যুবলীগের ক্যাডার জানে আলম বিপ্লব এখনো অধরা
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
যুবলীগের ক্যাডার জানে আলম বিপ্লব এখনো অধরা
নারায়ণগঞ্জ গডফাদার শামীম ওসমানের আর্শীবাদে একজন ডাকাত-ছিনতাইকারীকে যুবলীগের ট্যাগ ব্যবহার করে জানে আলম বিপ্লবকে দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসে পরিণত করেছিল। এছাড়া বিশাল ক্যাডার বাহিনী গড়ে তুলে কায়েমপুর, তল্লা, খাঁনপুর, আজমেরীবাগ, সবুজবাগে বিপ্লবের সন্ত্রাসী চাঁদাবাজি, ভূমিদসু্যূতা, চুরি, ছিনতাই, ঝুট সন্ত্রাসী ও দখলবাজীর মহোৎসব গড়ে তুলেছিলেন। এছাড়াও শামীম ওসমানের নেতৃত্বে নারায়ণগঞ্জে সন্ত্রাসী কার্যকলাপে প্রকাশ্যে দিবালোকে অস্ত্র নিয়ে দাপিয়ে বেড়াতেন দুর্ধর্ষ বিপ্লব। এরমধ্যে আলোচিত ছিল হকার উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জে আওয়ামীলীগের দুপক্ষের সংঘর্ষ এবং জুলাই-আগস্টের ছাত্র আন্দোলনে ছাত্র জনতার উপর শামীম ওসমানের নেতৃত্বে হামলা যেখানে সরাসরি সামনের সারি থেকে অংশ নিয়েছিলেন বিপ্লব।
এছাড়া এসকল এলাকাকে বিপ্লব নিজেকে এক রাজা হিসেবে এক দেশে পরিণত করেছিলেন। এছাড়া আওয়ামীলীগে রাজনৈতিক তেমন কোন ইতিহাস না থাকলেও সে হতে চেয়েছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবলীগের শীর্ষ পদে অধিকারী। এছাড়া ফতুল্লা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বাগাতে চেয়েছিলেন। কেননা ফতুল্লা ইউপির একাংশের এলাকায় ছিল বিপ্লবের নিয়ন্ত্রণ। বিপ্লবের ইশারা ছাড়া ফতুল্লা ইউপির একাংশের এলাকায় গাছের পাতা নড়াও ছিল দুষ্কর।
২০২২ সালের দিকে জানে আলম বিপ্লবকে ‘সন্ত্রাসী’ বলে সম্বোধন করে তার বিরুদ্ধে হামলা ও ৫ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ করেছেন আজমেরীবাগ কেন্দ্রীয় উন্নয়ন ও পঞ্চায়েত কমিটির সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান। মিজানুর রহমান বলেন, গত ৩১ মে রাত পৌনে ১২টার দিকে তল্লার আজমেরীবাগ এলাকায় অভিযুক্ত জানে আলম বিপ্লব ও তার লোকজন নিয়ে মিজানুর রহমানের উপরে হামলা চালায়। এই সময় সাথে থাকা ৫ লাখ টাকাও ছিনতাই করে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ তার। বাবাকে হামলা থেকে বাঁচানোর জন্য কলেজপড়ুয়া ছেলে মুশফিকুর রহমান এগিয়ে আসলে তাকেও গুরুতর আহত করে হামলকারীরা। হামলা থেকে বাঁচার জন্য প্রতিবেশীর বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নিলে সেখানেও ভাঙচুর চালানো হয় বলে অভিযোগ মিজানুর রহমানের।
পরে জাতীয় জরুরি সেবার হটলাইন ৯৯৯ এ কল করে উদ্ধার হন তারা। এই ঘটনায় ১ জুন সকালে ফতুল্লা মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন বলে জানিয়েছেন মিজানুর। স্থানীয় সামাজিক কর্মকান্ড করতে গিয়ে জানে আলম বিপ্লবের সাথে দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছে বলে দাবি মিজানুর রহমান বলেন, ‘বিপ্লব একজন সন্ত্রাসী। সে তার বাহিনী দিয়ে এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালায়। এলাকায় কেউ ভালো কাজ করতে গেলে তার বিরুদ্ধে চলে যায় বিপ্লব বিগত সময়ে এলাকায় ওয়াসার লাইন সংযোগের জন্য প্রতি বাড়ি থেকে ৩ হাজার টাকা করে প্রায় ১০ লাখ টাকা তুলেছে।
যার একটি টাকারও হিসাব নাই, ওয়াসার সংযোগও নাই। করোনার সময় বাড়িওয়ালাদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা তুলেছে। কিন্তু সেই টাকায় কাকে বা কাদের সহযোগিতা দিছে কেউ জানে না। এদিকে বিপ্লবের বিরুদ্ধে শত শত অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু কখনোই এই সন্ত্রাসী বিপ্লব শামীম ওসমানের ছত্রছায়ায় আইনের আওতায় আসেনি।


