দীর্ঘদিন আন্দোলন সংগ্রামের ফলে স্বৈরাশাসক বিদায় নেয়। যারে ফলে বিগত দিনে দেশের বড় বিরোধী দলে থাকা বিএনপি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠন করতে সক্ষম হন । কিন্তু এই নির্বাচনকে ঘরে বিএনপি মনোনয়নকে ঘিরে এমনকি ক্ষমতার আকস্মিক রদবদলে বিগত দিনে একাধিক নেতারা অন্য নেতাদের নেতৃত্বে থাকায় বর্তমানের রদবদলে নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা ক্ষোভ জানিয়েছেন, আইনশৃঙ্খলা কমিটির মিটিং কিংবা থানা-উপজেলায় সামাজিক কার্যক্রম, সরকারি নানা বরাদ্দসহ নানা পোগ্রাম হলে ও একটিতে ও দাওয়াত পায় না বন্দর থানা ও উপজেলার সভাপতি-সেক্রেটারী কেউ।
ইতিমধ্যে বন্দর থানা ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক দাবি জানিয়েছেন, আওয়ামী স্বৈরশাসকের বিরুদ্ধে আন্দোলনের মাঠে ছিলেন না, মামলা-হামলা কিংবা নির্যাতনের শিকার হননি, পালিয়েও থাকতে হয়নি, বরং বিগত দিনে তাল মিলিয়ে চলেছেন আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে, তারাই এখন বিএনপির দাপুটে ‘হর্তাকর্তা’।
তাদের সঙ্গে যোগ হয়েছেন নব্য বিএনপি নামধারী অনেকে, যারা কখনও বিএনপিতে সম্পৃক্ত ছিলেন না, তারাই এখন নানা জায়গায় দাপটের সঙ্গে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এসব হাইব্রিডদের আবির্ভাব ঘটায় বিএনপির ত্যাগী নেতাকর্মীরা এখন মূল্যায়িত হচ্ছেন না। অভিযোগ, দলটির সাংসদ সদস্যরা ত্যাগী নেতাকর্মীদের দিকে দৃষ্টি দিচ্ছে না। এতে দিনদিন কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত ক্ষোভ বাড়ছে। যার প্রভাব পড়ছে দলীয় রাজনীতিতে। ফলশ্রুতিতে দিনদিন দলের সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে।
বন্দর থানা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব শাহেন শাহ আহম্মেদ বলেন, বর্তমানে আমাদের সঙ্গে এমন আচরণ করা হচ্ছে, আমরা যেমন বিএনপি নয় আওয়ামী লীগ করি। আমাদের বিগত আন্দোলন সংগ্রামে পোড় খাওয়া নেতাদের কোনভাবেই মূল্যায়িত করা হচ্ছে না। মহানগর বিএনপি আমাদের দলীয় পোগ্রামে দাওয়াত দিলে ও বর্তমান আমাদের সরকার ক্ষমতায় থাকায় বিএনপিরই নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে এড. আবুল কালাম সাংসদ সদস্য, নারায়ণগঞ্জে সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক, নারায়ণগঞ্জে উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান সকলেই বিএনপির হলে ও তাদের নানা পোগ্রাম কিংবা আইনশৃঙ্খলা মিটিং কিছুই আমি থানা বিএনপির সভাপতি হিসেবে আমাদের দাওয়াত দেওয়া হয় না।
বন্দর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাজহারুল ইসলাম হিরণ বলেন, বর্তমানে আমরা কোন রকম দিন চালিয়ে যাচ্ছি। ক্ষমতায় থাকলে ও আমাদের মধ্যে কোন জৌলুস নেই। আমরা এমপি সাহেবের কাছ থেকে কোন দলীয় পোগ্রাম ও সামাজিক পোগ্রাম কোথাও দাওয়া পাই না। উপজেলা বিএনপির সভাপতি হিসেবে পুরোই অবমূল্যায়িত।
বন্দর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ লিটন বলেন, মহানগর বিএনপিকে নিয়ে আমাদের কোন অভিযোগ নেই। কিন্তু নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে বন্দরের সাংসদ নির্বাচিত হলে ও আমাদের কোন মূল্যায়ন নেই। ইতিমধ্যে দফায় দফায় আইনশৃঙ্খলা কমিটির মিটিং কিংবা থানা-উপজেলায় সামাজিক কার্যক্রম, সরকারি নানা বরাদ্দসহ কোথায় আমাদের মূল্যায়িত করা হয় না। আমরা যেমন বন্দর উপজেলার বিএনপির অদৃশ্য সাধারণ সম্পাদক। যারা বর্তমান এমপি সাহেবের চোখে পরি না।