Logo
Logo
×

রাজনীতি

থানা-উপজেলার নেতাদের টার্গেট চেয়ারম্যান-কাউন্সিলর

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম

থানা-উপজেলার নেতাদের টার্গেট  চেয়ারম্যান-কাউন্সিলর

থানা-উপজেলার নেতাদের টার্গেট চেয়ারম্যান-কাউন্সিলর

Swapno



নারায়ণগঞ্জের ৭টি থানা ও বন্দর উপজেলায় ক্ষমতাসীন দল বিএনপির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকরা টার্গেট করেছেন চেয়ারম্যান-কাউন্সিলর চেয়ার। বর্তমানে এই চেয়ারের মধু গ্রহণ করতে দৌড়ঝাঁপ চালিয়ে যাচ্ছেন নেতারা। একই সাথে মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি বিভিন্ন্ লবিংয়ে নির্বাচন পর্যন্ত ভাঙা থেকে আটকিয়ে রাখছেন সেই নেতারা। ইতিমধ্যে পুনর্গঠনে বাধা রাখতে জেলা ও মহানগর বিএনপিসহ স্থানীয় এমপি-প্রশাসকদের ম্যানেজে রেখেছেন সেই নেতারা। তা ছাড়া জেলা বিএনপির দুর্বলতায় বর্তমানে জিম্মি দশায় পরিণত হয়েছে থানা ও উপজেলা বিএনপির রাজনীতি। বর্তমানে জেলার নেতাদের অনীহা ভূমিকায় এমপি কেন্দ্রিক চলছে থানা ও উপজেলা বিএনপি।


তা ছাড়া বিগত কমিটিতে বর্তমান জেলা বিএনপির পছন্দের লোক না থাকায় সুবিধা পাচ্ছে না অনেকেই।একই সাথে স্থানীয় এমপির সাথে যোগসাজস করে চালিয়ে যাচ্ছেন ব্যবসা-বাণিজ্যে। আবার অনেকেই হয়ে পরছেন নিস্ক্রিয়। কোন পদেক্ষেপ নিচ্ছে না কেউ। সকলেই নিজেদের সুবিধা নিয়ে ব্যস্ত। সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির কমিটি স্থগিত করার কারণে নেতৃত্ব শূণ্য সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপি। এছাড়া থানা ও উপজেলা কমিটিগুলো কার্যক্রম থাকলেও জেলা বিএনপির অর্ন্তভুক্ত ইউনিট হিসেবে কাজ করছে না স্থানীয় সাংসদের এক প্রকার অর্ন্তভুক্ত ইউনিট হিসেবে কাজ করছে।


এদিকে ফতুল্লা থানায় বিএনপি সাংসদ না থাকায় জেলা বিএনপির পিছনে ছুঁটেন থানা বিএনপির নেতারা।কিন্তু জেলা বিএনপির বিপর্যয় নিয়ে কোন প্রকার মাথা ব্যাথা নেই বর্তমান নেতৃত্বে থাকা নেতাদেরও। ত্রয়োদশ জাতীয় সাংসদ নির্বাচনের পর থেকেই ছন্দে ফিরছে না উপজেলা ও থানা বিএনপির রাজনীতি, সবই যেন জিম্মি দশায়। বর্তমানে আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে সেই জিম্মি দশায় নিজেরাই জিম্মি হয়ে চেয়ারের স্বপ্নে বিভোর রয়েছেন।


একজন বিএনপি নেতা জানিয়েছে, স্থানীয় এমপি বা তার ছেলে কিংবা বিশস্ত চ্যালা-চামুন্ডারা আওয়ামী লীগের সাথে যোগসাজস করলে বাধ্যতা মূলক সেই বিএনপি নেতাকেও আওয়ামী লীগের সাথেই যোগসাজস করে চলতে হয়। তা ছাড়া এলাকার সকল ব্যবসা-বাণিজ্যে সকল নিয়ন্ত্রণ একক সম্ভব হয় না। যা নিয়ে বাড়ছে দ্বন্দ্ব চরমান রয়েছে সংঘর্ষ। তা ছাড়া নতুন কমিটি না হওয়ায় সৃষ্টি হচ্ছে সমস্যা।


সূত্র বলছে, ২০২২ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির সভাপতি করা হয় বর্তমান সোনারগাঁয়ের সাংসদ আজহারুল ইসলাম মান্নানকে এবং সাধারণ সম্পাদক করা হয় মোশারফ হোসেনকে। এদিকে সভাপতি আজহারুল ইসলাম মান্নান সাংসদ হওয়ার পর সংগঠনের দিকে কোন খেয়াল নেই। এদিকে উপজেলা বিএনপির সভাপতি পদ আঁকড়ে দড়ে রাখতে চান এমপি মান্নান। যার কারণে উক্ত কমিটি পরিবর্তনে দুঃসাহস দেখাতে পারছে না জেলা বিএনপি।


