জাপার মুখোশে আ.লীগের নাঈম ইকবাল কোথায়?
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
জাপার মুখোশে আ.লীগের নাঈম ইকবাল কোথায়?
নারায়ণগঞ্জ জেলা জাতীয় পার্টি ও সোনারগাঁ উপজেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক আবু নাঈম ইকবাল যখনই যে দল ক্ষমতায় থাকে সে দলের ছাঁয়াতলে যেতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। তারই অংশ হিসেবে আওয়ামীলীগ সরকারের শাসন আমলের প্রথম দিকে আওয়ামীলীগের সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং জেলা পরিষদের সদস্য পদে নির্বাচন করে পরাজিত হন। পরবর্তীতে পুরোপুরো আওয়ামীলীগের রাজনীতি ত্যাগ করে জাপার এমপির সাথে সখ্যতা থাকায় জাপার দলীয় পদে প্রথমে সোনারগাঁ উপজেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক। পরবর্তীতে সম্মেলনের মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জ জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক হন।
এছাড়া সোনারগাঁ পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামীলীগের মেয়র পদ প্রার্থী হয়ে পরাজিত হন। এর পরবর্তী সময়ে বড় ভাই রাব্বির রাজনীতি এবং নিজের রাজনীতিকে টিকিয়ে রাখতে তৎকালীন জাতীয় পার্টির এমপি লিয়াকত হোসেন খোকার সাথে সখ্যতা তৈরী করে তার আস্থাভাজন হয়ে উঠেন। যার কারণে খোকা তাঁকে জেলা ও উপজেলা জাতীয় পার্টিতে শীর্ষ পদ দেন। এছাড়াও পুরো সোনারগাঁয়ের এমপি বিশ্বস্ত হিসেবে শিক্ষা,খাদ্য,ক্রীড়াসহ সরকারী সকল উন্নায়নমূলক কমিটিতে ইকবাল রাখা হয়। এছাড়া এমপি খোকার নামের উপর ভিত্তি করে সোনারগাঁয়ের সকল টেন্ডারবাজি থেকে শুরু করে সকল বরাদ্দে ইকবালের থাবা ছিল। এছাড়া আওয়ামীলীগের সাথে মিলেমিশে মামলা বাণিজ্য,সন্ত্রাস,চাঁদাবাজি,ভূ
এছাড়া সোনারগাঁ উপজেলা পরিষদের সন্নিকটেই ইকবালের বাসভবন হওয়ায় সোনারগাঁ উপজেলার প্রতিটি দপ্তরে প্রভাব বিস্তার করতেন। এভাবে প্রভাব বিস্তার করে নানা অপকর্ম করে বেড়াতেন। সর্বশেষ সোনারগাঁ থেকে জেলা পরিষদের সদস্য পদে নির্বাচিত হন। জেলা পরিষদের সদস্য হয়ে সোনারগাঁ নিয়ে তেমন উন্নায়নমূলক কাজ বা বরাদ্দ এনে কাজ করেননি। তবে ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লিয়াকত হোসেন খোকার ভরাডুবি ঘটলেই এমপি খোকাকে এড়িয়ে চলতে থাকেন। সাবেক এমপি খোকা নারায়ণগঞ্জ জেলাসহ সোনারগাঁয়ে জাপার রাজনীতি নিয়ে সক্রিয় থাকলেও অদৃশ্য কারণে নির্বাচনের পর থেকেই ইকবাল সোনারগাঁয়ের রাজনীতি থেকে গাঁ ডাকা দিতে থাকেন।
কিন্তু পর্দার অন্তরাল থেকে সেসময়ের আওয়ামীলীগের এমপি কায়সারের সাথে হাত মেলাতে তৎপর ছিলেন। যার কারণে জাপার জেলা ও উপজেলার সাধারণ সম্পাদক পদে থাকলেও ডেম কেয়ার মনোভাবে ছিলেন। যার কারণে বন্দরে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের একটি সমাবেশে সাবেক এমপি খোকা ভাওয়াল রিপনকে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করতে বলেন। কিন্তু এখনো কাগজে কলমে ইকবাল নারায়ণগঞ্জ জেলা ও সোনারগাঁ উপজেলার সাধারণ সম্পাদক।
এরমধ্যেই ২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট আওয়ামীলীগের পতন ঘটলে ইকবাল গাঁ ডাকা দেন। পাশাপাশি বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হত্যা এবং হত্যা চেষ্টার একাধিক মামলার আসামী হন। আসামী হওয়ার পরই বিএনপি একাংশের নেতাদের ম্যানেজ করে সোনারগাঁয়ে এখনো নীরবে ইকবাল তার ব্যবসায়িক কার্যক্রম যাতায়াত করে যাচ্ছেন। সেই সাথে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ সকল জায়গায়ই সক্রিয় ইকবাল। তবে সোনারগাঁ উপজেলা প্রশাসনের নাকের ডগায় ইকবালের বাসভবন কিন্তু প্রশাসন ইকবালকে দেখেও না দেখার ভান করছেন এমনটাই প্রতিয়মান হচ্ছে। কারণ প্রশাসন তৎপরতা চালালেই ইকবালকে গ্রেফতারের আওতায় আনতে পারে।


