Logo
Logo
×

রাজনীতি

বিএনপির ছায়ায় থেকে আ.লীগের আস্ফালন

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম

বিএনপির ছায়ায় থেকে আ.লীগের আস্ফালন
Swapno

চলতি বছরের ডিসেম্বরেই দেশ ফিরবেন স্বৈরাচার শেখ হাসিনা। এমন গুঞ্জন তুলেই বিএনপির একাধিক অংশকে ম্যানেজ করে ইতিমধ্যে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের গুপ্ত চোররা দেশ জুড়ে ঝটিকা মিছিলের পর এবার শ্রমিকদের উপর ভর করে নাশকতার পরিকল্পনাকে ঘিরেই ইতিমধ্যে নানা নীলনকশা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। এদিকে গত ২ বছর যাবৎ বিএনপিকে মোটা অংকের টাকা ও ব্যবসা ভাগ এবং সমঝোতা করেই এলাকায় আত্মগোপনে রয়েছে আওয়ামী লীগ। এদিকে শ্রমিক আন্দোলনে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে মামলা-গালিগালাজ করে বর্তমানেও সেই যোগাযোগ অবহৃত রেখেছে বিএনপি নেতারা। যাকে ঘিরে বুঝাই যাচ্ছে বিএনপির ছায়ায় আওয়ামী লীগের আস্ফালন।

এদিকে গত ৩ দিন যাবৎ ফতুল্লার কাঠেরপুল, শিবুমার্কেট, জালকুড়ি এলাকার শিল্পকারখানাগুলোর শ্রমিকরাই দফায় দফায় ঝাঁপিয়ে পরছেন রাজপথে। যে আন্দোলনকে পুঁজি করে আওয়ামী লীগের একাধিক কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। যা ইতিমধ্যে নানা ভিডিও ফুটেজে লক্ষ্য করা গেছে। একই সাথে আওয়ামী লীগের নির্দেশনায় আওয়ামী লীগ কেন্দ্রিক ব্যবসায়ীরাই অর্থায়ন করছে আন্দোলনে এমন সত্যতা ও মিলেছে। তা ছাড়া ও অভিযোগে আরো শোনা গেছে, এহাজারে আন্দোলনকৃত সেলিম ওসমানের ঘনিষ্ঠদের গার্মেন্টস থেকে ঝুট-ওয়েস্টিজ নামান বিএনপি নেতারাই। যাকে ঘিরে বীরদর্পে সেই আ.লীগের নেতা ও ব্যবসায়ীরা এলাকায় ঘুরপাক খায়। তা ছাড়া গত ৫ আগস্টের পর প্রভাবশালী ও ধনী আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ ঘটে কতিপয় বিএনপি, ছাত্রদল, যুবদল সহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতাদের। কেউ মহল্লায়, কেউ ঢাকায়, কিংবা দামী হোটেলে কেউ আবার দেশের বাইরে গিয়ে কন্ট্রাক্ট করে আসে।


বিসিক এলাকায় প্রভাবশালী যুবদল-স্বেচ্ছাসেবক দল নেতারা কেন্দ্রীয় নেতাদের দিয়ে গার্মেন্টস ব্যবসায়ীদের ফোন দিয়ে ভয়-ভীতি দেখিয়ে নিয়ন্ত্রণে নিয়েছেন। একই সাথে নানা সময়ে আওয়ামী লীগের নেতাদের ফোন দিয়ে ও তাদের ব্যবসার জিম্মি নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বিসিকের মতোই কাঠেরপুর, ইপিজেড, সোনারগাঁও বিসিক, সোনারগাঁওয়ের আরো নানা কারখানা, রূপগঞ্জ,আড়াইহাজার, বন্দর, সিদ্ধিরগঞ্জ সব স্থানে একই। বিএনপি-আওয়ামী লীগের হাত বদল হলেও ব্যবসাতে দুইপক্ষেরই নিয়ন্ত্রণ। এদিকে প্রভাবশালী বিএনপির একাধিক নেতারা ওসমান পরিবারের সম্পদ দেখাশোনা ও ক্রয়ের অভিযোগ রয়েছে। তিনিও নিজের এলাকা ছেড়ে অন্যের এলাকার বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে জেলার ‘বড় নেতা’ হতে চান। যেমনটা শামীম ওসমান হয়েছিলেন। জনপ্রতিনিধি ছাড়াও বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল সহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তারা টাকার বিনিময়ে আওয়ামীলীগের নেতাদের সহযোগীতা করেছেন। কেউ নিজের বাড়িতে রেখে দেশ ছাড়তে সহযোগীতা করেছেন কেউবা মামলা-হামলা হবে না এমন গ্যারান্টি দিয়েছে। কেউ কেউ আওয়ামীলীগ নেতাদের ব্যবসা দেখাশোনা করে কামাই করে নিচ্ছেন।