কিন্তু ইতিমধ্যেই সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে। ২০২২ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর আড়াইহাজার উপজেলা বিএনপির কমিটি গঠিত হয় যেখানে সভাপতি করা হয় ইউসুফ আলী ভূইয়াকে এবং সাধারণ সম্পাদক করা হয় জুয়েল হোসেনকে। কিন্তু ইতিমধ্যেই আড়াইহাজার উপজেলা বিএনপির মেয়াদোত্তীর্ণ হলেও স্থানীয় সাংসদ নজরুল ইসলাম আজাদ সমর্থিত উপজেলা কমিটি হওয়ায় আড়াইহাজার কমিটির দিকে নজর দিতে ব্যর্থ হচ্ছেন জেলা বিএনপি।


অপরদিকে  ২০২৩ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি মাহফুজুর রহমান হুমায়নকে সভাপতি এবং বাছির উদ্দিন বাচ্চুকে সাধারণ সম্পাদক করে রূপগঞ্জ উপজেলা বিএনপির কমিটি গঠন করা হয়। এদিকে কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ হলেও স্থানীয় সাংসদ এবং জেলা বিএনপির ১নং যুগ্ম আহ্বায়ক দিপু ভূইয়া কেন্দ্রীক কমিটি গঠন হওয়ায় রূপগঞ্জ উপজেলা বিএনপির কমিটি নিয়ে ভাবছে  জেলা বিএনপি। ২০২৩ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মাজেদুল ইসলামকে আহ্বায়ক এবং নাসিক ২নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ইকবাল হোসেনকে সদস্য সচিব করে ৫১সদস্যবিশিষ্ট সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির কমিটি গঠন করা হয়।


পরে সম্মেলনের মাধ্যমে মাজেদুল ইসলাম সভাপতি এবং ইকবাল হোসেন সাধারণ সম্পাদক হোন। তবে পরবর্তীতে সাংবাদিককে মারধরের অভিযোগে ইকবালকে বহিষ্কার করা হলে আবুল হোসেন ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। এরমধ্যে ইকবাল হোসেন বহিষ্কার আদেশ প্রত্যাহার করে আসলেও স্বপদে ফিরতে পারেননি। এরমধ্যেই নির্বাচনকালীন সময়ে ২০২৬ সালের ২২জানুয়ারি সিদ্ধিরগঞ্জ থানা কমিটি স্থগিত করা হয়। ২০২৩ সালের ১৬জুন ফতুল্লা থানা বিএনপিতে শহিদুল ইসলাম টিটুকে সভাপতি এবং বারী ভূইয়াকে সাধারণ সম্পাদক করে ফতুল্লা থানা বিএনপির কমিটি করা হয়। সেসময় ফতুল্লা থানা কমিটি তৎকালীন জেলা বিএনপির সভাপতি মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন বলয় কেন্দ্রীক হিসেবে পরিচালিত হত।


কিন্তু মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন জেলা বিএনপির শীর্ষ পদের ইতি ঘটলে ফতুল্লা থানা বিএনপির নেতারা নতুন অভিভাবক হিসেবে জাহির করে বর্তমান জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মামুন মাহমুদকে। এতে করে স্বাভাবিক ভাবে বুঝা যাচ্ছে ফতুল্লা থানা বিএনপির কমিটি সহসাই ভাঙবে না। ২০২৩ সালের (১৩ জুন) বন্দর উপজেলা বিএনপির কমিপিকে মাজহারুল ইসলাম হিরণকে সভাপতি ও হারুন-অর রশিদ লিটনকে সাধারণ সম্পাদক করে কমিটি দিলে ও সেই কমিটির আর কোন দিশা হয়নি।


 ২০২৩ সালের ( ৯ জুন ) বন্দর থানা বিএনপির সভাপতি করা হয় শাহেন শাহ্ আহম্মেদকে ও সাধারণ সম্পাদক করা হয় নাজমুল হক রানাকে। সেই কমিটিতে আর কোন প্রকারের পদক্ষেপ নেই নেই কোন ভূমিকা। ২০২৩ সালের (২৮ ফেব্রুয়ারি) মাসুদ রানাকে আহ্বায়ক ও এড. এইচএম আনোয়ার প্রধানকে সদস্য সচিব করে কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়। এদিকে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপির বিভিন্ন থানা ও উপজেলার ইউনিট কমিটিগুলো রাজনৈতিক নানা সমীকরণের কারণে মেয়াদোত্তীর্ণ হলেও সহসাই নেতৃত্বের পরিবর্তন ঘটছে না। তা ছাড়া মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিতেই চললে ও বর্তমানে কমিটি বহাল রেখেছেন চেয়ারম্যান কিংবা কাউন্সিলর হতে। এদিকে নির্বাচনের তফসিলের আগেই নিজেদের অবস্থান পাঁকা পোক্ত করছেন অনেকেই।  

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন