প্রার্থীর ছড়াছড়ি বিএনপিতে চাঙা ইসলামী দলগুলো
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রার্থীর ছড়াছড়ি বিএনপিতে চাঙা ইসলামী দলগুলো
তফসিল হয়নি, ভোটের দিনক্ষণও চূড়ান্ত নয়। এরই মধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ইউনিয়ন পরিষদ , উপজেলা পরিষদ, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন ঘিরে সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীদের তৎপরতায় সরগরম হয়ে উঠেছে স্থানীয় রাজনীতি। গণসংযোগ, কর্মীসভা, উঠান বৈঠক, সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নিজেদের প্রার্থিতা জানান দিচ্ছেন একাধিক নেতা। চেয়ারম্যান, কাউন্সিলর, মেয়র পদে বিএনপির একাধিক নেতার সক্রিয়তায় দলটির ভেতরে মনোনয়ন ঘিরে প্রতিযোগিতা তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ঘোষণা ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশও সম্ভাব্য প্রার্থী ও সাংগঠনিক প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে রয়েছে। ফলে তফসিল ঘোষণার আগেই সম্ভাব্য প্রার্থী, দলীয় মনোনয়ন ও ভোটের সমীকরণ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এদিকে বিএনপিকে দ্বন্দ্বে ফেলে এই নির্বাচনে বিএনপির কোনঠাসা করতে ও ইসলামী দলগুলো মাঠে নানা কার্যক্রম চালাচ্ছেন জানিয়েছে সূত্র। তা ছাড়া দিন ঘুরাতে ঘুরাতে আগামী নভেম্বর মাসে তফসিল ঘোষণার সম্ভবনা রয়েছে এমনটাই গুঞ্জন উড়ছে।
ধারনা করা হচ্ছে, দুজনের কেউই জয় ছিনিয়ে আনার মত প্রার্থী নন। তবে নিজেদের রাজনীতি ধরে রাখতে এই পদে কাউকে না কাউকে মনোনয়ন দিবে এনসিপি। ইতিমধ্যে তফসিল ঘোষণা না হলেও মাঠে সক্রিয় ইসলামী নেতারা। এদিকে মাঠে চাঙা থাকতে প্রায় প্রতিনিয়ত কোনো না কোনো কর্মসূচি কিংবা সাংগঠনিক কার্যক্রমে ব্যস্ত সময় পার করছেন। অন্যদিকে বিএনপি নিয়মিত জন্ম দিচ্ছেন একের পর এক বিতর্ক। বিএনপির উপরে ভর নিয়েই সুবিধা নিচ্ছেন জামায়াত। সূত্র জানিয়েছে, ভাগ-বাটোয়ারায় এক হলে ও রাজনৈতিক বিএনপির চোখ ঝাপসা করে এগুচ্ছে জামায়াত। জনগণের আস্থা কুড়াছে দলটি অন্যদিকে বিএনপি পরিণত হচ্ছে অনাস্থায়।
কিছুদিন পূর্বে চাঁদাবাজির অভিযোগে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নানের ছেলে সাবেক যুবদল নেতা খাইরুল ইসলাম সজীবকে আটকের ঘটনা নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বর্তমানে আবার মহানগর কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল চাঁদাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার হয়ে জেল হাজতে রয়েছে। তা ছাড়া বিএনপিকে ঘিরে জনগণের বাড়ছে ক্ষোভ সেই সুবিধা নিতে শান্তনা দিচ্ছেন ইসলামী দলগুলো।
এদিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আমেজ নারায়ণগঞ্জে নিয়ে এসেছে খেলাফত মজলিসে তারা নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের ঐক্যজোটের প্রার্থী হওয়া এবি.এম সিরাজুল মামুনকে সিটি নির্বাচনের প্রার্থী ঘোষণা করেছেন। এদিকে গত ১৯ জুন জামায়াতে ইসলামী নারায়ণগঞ্জ মহানগরীর কর্মী সম্মেলনে হঠাৎ করে সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী হিসেবে আব্দুর জব্বারের হাত তুলে পরিচয় করিয়ে দেন কেন্দ্রীয় আমীর ও বিরোধী দলের প্রধান ড. শফিকুর রহমান। তা ছাড়া এককভাবে নির্বাচনে নামছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) তারা ঘোষণা না করলে ও গুঞ্জন রয়েছে মহানগর এনসিপির আহ্বায়ক শওকত আলীকেই প্রার্থী করা হতে পারে। যার ফলে তিন দলের প্রার্থীদের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বি হিসেবে বিএনপি কাকে মনোনয়ন দিবে এখনই প্রশ্ন উঠেছে।
যদিও এ বিষয়ে বিএনপির হাইকমান্ডের কোন ধরনের তৎপরতা দেখা যায়নি। তবে বিএনপির মনোনয়ন বাগাতে একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশী ইতোমধ্যে হাইকমান্ডের কাছে যেমন ধর্না দিচ্ছেন তেমনি নানা ধরনের তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। যাকে ঘিরে এবার কোন্দল ও বিদ্রোহ ছাড়াই বিএনপি প্রার্থী যাচাইয়ে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছেন। এদিকে সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এড. সাখাওয়াত হোসেন খান। তা ছাড়া বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী না থাকায় মনোনয়ন চাইছেন বর্তমান প্রশাসক সাখাওয়াত, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও ব্যবসায়ী মাসুদুজ্জামান মাসুদ। এদিকে বিএনপি সম্ভাব্য প্রার্থী ঘোষণা না দেওয়ায় বিপাকে বিএনপি কর্মীরা।
একইভাবে নাসিকের ২৭টি ওয়ার্ডসহ ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, সকল স্থানেই নির্বাচনী হওয়া পরার পথে। এদিকে এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিন পর ক্ষমতায় এসেছে বিএনপি। আর এই ক্ষমতায় আসার পর নারায়ণগঞ্জ বিএনপি সহ তাদের অঙ্গ সহযোগি সংগঠনগুলো আরও বেশি নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছেন। কেউ কাউকেই মানতেই চাচ্ছেন না। যেন বিএনপির ও তাদের অঙ্গ সহযোগী সংগঠনে সকলেই নেতা। আর তাদেরকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন না শীর্ষ পদধারী সিনিয়র নেতারা। যাকে ঘিরে চ্যালেঞ্জে বিএনপি। তা ছাড়া শৃঙ্খলা মোতাবেক ইতিমধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ, সিটি কর্পোরেশনে,ওয়ার্ডে একক প্রার্থী ঘোষণা শেষ জামায়াত-খেলাফত মজলিসের।