আবার তারাই মাঠে বড় গলায় আওয়ামীলীগের বিরুদ্ধে কড়া বক্তৃতা দিয়ে বাহ্বা কুড়াচ্ছেন। সম্প্রতি ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডে গার্মেন্টস শ্রমিকদের অবরোধে আওয়ামীলীগ ও অঙ্গ সংগঠনের ইন্ধন রয়েছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের অনেক নেতা।  এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির কয়েকজন নেতা জানান, কোন কোন বিএনপি নেতা আওয়ামীলীগের কতিপয় নেতাকে আত্মীয় বানিয়ে ফেলেছে। তারা বলেন, শামীম ওসমানের ঘনিষ্ঠ এক আত্মীয় এখনও শহরে বহাল তবিয়তে আছেন। যিনি ওই আমলে বিভিন্ন পদে ছিলেন এবং প্রভাব খাটাতেন। তাদের মতে, বিএনপির এ আওয়ামীলীগ আত্মীয়তা দলকে ক্ষতিগ্রস্থ করবে। বর্তমানে শ্রমিক আন্দোলনকে ভিন্নখাতে নিয়ে সরকারকে বেকায়দায় ফেলানোর পায়তারায় আটকে পরে গেছেন আওয়ামী লীগ। বর্তমানে নিজেদের পিঠ বাতাতেই দৌড়ঝাঁপ চালিয়ে যাচ্ছেন সংগঠনটির নেতারা।


এদিকে গোয়েন্দা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্তে উঠে এসেছে, আওয়ামী লীগের পেছনে নেপথ্যে রয়েছেন দলটির পলাতক ও আত্মগোপনে থাকা কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা। মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের নগদ অর্থ দিয়ে সংগঠিত করে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা চলছে যাকে ঘিরে আওয়াজ উঠছে চব্বিশের পর থেকেই আওয়ামী লীগকে ছায়া দিয়ে প্রতিষ্ঠিত করছে বিএনপি। তা ছাড়া আওয়ামী লীগকে পাশে নিয়ে করছেন ব্যবসা-বাণিজ্যে, তা ছাড়া তাদের নাশকতা করার প্রস্তুতিতে ও সহযোগীতা করছেন তারা এমন অভিযোগ চাউর খাচ্ছে। বর্তমানে আওয়ামী লীগের পেছনে কারা সেই তদন্ত আসছে।

সূত্র জানায়, নারায়ণগঞ্জে বর্তমানে আওয়ামী লীগের ব্যবসা বিএনপির নিয়ন্ত্রণে এমনকি সব স্থান থেকেই আওয়ামী লীগ পাচ্ছেন মোটা অংকের ভাগ। ইতিমধ্যে তথ্য মোতাবেক সিদ্ধিরগঞ্জের আদমজী ইপিজেডে আওয়ামী লীগের সাবেক নেতাদের লাইসেন্স দিয়ে ব্যবসাসহ আওয়ামী লীগের নেতাদের মোটা অংকের পার্সেন্টিজ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একইভাবে বিসিকসহ ফতুল্লার সকল সেক্টরে আওয়ামী লীগের ব্যবসা-বাণিজ্যে দেখে শুনে রাখাসহ মাসে মোটা অংকের পাসের্ন্টিজ পৌঁছে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে শুধুই গার্মেন্টস সেক্টরগুলোতেই নয় সর্বকক্ষেত্রেই আওয়ামী লীগের পিছনে বিএনপির ছায়া, বিএনপির পাশে আওয়ামী লীগ।


এগুলোই বর্তমানে রাজনীতিতে নৃত্যদিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে। তা ছাড়া অস্থিরতা সৃষ্টির জন্য এ ধরনের কার্যক্রমের নেপথ্য অর্থায়ন ও ইন্ধনদাতা হিসাবে পতিত সরকারের এমন কয়েকজনের নাম উঠে এসেছে যাদের কেউ আছেন জেলে, কেউ দেশে আত্মগোপনে, কেউ বিদেশে থেকে অর্থায়ন করছেন। এই তালিকায় রয়েছেন সাবেক সাংসদ শামীম ওসমান, তার পুত্র অয়ন ওসমান, ভাতিজা আজমেরী ওসমান, সেলিম ওসমান। তা ছাড়া যুবলীগের সাজনু ভূঁইয়া, আব্দুল হাই, সাফায়েত ইসলাম সানিসহ আরো অনেকেই নানাভাবে অর্থায়ন নির্দেশনা ও শেল্টার দিচ্ছেন। তা ছাড়া কিছুদিন পূর্বে জেলা ও মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের কমিটি দেওয়া হয়েছে বিএনপির সাথে ম্যানেজ করে। একই সাথে জেলা ছাত্রলীগ, জেলা ও মহানগর যুবলীগের কমিটি দেওয়ার পায়তারা করছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্ত ও গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে এ তথ্য বেরিয়ে এসেছে। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের। বর্তমানে আওয়ামী লীগের আস্ফালনের পেছনে রয়েছে বিএনপির হাত।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন