ভাগ-বাটোয়ারার দ্বন্দ্বে বিচ্ছিন্ন জেলা স্বেচ্ছাসেবক দল
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
ভাগ-বাটোয়ারার দ্বন্দ্বে বিচ্ছিন্ন জেলা স্বেচ্ছাসেবক দল
আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও গ্রুপিংয়ের বেড়াজালে ছন্ন বিচ্ছিন্ন নারায়ণগঞ্জ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দল। কমিটির আহ্বায়ক মাহবুব হোসেন ও সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম রফিক স্থানীয় একই থানার দুই বলয়ে থাকাকে ঘিরে দ্বন্দ্বের জালের বিস্তার শুরু হয়। যাকে ঘিরে গত গত ৫ আগষ্টের পরবর্তীতে ভূলতা গোলাকান্দাইল এলাকায় ভাগ-বাটোয়ারা, আধিপত্য বিস্তারকে ঘিরে দুই নেতার দুই গ্রুপের সংঘর্ষ ঘটে। যা নিয়ে দীর্ঘদিন উত্তেজনার দেখা মিললে স্বেচ্ছাসেবক দলের রাজনীতির পরিস্থিতি থমথমে লক্ষ্য করা যায়।
এমতা অবস্থায় সাংদস নির্বাচনকে ঘিরে বিভক্তের দুইজন এক এমপির ছায়াতলে আসলে ও নিজেদের আধিপত্যতে ছাড় দিতে রাজি নয় কেউ। অন্যদিকে সদস্য সচিব সালাউদ্দিন সাল্লু প্রথম থেকেই আলাদাভাবে রফিকের সঙ্গে যোগসাজসসহ এমপি মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপুর কর্মী হিসেবে নিজেকে পরিচয় দেয়। যাকে ঘিরে রফিকের শত্রু আহ্বায়ক মাহবুবকে সাইডে রেখে আলাদাভাবে জেলা স্বেচ্ছাসেবক গ্রুপ তৈরি করে। একই সাথে থানা, উপজেলা কমিটি যেন না হয় এবং কমিটির মাধ্যমে যেন কেউ কাউর ঢেড়ায় হাত না দিতে পারে সেই হিসেব নিয়ে নিজেদের আলাদা আলাদা গ্রুপের মাধ্যমে থানা-উপজেলা পরিচালনা করছেন জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতারা।
এদিকে দীর্ঘদিন দলীয় কোন কর্মসূচি না থাকায় জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের ব্যানার দেখা না দিলে ও গতকাল স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪৬ তম প্রতিষ্ঠাবাষির্কীতে ঢাকায় আলাদা আলাদাভাবে বিভক্ত শোডাউন করেন জেলা স্বেচ্ছাসেবক দল। যা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গণে ফের সমালোচনায় উঠে আসে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের রাজনীতি।
ইতিমধ্যে নিয়মিত কমিটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম রফিক গ্রুপের সঙ্গে ছাত্রদল-যুবদলের প্রতিদ্বন্দ্বি গ্রুপের সঙ্গে সংর্ঘষের ঘটনার দেখা মিলে। এদিকে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মাহবুব হোসেনের বিরুদ্ধে নিজ এলাকায় হাসপাতালসহ গার্মেন্টস-মিল-ফ্যাক্টরীতে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দফায় দফায় সংঘর্ষের শেষ নেই। তা ছাড়া সদস্য সচিব সালাউদ্দিনের বিরুদ্ধে কাঁচপুর এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে ঘিরে বাস টার্মিনাল দখল, স্ট্যান্ড দখল, ডেজার দখল, ভূমিদস্যূতাসহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে।
এর আগে বিগত সায়েম-মাহবুব কমিটিতে ও ছিলো না সাংগঠনিক ঐক্য। এদিকে বর্তমানে নেতাদের ভাগ-বাটোয়ারার দ্বন্দ্বে বোনঠাসা স্থানীয় কর্মীরা। এদিকে নিজেদের অভ্যন্তরীন দ্বন্দ্বে গত ৪ বছর যাবৎ পূর্ণাঙ্গ করতে পারেনি জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটি। একই সাথে নেই শক্তিশালী ইউনিট কমিটি। পুরনো সেই দঝাভাঙা ইউনিট কমিটি দিয়েই দল চলছে।
যাকে ঘিরে বাড়ছে বিভক্ত হচ্ছে বাড়ছে না সাংগঠনিক শক্তি। তা ছাড়া বিএনপির অন্যতম এই অঙ্গসংগঠনটিতে ঐক্য না থাকায় উঠছে নানা প্রশ্ন। তা ছাড়া স্বেচ্ছাসেবক দলের বর্তমান আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব কাউকেই আগামী কমিটিতে না রাখারা প্রয়াস করেছেন স্থানীয় কর্মীরা। যাদের দুইজনই বর্তমান সংসদের এমপির লোক। তিন বছর মেয়াদি স্বেচ্ছাসেবক দলের বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে ২০২৫ সালে। সেই মেয়াদউত্তীর্ণ নিয়েই চলছে স্বেচ্ছাসেবক দলের রাজনীতি। যাতে বলা চলে বিতর্কের শেষ নেই।


