কথায় কথায় ধমক খান বিএনপির টিপু
যেখানে সেখানে উত্তেজিত হয়ে পরলে ধমক খেলেই স্মৃতিশক্তি ফিরে পান মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব এড. আবু আল ইউসুফ খান টিপু। তার প্রমান ইতিমধ্যে বিএনপির দলীয় একাধিক কর্মসূচিতে লক্ষ্য করা গেছে। বিএনপির একাধিক পোগ্রামেই বিতর্কিত কর্মকাণ্ড তৈরির লক্ষ্যে উত্তেজিত হন টিপু তখনই তাকে ঠান্ডা করতে ধমক দিতে দেখা যায় মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এড. সাখাওয়াত হোসেন খানকে। ইতিমধ্যে কয়েক বার এমন ঘটনা লক্ষ্য করা গেছে।
গতকাল রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকালে চাষাড়া শহীদ মিনারে মহানগর বিএনপির আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্যে দেওয়া নিয়ে উত্তেজিত হৈ-চৈ করলে টিপুকে প্রকাশ্যে ধমক দিতে দেখা যায় সাখাওয়াতকে। এর আগে ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৮ তম শাহাদাৎ বার্ষিকীর দিনে মঞ্চে টিপুরকাণ্ডে তাকে ধমক দিতে দেখা যায় সাখাওয়াতকে। একই সাথে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনে হকার্স উচ্ছেদ নিয়ে টিপুর বিতর্কিত বক্তব্যে দেখে উত্তেজিত হতে দেখা যায় সাখাওয়াতকে।
তা ছাড়া ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে টিপুর এককাণ্ডে সাখাওয়াত টিপুকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন, তুমিতো আওয়ামী লীগ নিয়া ঘুরো শামীম ওসমান ও সেলিম ওসমান করো কেন ? তা ছাড়া ও একাধিক দলীয়-সামাজিক পোগ্রামে টিপুকে ধমক দিতে দেখা যায় সাখাওয়াতকে। তার এমন কর্মকাণ্ডে লজ্জিত মহানগর বিএনপি। একের পর এক বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে মহানগর বিএনপির বিষফোঁড়ায় পরিণত হয়েছেন টিপু। গোটা বিএনপির ইমেজ ক্ষুন্ন করার মিশনে যেন নেমেছেন এই বিএনপি নেতা।
এমনই এক সময় এমপি ফজলুর রহমানের সামনেই মাইক কাড়াকাড়ি নিয়ে টিপুকে ধমক দেন মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এড. সাখাওয়াত হোসেন খান। এর আগে চলতি বছরের গত (৩০ মে) শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৮ তম শাহাদাৎ বাষির্কীর দিনে মঞ্চে উঠেই সারিতে দাড়ানো নিয়ে টিপু ও সাখাওয়াতের মধ্যে তুমুল তর্ক-বিতর্ক লক্ষ্য করা যায়। তখনই টিপুকে ধমক দিয়ে ঠান্ডা করেন সাখাওয়াত। চলতি বছরের (১১ এপ্রিল) সকালে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনে হকার উচ্ছেদের আগের আলোচনা সভায় মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব টিপু তার বক্তব্যে উলট পালট মন্তব্য শুরু করলে মঞ্চে থাকা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক এড. সাখাওয়াত হোসেন খানের সঙ্গে তর্ক বিতর্ক শুরু করেন।
এমতা অবস্থায় টিপুকে প্রকাশ্যে ধমক দিতে যায় সাখাওয়াতকে। চলতি বছরের (১৬ জুন) শহরের ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শণকালে তর্ক-বিতর্কের এক পর্যায়ে সাখাওয়াত প্রকাশ্যে টিপুকে আওয়ামী লীগের শেল্টারদাতা করে হুঙ্কার দেন। একই টিপুকে বলেন, তুমিতো আওয়ামী লীগ নিয়া ঘুরো শামীম ওসমান ও সেলিম ওসমান করো কেন ? তা ছাড়া চলতি মাসে বন্দরে আওয়ামী লীগ বিরোধী এক পোগ্রামে টিপুকে সাখাওয়াতের ধমক লক্ষ্য করা যায়।
তা ছাড়া বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে বিএনপির মতো বড় দলে কালিমা লেপন করছেন খোদ টিপু। নিজেকে ত্যাগী নেতা দাবি করলেও আদতে বিএনপির দুঃসময়ে পাশে ছিলেন না টিপু। দুঃসময়ে বিএনপির নেতাকর্মীরা যখন দিশেহারা ঠিক তখন জাতীয় পার্টির হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশা সিদ্দিকের হাত ধরে যোগ দিয়েছিলেন বাংলাদেশ ন্যাশনালিষ্ট পার্টি (বিএনএফ) এ। সূত্র জানিয়েছে, আওয়ামী লীগের ১৭ বছর যখন বিএনপি নেতাকর্মীরা যখন মামলা-হামলায় দিশেহারা, তখনও দিব্যি নিশ্চিন্তে ঘুরে বেড়িয়েছেন এই টিপু। নারায়ণগঞ্জসহ বিএনপির বাঘা বাঘা নেতাদের নামে যখন শত শত মামলা, তখনও মামলাবিহীন ছিলেন টিপু। যখন এই নিয়ে শরগোল তৈরি হয় তখনই ২০২৪ এর ৫ আগস্টের বছর খানেক আগে থেকে বিএনপির নেতা হিসেবে মামলা খাওয়া শুরু করেন আবু আল ইউসুফ খান টিপু।
তার সম্মূখে মহানগর বিএনপির আহবায়ক এড. সাখাওয়াত হোসেন খানের উপর চটে বসেন মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব এড. আবু আল ইউসুফ খান টিপু প্রকাশ্যে বাকবিতন্ডতা জড়িয়ে পড়েছেন। ঘটনার (ভিডিও) ফুটেজ ভাইরাল হয়। একই সাথে সেদিনই আলীরটেক ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেনকে জিয়াউর রহমানের শাহাদাৎ বার্ষিকীর অনুষ্ঠানে ঘুষি দিয়ে গাল ফুলিয়ে ফেলার অভিযোগ উঠে টিপুর বিরুদ্ধে। সব মিলিয়ে বেপরোয়া হয়ে পরেছেন বিতর্কিত টিপু। সর্বশেষ মহানগর বিএনপির এক পোগ্রামে প্রকাশ্যে ছাতা দিয়ে কর্মীদের উপর নির্যাতন করার অভিযোগ ও রয়েছে এই টিপুর বিরুদ্ধে।


