা বিভিন্ন কর্মকাণ্ডরে মধ্যে আলোচনায় রয়েছেন। বিএনপির নেতাকর্মীরা নানারকম নেতিবাচক কর্মকাণ্ডে নিজেদের ব্যস্ত রাখলেও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা সামাজিক কর্মকান্ডের পাশাপাশি সাংগঠনিক কর্মকান্ডে নিজেদের ব্যস্ত রাখছেন। এদিকে বর্তমানে বিএনপি নেতাকর্মীরা চাঁদাবাজি, আধিপত্য বিস্তারে মারামারি, পরিবহন চাঁদাবাজিসহ নানা ঘটনায় সমালোচিত বিএনপি।
সেখান থেকে বিএনপিকে ব্যাকফুটে ফেলতে একের পর এক কর্মকান্ড ও জনগণের কাছে বিএনপিকে করছেন ছোট। এদিকে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা কোনো রকম বাধা প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই প্রকাশ্যে সভা-সমাবেশ করার সুযোগ পেয়ে সাংগঠনিকভাবে নিজেদের গোছাতে শুরু করেছেন। এদিকে জামায়াত নানা কর্মকাণ্ডে থাকলে ও তা সকলই আড়ালে আবডালে। তা ছাড়া স্থানীয় সরকার নিবার্চনকে ঘিরে প্রকাশ্যে ওয়ার্ড-ইউনিয়নসহ সিটি কর্পোরেশনে ও প্রার্থী ঘোষণা করে প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছে।
আর এই সরকার পতনের মধ্য দিয়ে সারাদেশের মতো নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর জামায়াত ইসলামের নেতাকর্মীরা প্রকাশ্য আসেন। সেই সাথে তারা বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে জনগণের দৌড়গোড়ায় পৌঁছাতে থাকেন। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নারায়ণগঞ্জের নিহত ও আহতদের বাসায় বাসায় গিয়ে হাজির হতে থাকেন নারায়গঞ্জ জামায়াত ইসলামের নেতাকর্মীরা। বিভিন্ন বাসায় বাসায় গিয়ে তারা নিরবেই আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করেন।
কারও কারও বেলায় সকল দায়িত্ব নেন জামায়াত ইসলাম। বিভিন্ন মেডিকেল সেবা নিয়েও তারা জনগণের দৌড়গোড়ায় যাচ্ছেন। সর্বশেষ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ২য় বার্ষিকী উপলক্ষ্যে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে মাসব্যাপী কর্মসূচি পালন করা হয়। এর পশাপাশি আগামী নির্বাচন নিয়ে জনগণের দাড়ে জামায়াতকে পৌঁছে দিচ্ছেন নেতারা। অন্যদিকে সমালোচনার দিকে বিএনপি একের পর এক চাঁদাবাজির অভিযোগ বাড়ছে। ৫ আগষ্টের পরবর্তীতে বিএনপির বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ থাকলে ও গভীর জলে ডুব দিয়ে সুবিধা নিয়ে ও ক্লিন ইমেজে জামায়াত।
এদিকে নারায়ণগঞ্জে দীর্ঘদিন ধরেই চাঁদাবাজি একটি বহুল আলোচিত সমস্যা। জেলার বিভিন্ন শিল্পাঞ্চল, পরিবহন খাত, কাঁচাবাজার, পাইকারি ব্যবসা কেন্দ্র, হকার নিয়ন্ত্রণ, ঘাট ইজারা এবং নির্মাণকাজকে ঘিরে নানা সময়ে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠছে বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীদের অনেকেই প্রকাশ্যে অভিযোগ করতে না চাইলেও ব্যবসায়ী মহলে এ বিষয়ে অসন্তোষ দীর্ঘদিনের। তাদের দাবি, প্রশাসনের নজরদারি বাড়লেও মাঠপর্যায়ে কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় চাঁদাবাজ চক্রগুলো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসছে না।
একই সাথে নারায়ণগঞ্জে জাময়াত ইসলামের সহযোগী সংগঠন হিসেবে পরিচিত ইসলামী ছাত্র শিবির, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন এই দুটি সংগঠনের অস্তিত্ব নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে রয়েছে। অন্যদিকে বিএনপির যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল সকলটিই দুর্বল। তা ছাড়া সকল সংগঠনই দ্বন্দ্বে জর্জড়িত। একই সাথে শুশৃঙ্খল থেকে দল গোচাচ্ছে জামায়াত নেতারা একই সাথে নেতারা নির্বাচনী শক্তি ও অজর্ন করছেন।


